Vision  ad on bangla Tribune

ক্ষমতার দ্বন্দ্বে দু’ভাগ হলো ঢাকার হেফাজত

চৌধুরী আকবর হোসেন০৯:০৩, মার্চ ২৪, ২০১৬


হেফাজতে-ইসলামআধিপত্য বিস্তারের বিরোধে দুই ভাগ হয়ে গেলো হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর কমিটি। এই বিভক্তির মধ্যদিয়ে প্রায় ‍দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা দ্বন্দ্বের অবসান ঘটেছে । শীঘ্রই ঢাকা মহানগর উ্ত্তর ও দক্ষিণ এই দুই ভাগে বিভক্ত করে নতুন কমিটির ঘোষণা দেওয়া হবে। বিলুপ্ত হবে ঢাকা মহানগরের একক কমিটি। হেফাজত সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, অবিভক্ত ঢাকা মহানগর হেফাজতের আহবায়ক ছিলেন নূর হোসাইন কাসেমী, সদস্য সচিব ছিলেন  জুনায়েদ আল হাবীব। এখন তারা একই পদে থাকলেও দায়িত্ব পালন করবেন ঢাকা মহানগর উত্তর হেফাজতের। অন্যদিকে নব গঠিত  ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহবায়ক হচ্ছেন খেলাফত আন্দোলনের প্রধান আমিরে শরীয়ত হাফেজ মাওলানা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী হুজুর, সদস্য সচিব হচ্ছেন ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ। হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব পদেও রয়েছেন মুফতি ফয়জুল্লাহ। বুধবার ঢাকা দক্ষিণের কমিটি চূড়ান্ত করতে লালবাগে খেলাফত আন্দোলনের কার্যালয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে মাওলানা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী হুজুর, মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, মুফতি ওয়াক্কাস, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, মাওলানা আবুল হাসনাত আমিনী উপস্থিত ছিলেন। মুফতি ওয়াক্কাস জমিয়ত নেতা হলেও বৈঠকে দক্ষিণের কমিটিতে তাকে উপদেষ্টা করার সুপারিশ করা হয়। শীঘ্রই চট্টগ্রাম থেকে কেন্দ্রীয় হেফাজত নতুন কমিটি ঘোষণা করবে।

জানা গেছে, অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে হেফাজতের আত্মপ্রকাশ ঘটলেও সংগঠনটির বেশিরভাগ কেন্দ্রীয় নেতা ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল পদে রয়েছেন।হেফাজতের ঢাকার নেতৃত্বে ছিলেন লালবাগ ও বারিধারার দুইটি মাদ্রাসার সংশ্লিষ্টরা, যারা একই সঙ্গে দুইটি ইসলামি রাজনৈতিক দলের নেতাও। লালবাগের জামিয়া কোরআনিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় সংশ্লিষ্ট হেফাজতের নেতারা ইসলামী ঐক্যজোটেরও নেতা। অন্যদিকে বারিধারার জামি'আ মাদানিয়া মাদ্রাসার সংশ্লিষ্ট হেফাজত নেতারা  জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতা। হেফাজতে নিজ দলের প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে মতপার্থক্য শুরু হয়। দ্বন্দ্বের কারণে সাংগঠনিক তৎপরতা ছিল না ঢাকা মহানগর হেফাজতের। চট্টগ্রাম থেকে সিন্ধান্ত এলেও বাস্তবায়ন হয়নি ঢাকাতে। ঢাকার কেন্দ্রীয় নেতাদের কর্তৃত্বের লড়াইয়ে বিপর্যস্ত ছিল ঢাকা মহানগর হেফাজত।

অবিভক্ত ঢাকা মহানগর কমিটির আহবায়ক নূর হোসাইন কাসেমী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব, এছাড়াও সদস্য সচিব জুনায়েদ আল হাবীব, যুগ্ম আহবায়ক মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, যুগ্ম সদস্য সচিব মোস্তফা আজাদও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামে নেতা। ২০১৪ সালের  এপ্রিলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে মাওলানা আব্দুর রব ইসুফী, একই দলের তফাজ্জল হক আজিজ, মোহাম্মদুল্লাহ জামি, ইসলামী ঐক্যজোটের থেকে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মুফতি ফজলুল করিম কাসেমী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামে যোগ দেন।

এছাড়াও জমিয়তের কার্যক্রম পরিচালিত হয় রাজধানীর জামি'আ মাদানিয়া বারিধারা মাদ্রাসা থেকে। লালবাগ থেকে ঢাকার হেফাজতের কার্যালয় স্থানান্তর করা হয় বারিধারার এই মাদ্রাসায়। অন্যদিকে লালবাগপন্থী ইসলামী ঐক্যজোটের নেতারাও চান হেফাজতকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফলে বারিধারায় হেফাজতের অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকতে দেখা গেছে লালবাগ পন্থীদের।

হেফাজত ঢাকা মহানগরের নেতৃবৃন্দ
সূত্র জানায়,নূর হোসাইন কাসেমী হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগর কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকেই সিদ্ধান্ত গ্রহণে অন্যদের প্রাধান্য না দিয়ে নিজের মতামতকে চূড়ান্ত করতেন। এ নিয়ে শুরু থেকেই বিভাজন তৈরি হয়। ৫ মে শাপলা চত্বরে লালবাগপন্থীদের বিতর্কিত ভূমিকার জন্য লালবাগ জামিয়া কোরআনিয়া থেকে হেফাজতের ঢাকা অফিস বারিধারায় স্থানান্তর করা হয়। এই স্থানান্তরকে কেন্দ্র করে লালবাগকেন্দ্রীক ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নূর হোসাইন কাসেমীর দুরত্ব বাড়ে। এই দুরত্বের কারণে মহানগর কমিটি একসঙ্গে বসে কোনও সিদ্ধান্তও নিতে পারেনি। যে কারণে ঢাকার নেতারা সব সময় চট্টগ্রামের নেতৃত্ব মেনে নিতেন এবং আল্লামা শফীর নির্দেশনা গ্রহণ করতেন।

লালবাগ মাদ্রাসার হেফাজত নেতাদের বিরুদ্ধে ৫ মে’র সময় আহমদ শফীকে নিয়ন্ত্রণে রেখে হেফাজতের সব কর্মসূচিকে জামায়াতের সহযোগিতায় হিংসাত্মক ও জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনে পরিণত করার অভিযোগ রয়েছে। বারিধারায় হেফাজতের কার্যালয় স্থানান্তরের আগ পর্যন্ত রাজধানীতে হেফাজতকে নিয়ন্ত্রণে রাখে  লালবাগপন্থীরা। বিগত দুবছর ধরেই লালবাগ ও বারিধারা মাদ্রাসার নেতারা পৃথক পৃথকভাবে বৈঠক করাসহ বিবৃতি দিচ্ছেন।

সূত্র জানায়, হেফাজতের ফান্ডের হিসেব দেননি নূর হোসাইন কাসেমী। কত টাকা জমা আছে,কত ব্যয় হয়েছে, এসব বিষয়ে তিনি আজ পর্যন্ত কমিটির বৈঠকে ডাকেননি। উল্টো ফান্ডের টাকা দিয়ে নিজ দলের নেতাদের মামলার খরচ  যোগানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও ঢাকা মহানগরের অন্য নেতারা  গ্রেফতার হয়ে কারাগারে গেলে তাদের আইনি খরচ থেকে কোনও ব্যয়ই হেফাজতের ফান্ড থেকে দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে কোন মন্তব্য করেননি নূর হোসাইন কাসেমী ও জুনায়েদ আল হাবীব।

মাওলানা মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, হেফাজতের  কেন্দ্র থেকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আমরা তা মেনে নেবো। এর বেশি কিছু এ মুহূর্তে বলতে পারছি না।

ঢাকার কমিটির ভাগ হওয়া প্রসঙ্গে হেফাজতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ঢাকা থেকে উত্তর-দক্ষিণ ভাগ করে কমিটি গঠনের প্রস্তাব  এসেছে। শীঘ্রই চূড়ান্ত করে জানানো হবে। মূলত হেফাজতের কর্ম পরিধি বাড়াতেই  উত্তর ও দক্ষিণে ভাগ কার হচ্ছে।
/সিএ /এইপিএইচ

লাইভ

টপ