রাজনৈতিক দল হিসেবে গণসংহতি আন্দোলনের আত্মপ্রকাশ

Send
সালমান তারেক শাকিল
প্রকাশিত : ০২:১৬, জানুয়ারি ৩০, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:১৭, জানুয়ারি ৩০, ২০১৬

গণসংহতি আন্দোলনমুক্তিযুদ্ধে জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং গণতান্ত্রিক,অসাম্প্রদায়িক ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে রাজনৈতিক দল আকারে আত্মপ্রকাশ করেছে গণসংহতি আন্দোলন। শুক্রবার সকালে সদস্য সংগ্রহের মধ্যদিয়ে সংগঠনটি দল আকারে হাজির হয়েছে। এসময় কয়েকজন নেতাকর্মী সদস্য ফরম পূরণ করে গণসংহতিতে যোগ দেন।

জানা গেছে,গত বছরের ২৭, ২৮ ও ২৯ নভেম্বর তৃতীয় জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তির নেতৃত্বশীল দল হিসেবে ‘গণসংহতি আন্দোলন’ রাজনৈতিক দল আকারে আত্মপ্রকাশ করার সিদ্ধান্ত  সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে,সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন গঠনতন্ত্র অনুসারে কেন্দ্র থেকে শুরু করে দলের সঙ্গে ইতিমধ্যেই যুক্ত সর্বস্তরের সদস্যদের নতুন করে সদস্যপদ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি সারা দেশে বিভিন্ন জেলা,থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সদস্য সংগ্রহ,কমিটি গঠন ও শাখা সম্মেলনের কাজ সম্পন্ন করবে গণসংহতি আন্দোলন।

জানা গেছে,আগামী ২৭-২৮ মে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য বিশেষ জাতীয় সাংগঠনিক প্রতিনিধি সম্মেলনে দলের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচনে এবং দলের নাম ও রাজনৈতিক দলিলপত্র চূড়ান্ত করা হবে। এজন্য একটি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিকে এই কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও সাংগঠনিক সম্মেলন আয়োজনের দায়িত্ব   দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‌‌প্রস্তুতি কমিটির পক্ষ থেকে এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমরা আজ কেন্দ্রীয়ভাবে সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি উদ্বোধন ঘোষণা করছি। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জেলা,থানা,ইউনিয়ন পর্যায়েও এই কার্যক্রম শুরু হবে। সারা দেশে এই সময়কালে অন্তপক্ষে ৫০ হাজার সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্য আমরা স্থির করেছি।

গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের ব্যাখ্যা করে জোনায়েদ সাকি বলেন,জনগণ তাদের এই ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করতে পারেন তার নিজস্ব শক্তি ঘনীভূত প্রকাশ দল গড়ে তুলে। গণসংহতি আন্দোলন তার প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই দল হিসাবে নিজেকে গড়ে তুলতে সংগ্রাম পরিচালনা করে যাচ্ছে।

সাকি বলেন,সে স্বপ্ন পূরণ করতে যে দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রয়োজন তার প্রতিটি ধাপে জনগণের শক্তিকে সংগঠিত করে সংগ্রাম গড়ে তুলতে চাই আমরা।

গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় পরিচালনা কমিটির সদস্য প্রাবন্ধিক-সাংবাদিক ফিরোজ আহমেদ বলেন,২০০২ সালের ২৯ আগস্ট গণসংহতি আন্দোলন বেশ কয়েকটি গণসংগঠনকে  নিয়ে একটি জাতীয় রাজনৈতিক প্লাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করে। এই গণসংগঠনগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন,বাংলাদেশ বহুমুখী শ্রমজীবী ও হকার সমিতি,নারী সংহতি, বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি,প্রতিবেশ আন্দোলন ও বাংলাদেশ কৃষক-মজুর সংহতি তাদের স্ব স্ব ক্ষেত্রে লড়াই-সংগ্রামে নেতৃত্বমূলক সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় পরিচালনা কমিটির সিনিয়র সদস্য এ্যাডভোকেট আবদুস সালাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধে জনগণের আকাঙ্ক্ষার রাষ্ট্র ও সংবিধান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি অসাম্প্রদায়িক, সার্বভৌম গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ নিয়ে গণসংহতি আন্দোলন বাংলাদেশের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সকল আন্দোলন সংগ্রামে সাধ্যমত ভূমিকা পালন করেছে।

গণসংহতিসূত্র জানায়, তিন মাস সদস্য সংগ্রহের পর জেলা-উপজেলা কমিটি গঠন করার পরই নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করবে সংগঠনটি। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেই সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেবে দলটি। এর আগে বিগত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থীতা করেছিলেন দলটির প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি।

এদিকে শুক্রবার দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নোত্তর পর্বে জোনায়েদ সাকি বলেন, বাংলাদেশে একটি উৎপাদনমুখী,জবাবদিহিতা সম্পন্ন এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে দেশের স্বার্থ রক্ষার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে গণসংহতি আন্দোলন তার ভূমিকা পালন করবে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে জোনায়েদ সাকি গণসংহতি আন্দোলনের সদস্যপদ পূরণ করে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এরপর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যবৃন্দসহ উপস্থিত বিভিন্ন শাখার নেতা-কর্মী ও সদস্যবৃন্দ সদস্যপদ পূরণ করেন। ধারাবাহিকভাবে সকল আঞ্চলিক শাখাতেও এই কর্মসূচি পালন করা হবে।

/এসটিএস/ এমএসএম/

/আপ: আরএ/

লাইভ

টপ