behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

সংসদের দুই বছর: সরকার ও বিরোধী দল দু’জনে দু’জনার

এমরান হোসাইন শেখ০০:৩৯, জানুয়ারি ২৯, ২০১৬

সংসদদশম জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় বর্ষপূতি শুক্রবার। ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি চলতি সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। দুই বছরের এই সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে সহাবস্থান লক্ষ্য করা গেছে।
এ সময় প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি সরকারের সমালোচনার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি প্রশংসা করেছে। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতাসহ সরকারি দলও প্রশংসা করেছে বিরোধী দলের ভূমিকার। বিরোধী দল দীর্ঘদিনের সংসদ বর্জনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসেছে। তবে তারা কার্যকর বিরোধী দল হয়ে উঠতে পারেনি।
গত দুই বছরে সংসদের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আইন প্রণয়ণসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে বিরোধী দল ছিলো ‍অনেকটা নিষ্ক্রিয়। দুই বছরে তারা একটি মুলতবি প্রস্তাবও উত্থাপন করতে পারেনি। বরং তাদের চেয়ে ১৬ জন স্বতন্ত্র এমপিকে দেখা গেছে অনেক বেশি সক্রিয় ও প্রাণবন্ত।
হাজী মো. সেলিম, রুস্তম আলী ফরাজী ও তাহজীব আলম সিদ্দিকীসহ বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের সমালোচনা ক​রে সংসদকে জিইয়ে রেখেছেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবারের বৈঠকেও রুস্তম আলী ফরাজী নিম্নমান ও ভুলেভরা পাঠ্যবই নিয়ে কঠোর সমালোচনা  করেন।
বিএনপিবিহীন বর্তমান সংসদের নবম অধিবেশন পর্যন্ত ১৬৮ কার্যদিবসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে উপস্থিত ছিলেন ১৪৩ দিন। বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ ছিলেন ৯৬ দিন।

১৯৯০ সালের পর পঞ্চম সংসদ থেকে বিরোধী দলের সংসদ বর্জনের সংস্কৃতি শুরু হয়। অষ্টম সংসদ পর্যন্ত ​এই ধারা অব্যাহত ছিল। এ সময় আওয়ামী লীগ বা বিএনপি যারাই সংসদে বিরোধী দল ছিলো তারাই সংসদ বর্জন করেছে।

দশম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় তারা এখন সংসদের বাইরে। সংসদে বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করছে জাতীয় পার্টি। গত দুই বছরে বিরোধী দল বিভিন্ন কারণে একাধিকবার ওয়াকআউট করেছে। তবে প্রতিবারই বর্জনের কিছুক্ষণ পরই তারা সংসদে ফিরে এসেছে। এর বাইরে গত দুই বছরে সরকারি ও বিরোধী দলকে কোনও বিষয়ে বড় ধরনের বিতর্কে জড়াতে দেখা যায়নি। বরং বিরোধী দল ও সরকারি দল উভয়ই মিলে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির সমালোচনা করে সময় কাটিয়েছে। পাশাপাশি দুই দলই সরকারের ইতিবাচক কার্যক্রমের প্রশংসা করেছে।

এদিকে, বিরোধী দলে থাকলেও জাতীয় পার্টির একাধিক সংসদ সদস্য সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য হওয়ায় সংসদে তাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ রুস্তম আলী ফরাজী ও হাজী সেলিমসহ আরও কয়েকজন সংসদে একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছেন। তারা জাপাকে কাগুজে বিরোধী দল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। কাজী ফিরোজ রশীদ, ফখরুল ইমামসহ জাতীয় পার্টির অনেকেই সংসদে একই মন্তব্য করেছেন। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদও সংসদের বাইরে একাধিকবার বলেছেন, ‘দেশের মানুষ তাদের বিরোধী দল মনে করে না।’

অষ্টম অধিবেশন পর্যন্ত বর্তমান সংসদে ৪৮টি আইন পাস হয়েছে। এসব বিলে পাস নিয়ে সরকারি দলকে কখনও প্রধান বিরোধী দলের আপত্তির মুখে পড়তে হয়নি। এক্ষেত্রে তাদের এমপিদের অংশগ্রহণও ছিল নগণ্য। এই দলের ফখরুল ইমাম নিয়মিতভাবে নোটিশ দিয়ে থাকেন। হাতেগোনা কয়েকটি বিলের ওপর নোটিশ দিয়েছেন এম এ হান্নান, রওশন আরা মান্নান, নুরুল ইসলাম ওমর, মাহজাবীন মোরশেদ, সেলিম উদ্দিন,নুরুল ইসলাম ও পীর ফজলুর রহমান। বাকিরা ছিলেন পুরোপুরি নিষ্ক্রিয়। কেউ কেউ নোটিশ দিয়ে সংসদেই উপস্থিত থাকেননি।

২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংসদে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন বিল পাস হওয়ার সময়ে জাতীয় পার্টি প্রথমে বিরোধিতা করার সিদ্ধান্ত নিলেও শেষ পর্যন্ত বাধা না দিয়ে উল্টো সমর্থনই জানিয়েছিল। বিল নিয়ে সরকারকে অনেক বেশি বাধার মুখে পড়তে হয়েছে স্বতন্ত্র এমপিদের থেকে। হাজী সেলিম ও রুস্তম আলী ফরাজী প্রতিটি বিলের ওপরই ধারাবাহিকভাবে নোটিশ দিয়ে গেছেন। এদের সমর্থনে কমবেশি নোটিশ দিয়েছেন অপর দুই স্বতন্ত্র সংসদ আবদুল মতিন ও তাহজীব আলম সিদ্দিকী।

দুই বছরে ৫০টি সংসদীয় কমিটির ৬৩৫টি ও উপকমিটির ১১০টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সবচেয়ে বেশি ৪০টি বৈঠক করেছে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। সবচেয়ে কম মাত্র একটি বৈঠক করেছে পিটিশন কমিটি। বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি, কার্যপ্রণালী বিধি সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির কোনও বৈঠকই হয়নি।

মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বৈঠক করেছে আইন মন্ত্রণালয় ২৩টি, নৌ-পরিবহন ২১টি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা ২১টি, মহিলা ও শিশু ১৯টি, পরিকল্পনা ১৯টি, রেলপথ ১৮টি। কম বৈঠক করেছে স্বাস্থ্য ৭টি, পররাষ্ট্র ৮টি, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ৯টি, বিজ্ঞান ​ও প্রযুক্তি ৯টি, প্রবাসী কল্যাণ ৯টি, শ্রম ও কর্মসংস্থান ১০টি, গৃহায়ণ ১০টি, স্বরাষ্ট্র ১০টি, স্থানীয় সরকার ১০টি, খাদ্য ১১টি, সংস্কৃতি ১১টি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ ১১টি, শিল্প ১১টি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ১১টি।

সংসদের দুই বছরে বিরোধী হিসেবে জাতীয় পার্টি থেকে একটি মুলতবি প্রস্তাবও উত্থাপন করা হয়নি। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী সেলিম ১২টি ও রুস্তম আলী ফরাজী ৩টি মুলতবি প্রস্তাব জমা দিয়েছেন। মুলতবির বিষয় ছিল জলবায়ু প্রকল্পে লুটপাট, বিশ্ববাজারে তেলে দাম কমলেও বাংলাদেশে না কমানো, গ্যাস সংকট, পেট্রল বোমা মেরে নির্বিচারে মানুষ হত্যা, সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে তেলের ট্যাঙ্কার ডুবি ইত্যাদি বিষয়ে। তবে যথাযথ মনে না করায় ​স্পিকার প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করেননি। অবশ্য বরাবরই মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে সংসদে আলোচনার বিষয়টি নাকচ হয়ে আসছে।

দুই বছরে আটটি বিষয়ে সাধারণ আলোচনা হয়েছে। ভারতের সংসদে বাংলাদেশ ও ভারতের স্থল সীমান্ত চুক্তি পাস, বাংলাদেশের বংশোদ্ভূত রুশনারা আলী, রূপা হক ও টিউলিপ রেজওয়ান সিদ্দিকের ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্স–এর সদস্য নির্বাচিত হওয়া, বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ, ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের গবেষণায় (আইআরআই) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকারের জনসমর্থন  বৃদ্ধি, চ্যাম্পিয়ন অব দি আর্থ ২০১৫ পুরস্কার পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে গত বছর আলোচনা হয়। এসব আলোচনায় ১৪২ জন্য সংসদ সদস্য ১৩ ঘণ্টা ১৭ মিনিট বক্তব্য রাখেন।

এর আগে ২০১৪ সালে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানিয়ে সাবের হোসেন চৌধুরী ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) প্রেসিডেন্ট ও ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সি​পিএ’র নির্বাহী কমিটির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হওয়া এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাউথ সাউথ কো–অপারেশন ভিশনারি অ্যাওয়ার্ড পাওয়ায় ধন্যবাদ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয় সংসদে এবং আলোচনাও হয়। এসব আলোচনায় সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই অংশ নেন।

/এএইচএস/এমএসএম/

/আপ-এএ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ