behind the news
IPDC  ad on bangla Tribune
Vision  ad on bangla Tribune

জিয়া বিশ্বাসঘাতক ছিলেন: হানিফ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট১৮:০৭, ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০১৬

মাহবুব উল আলম হানিফবিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পাকিস্তানি ভাবধারায় বিশ্বাসী ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। তিনি বলেন, ‘জিয়া মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে নয়, বিশ্বাসঘাতক ছিলেন।’
সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমেদ মিলনায়তনে ‘বীরাঙ্গনার আত্মকথন’ প্রামাণ্য গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন হানিফ।
প্রকাশনা অনুষ্ঠানে হানিফ আরও বলেন, ‘যুদ্ধ চলাকালে জিয়া পাকিস্তানের কর্নেল আসলামের সঙ্গে চিঠি আদান-প্রদান করতেন। আসলাম তাকে লিখেছিলেন, তোমার কাজ ভালো চলছে, চালিয়ে যাও। কখন একজন শত্রু এভাবে চিঠি লেখে? আসলে জিয়া ছিলেন পাকিস্তানের এজেন্ট।’
দালাল আইন বন্ধ করে রাজাকারদের রক্ষা করা, গোলাম আজমকে নাগরিকত্ব দেওয়া, জামায়াতের রাজনীতি বৈধ করা ও বীরাঙ্গনাদের পুনর্বাসন কেন্দ্র বন্ধে জিয়ার ভূমিকার সমালোচনা করেন হানিফ। তিনি বলেন, ‘যাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই ছিল তিনি তাদের পুনর্বাসিত করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে তিনি স্বাধীনতাবিরোধী ও পাকিস্তানি ভাবধারায় বিশ্বাসী।’
হানিফ বলেছেন, ‘পাকিস্তানি দূতাবাস বাংলাদেশবিরোধী অপকর্মে লিপ্ত। বাংলাদেশের জনগণ নরপশুদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায় না। তবে আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী যেটুকু সম্পর্ক না রাখলেই নয় কেবল সেটুকু সম্পর্কই রয়েছে তাদের সঙ্গে।

২০ বীরাঙ্গনার আত্মকথা নিয়ে প্রকাশিত একাত্তর প্রকশনীর এই বইটির লেখক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুস সালাম ও শিল্পী বেগম। বইটির প্রকাশনার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে হানিফ বলেন, গত ৪৪ বছরে বীরাঙ্গনারা অবহেলিত ছিলেন। তিনি বলেন, খালেদাও পাকিস্তানি ক্যান্টেনমেন্টে যুদ্ধের সময় আরামে দিন কাটিয়েছেন। তিনি যুদ্ধের পক্ষে ছিলেন না, তাই ৪৪ বছর পর তিনি শহীদদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এটি মুখ ফসকে বলেননি, সুদুরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ এটি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রন্থটিতে কোনওরকম পরিমার্জনা ছাড়াই বীরাঙ্গনাদের ভেতরের কথা তুলে আনা হয়েছে। এটিই বইটির শক্তিশালী দিক। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা চলছে। এক্ষেত্রে নায়ককে খলনায়ক, আর যুদ্ধে যার সামান্য অবদান তাকে মূল নায়ক বানানোর চেষ্টা চলছে। ফলে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবকে দ্বিধাগ্রস্ত করার যে অপচেষ্টা, তা রোধ করতে বইটি ভূমিকা রাখবে।’

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় আমরা বীরাঙ্গনাদের রাখিনি। পুরুষতান্ত্রিকতার কারণে তাদের আমরা মর্যাদা দেইনি। এ থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা ৪৪ বছরে তাদের জন্য কী করেছি? শোকসভা, আলোচনায় স্মৃতিকাতর হয়েছি। কিন্তু তাদের জীবনের জন্য কিছুই করতে পারিনি।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফীন সিদ্দিকী। আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, অর্থনীতিবিদ এমএম আকাশ।

/পিএইচসি/এফএস/ 

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

IPDC  ad on bangla Tribune
টপ