behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

ভিশন ২০৩০ ও চেয়ারপারসনের ক্ষমতা নিয়ে স্ববিরোধী নীতি বিএনপির

সালমান তারেক শাকিল০২:০৪, মার্চ ২৩, ২০১৬

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া৬ষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে ঘোষিত ভিশন-২০৩০ প্রাথমিক খসড়া পরিকল্পনায় ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণে বিশ্বাসী হিসেবে দাবি করা হলেও গঠনতন্ত্রে চেয়ারপারসনের ক্ষমতা আরও বাড়িয়েছে বিএনপি। বিষয়টিকে স্ববিরোধী ও রাজনৈতিক প্রতারণা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, নিজ দলে গণতান্ত্রিক চর্চা বন্ধ করে দেশে গণতন্ত্র আনার রূপকল্প দেওয়া ক্ষমতায় যাওয়ার কৌশল ছাড়া কিছুই নয়। তবে বিএনপি নেতারা বলছেন, দলের একক ক্ষমতা থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম দেয়। তাই দলে চেয়ারপারসনের ক্ষমতা বাড়ানো হলেও নেতিবাচক কিছু হওয়ার সম্ভাবনা কম।
শনিবার বিএনপির ৬ষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে নিজের বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোর অভিজ্ঞতায় দেশবাসী গভীরভাবে উপলব্ধি করছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর একক নির্বাহী ক্ষমতা সংসদীয় সরকারের আবরণে একটি স্বৈরাচারী একনায়কতান্ত্রিক শাসনের জন্ম দিয়েছে। এই অবস্থার অবসানকল্পে প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতার ক্ষেত্রে ভারসাম্য আনা হবে। বিএনপি ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে বিশ্বাসী। সেই লক্ষ্যে সকল স্তরে ক্ষমতার ব্যাপক বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের দায়িত্ব, কর্তব্য ও ক্ষমতা চিহ্নিত করে সুশাসনের সহায়ক পরিবেশকে কাঙ্খিত মানে উন্নীত করা হবে।’
ভিশন ২০৩০ রূপকল্প এমন ভাষায় হাজির করলেও দলের ক্ষমতায় ভারসাম্যের বদলে ক্ষমতা আরও নিরঙ্কুশ করেছেন খালেদা জিয়া। শনিবার সমাপ্ত জাতীয় সম্মেলনে দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে বিএনপির চেয়ারপারসনের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব আরও বাড়ানো হয়েছে।
জানতে চাইলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক যতীন সরকার বলেন, এটাই তো বাংলাদেশের বড় দলগুলোর গণতান্ত্রিক চেহারা। নিজেরা গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবতা হচ্ছে তাদের মতো দু’চারজনের কাছেই দল ও দেশ কুক্ষিগত থাকে। ভিশন ২০৩০ ফাঁকাবুলি। এসবের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে ভোলানো।
বিএনপির সর্বশেষ গঠনতন্ত্রে বলা ছিল দলের চেয়ারম্যান প্রয়োজন মনে করলে জাতীয় নির্বাহী কমিটি, জাতীয় স্থায়ী কমিটি, বিষয় কমিটি এবং চেয়ারম্যানের মনোনীত অন্যান্য কমিটি বাতিল করতে পারেন। সম্মেলনে গৃহীত গঠনতন্ত্রে কমিটি বাতিল করার পাশাপাশি তা পুনর্গঠনের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। এতে করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি করতে পারবেন।গঠনতন্ত্রে সর্বশেষ সংশোধনীর আগ পর্যন্ত কমিটি পুনর্গঠন করার একক ক্ষমতা বিএনপি-প্রধানের ছিল না। তবে চেয়ারপারসন জাতীয় স্থায়ী কমিটি ও নির্বাহী কমিটির শূন্য পদ পূরণ করতে পারতেন।
তবে বিষয়টি ‘স্ববিরোধী নয়’ বলেই দাবি করেছেন বিএনপিপন্থী অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই ভিসি বলেন, ভিশন ২০৩০ বলা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা প্রসঙ্গে। সংবিধানে তার ক্ষমতা এমনভাবে দেওয়া হয়েছে বর্তমান সময়ে সেটির অপব্যবহার হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। ৫৫ ধারা প্রধানমন্ত্রীকে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দিয়েছে। আমরা সেটির পরিবর্তন চাই।
কারণ হিসেবে বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এমাজউদ্দীন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভোগ করতে হয় ১৬ কোটি মানুষকে। আর বিএনপি চেয়ারপারসনের ক্ষমতা দলীয় অভ্যন্তরে। আর তিনি নির্বাহী কর্মকর্তাদের নিয়েই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এর ব্যতয় ঘটেনি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর তো দেশের হয়ে সিদ্ধান্ত দেন।এক্ষেত্রে ধরা যাক,আমরা ভারতের সঙ্গে দরকষাকষি করতে পারি না। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য থাকলে তাকে দেশের মানুষসহ অন্যদের কথা শুনতে হয়। আর সেটি না থাকলে তিনি একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

যতীন সরকার মনে করেন, দলের অভ্যন্তরে যিনি গণতন্ত্র চর্চা করেন না, তিনি আবার ক্ষমতায় গেলে কীভাবে করবেন? বিএনপি নেতারা বলছেন, ভিশন ২০৩০ হচ্ছে বাংলাদেশকে গণতন্ত্রের পথে ফেরাবার উপায়। খালেদা জিয়ার এই রূপকল্প আদতে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে কার্যকরি হতে পারে। তবে ক্ষমতা চর্চার ক্ষেত্রে দল ও দেশ, দুটোই ভিন্ন।
আবার কোনও কোনও নেতা বলছেন,এই এককেন্দ্রীক ক্ষমতা বাড়ানোর মূল কারণ হচ্ছে,বিএনপিকে ভাঙা থেকে রক্ষা করা। তারেক রহমানের ক্ষমতার পরিধি আরও সুনিশ্চিত করা। নতুন গঠনতন্ত্রের আলোকে চেয়ারপারসনের সব ক্ষমতাই সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ভোগ করতে পারবেন তার অনুপস্থিতিতে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন,গঠনতান্ত্রিকভাবে যার কমিটি বাতিলের ক্ষমতা থাকে, তার কমিটি পুনর্গঠন করারও ক্ষমতা থাকা উচিত। এটি না হলে শূন্যতা তৈরি হওয়ার শঙ্কা থাকে। এ কারণেই সংশোধনী আনা হয়েছে।
বিএনপির বিগত গঠনতন্ত্রে চেয়ারম্যানের ক্ষমতা সম্পর্কে বলা ছিল, ‘দলের প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে চেয়ারম্যান দলের সর্বময় কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ, তদারক ও সমন্বয় সাধন করবেন এবং তদুদ্দেশ্যে জাতীয় কাউন্সিল, জাতীয় স্থায়ী কমিটি, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, বিষয় কমিটিসমূহ এবং চেয়ারম্যান মনোনীত অন্য কমিটিসমূহের ওপর কর্তৃত্ব করবেন এবং তাদের কার্যাবলীর নিয়ন্ত্রণ,তদারক ও সমন্বয় সাধন করবেন।’
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইনাম আহমেদ চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্র হলেও প্রেক্ষিত বুঝতে হবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা এই নির্মাণের পক্ষে। আর গঠনতান্ত্রিকভাবে যাকে ভাঙার ক্ষমতা দেওয়া থাকে, তাকে গড়ার অনুমতি কেন দেওয়া হবে না?
এতে দুই নীতি হয়ে গেল না-উত্তরে ইনাম আহমেদ চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্র আর দল এক না। রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত যাকে নিতে হয়,তাকে অনেক নৈর্ব্যক্তিক হতে হয়। কিন্তু যখন কারও হাতে মহাক্ষমতা দেওয়া হয়, তিনি তখন তার নিজের অবস্থান ভুলতে থাকেন। আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রে যেটি হয়েছে।এ কারণে ভিশন ২০৩০ একটি নতুন আশার সঞ্চার করেছে জনমনে।
নাম প্রকাশে স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, জিয়া পরিবার ছাড়া বিএনপি হবে না। এ কারণে সব ক্ষমতা এ পরিবারের হাতে থাকলেই দলের জন্য শুভ। আর অন্যের হাতে গেলে ভাঙার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

 

 

এসটিএস/এমএসএম

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ