behind the news
Vision  ad on bangla Tribune

রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে রিট: আইনমন্ত্রীকে হেফাজতের স্মারকলিপি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট০০:৫৫, মার্চ ২৮, ২০১৬

হেফাজতে ইসলামসংবিধান থেকে রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইনমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। রবিবার বেলা ১১টায় সচিবালয়ে আইনমন্ত্রীর দফতরে  সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও ঢাকা মহানগরীর  আহ্বায়ক নূর হোছাইন কাসেমী স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি দেওয়া হয়। হেফাজতের ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এই স্মারকলিপি দিয়েছেন বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে জানানো হয়।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন, হেফাজতের ঢাকা মহানগরের আইনবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আবু জাফর কাসেমী, যুগ্ম সদস্যসচিব মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী,  মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা মুফতী ফখরুল ইসলাম, মাওলানা শেখ গোলাম আজগর, সদস্য  মাওলানা শরীফুল্লাহ ও মাওলানা  সুলতান মহিউদ্দীন।
হেফাজতের স্মারক লিপিতে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২ক-এ উল্লেখ রয়েছে যে, ‘‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করবে।’’  দীর্ঘ ২৮ বছর যাবত সংবিধানে ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ বর্তমান রয়েছে। একবার রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম চ্যালেঞ্জ করে দায়েরকৃত রিট হাইকোর্টে খারিজ হয়ে যায়। ৯২ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম দেশের অধিকাংশ জনগণের চিন্তা, চেতনা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। সংবিধানে সন্নিবেশিত রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম—একটি সেটেল্ড বিষয়। কিন্তু সম্প্রতি রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম চ্যালেঞ্জ করে ২৮ বছর আগে দায়েরকৃত একটি রিট সচল করে শুনানির জন্যে হাইকোর্টের কার্যতালিকাভুক্ত করা হয়েছে। নতুন করে এ ইস্যুটিকে সামনে নিয়ে আসার বিষয়টি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এক সাগর রক্ত আর অসীম ত্যাগের বিনিময়ে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার পর দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেছিলেন যে, বাংলাদেশ পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে তিনি দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ওআইসি সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। এ বাস্তবতাকে অস্বীকার করা বা পাশ কাটানোর কোনও সুযোগ নেই। আর জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তি হচ্ছে সংবিধান। ৯২ভাগ জনগণের ধর্ম ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম যা আমাদের সংবিধানের যথার্থ ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু এ বিষয়টি নিয়ে কারও কারও মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। বিষয়টি উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, পৃথিবীর বহু দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্ম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে বিদ্যমান রয়েছে। বিশ্বেও অন্তত ৬০টি দেশে রাষ্ট্রধর্ম আছে। সুতরাং ৯২ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকা একান্তই যৌক্তিক ও অপরিহার্য। আমরা আশা করি সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের বিশ্বাস ও অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে রিটটি বাতিলে আদালতে প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করবে।

 /সিএ/এমএনএইচ/

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ