ইউপি প্রার্থী তালিকা দিতে তৃর্ণমূলকে কেন্দ্রীয় আ’লীগের নির্দেশ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:০৪, ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:০৭, ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০১৬

মাহবুব উল আলম হানিফইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য দলের পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তৃণমূল থেকে প্রার্থী তালিকা কেন্দ্রে পাঠানোর জন্য নির্দেশনা দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
সোমবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের এক যৌথসভা শেষে দলটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
হানিফ বলেন, আমরা প্রত্যেকটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদেরকে দ্রুত বৈঠক করে প্রার্থী বাছাই তালিকা দলীয় প্যাডে পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। ইতিপূর্বে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা করবেন। তিনি বলেন, আমরা প্রত্যেকটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদেরকে দ্রুত বৈঠক করে প্রার্থী বাছাই করে দলের প্যাডে পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
ইউনিয়ন পরিষদের প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে যেসব উপজেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গত পৌরনির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কার্যক্রম করেছে তারা এই বাছাই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে না বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হবেন কিংবা দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড করবেন, তাদের বিরুদ্ধে দলের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। আমরা আশা করি, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের কাঙ্ক্ষিত বিজয় আসবে।
পৌরসভা নির্বাচনে দলের বিদ্রোহীদের প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, পৌরনির্বাচনে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল, তাদের দল থেকে প্রাথমিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের চূড়ান্ত বহিষ্কার কেন করা হবে না এজন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে দলের যেসব নেতা অবস্থান নিয়েছিল তাদের তালিকা করতে সাংগঠনিক সম্পাদকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সে তালিকা কেন্দ্রে জমা দেবে। দলের আগামী কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর দায়ভার কে নিবে?

সভায় সাম্প্রতিক সময়ে এক টেলিভিশন টকশোতে ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের বক্তব্য নিয়ে দলীয় ফোরামে এখনও আলোচনা হয়নি জানিয়ে সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এ ঘটনার আট বছর পর একটি দৈনিকের সম্পাদক এ বিষয়টি স্বীকার করলেন, তারা এটা ভুল করেছেন। কিন্তু এ ভুলের জন্য দেশবাসীর যে ক্ষতি হয়েছে, শেখ হাসিনাকে কারাগারে নির্যাতিত হতে হয়েছিল। সারাবিশ্বের কাছে শেখ হাসিনার সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছিল ও অপমানিত হতে হয়েছিল। তার দায়ভার কে নেবে? এর দায়ভার এড়ানোর সুযোগ নেই।

হানিফ বলেন, আমরা আশা করছি তিনি তার ভুল স্বীকার করেছেন। তাই ওনার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে এবং রাজনৈতিকভাবে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা আপনাদের কাছে পরে জানাতে পারবো। তবে আমরা মনে করি, এমন অনৈতিক কাজ করে সম্পাদক সাহেবরা প্রমাণ করেছেন যে, তারা অনেক সময় এ দেশের সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে অংশীদারিত্ব ছিলেন। তাই আমরা সরকারের কাছে দাবি করবো- এসব ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির অপর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দিপু মনি, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, বীর বাহাদুর, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ড. আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।

যৌথসভায় সভাপতিত্ব করেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

/পিএইচসি/ এএইচ /

লাইভ

টপ