behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

‘চাঙ্গা’ বিএনপিতে ‘আতঙ্ক’ ছড়াতেই গ্রেফতার- মামলা!

সালমান তারেক শাকিল১০:৩০, মার্চ ৩১, ২০১৬

বিএনপিহঠাৎ করেই ফের মামলা ও গ্রেফতারের মুখে বিএনপি। পুরনো সব মামলাকে কেন্দ্র করে গ্রেফতারের মতো ঘটনাও ঘটছে। বুধবার নিম্ন আদালতে হাজিরা দিতে গেলে কারাগারে পাঠানো হয় দলের সদ্য মনোনিত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। বিকাল সোয়া চারটার দিকে ফের জামিন পান। একই সময়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে বিএনপিকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনাকে সন্দেহের চোখে দেখছেন দলটির কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতা। 

বাংলা ট্রিবিউনকে বিএনপি নেতারা বলছেন, ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত জাতীয় সম্মেলনের পর বিএনপির সাংগঠনিক যাত্রার লক্ষ্য অনেকটাই ঠিক। আগামীদিনের কর্মসূচি নিয়েও সিদ্ধান্ত গ্রহণের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে দলটির নীতিনির্ধারকরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরি, আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতিসহ নানা ইস্যুতেই কর্মসূচি দিতে প্রস্তুত বিএনপি। এ কারণেই আন্দোলন থেকে ফেরাতে বিএনপির মধ্যে ফের গ্রেফতার আতংক ছড়াতে চায় সরকার। 

চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু বলেন, সরকার পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দিতে চায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি, দুই মন্ত্রীর সরাসরি সংবিধান লঙ্ঘনের ঘটনায় সরকার প্রচণ্ড  চাপে আছে। এসব বিষয় থেকে জাতিকে অন্যদিকে নিতে চায় সরকার। পাশাপাশি বিএনপি যেহেতু এখন এই দুটো বিষয়ে কথা বলছে, মানুষকে সংঘবদ্ধ করছে, সেহেতু বিএনপিতেই আতংক ছড়ানোর পরিকল্পনা করছে তারা। 

বিএনপির দফতর, আইনি দিক দেখেন এমন কয়েকজন নেতার সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা হরতাল-অবরোধ-আন্দোলনের আড়াই বছরে সহিংসতার অভিযোগে সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীর নামে ১৫ হাজারের বেশি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকাতেই মামলা দায়ের হয়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার। এসব মামলা হয়েছে দণ্ডবিধি, বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের বিভিন্ন ধারায়।

রাজধানীর আটটি জোনের মধ্যে ওয়ারী জোনের ৬৪টি, উত্তরা জোনের ২৫, লালবাগ জোনের ৩৮, মতিঝিল জোনের ১৩৪, মিরপুর জোনের ১৬২, গুলশান জোনের ৪৩ এবং রমনা জোনের ৯২টি মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এসব মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামির মধ্যে খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সালাহ উদ্দিন আহমেদ, রুহুল কবীর রিজভী ও বরকতউল্লাহ বুলুসহ বিএনপির বিপুলসংখ্যক কেন্দ্রীয় নেতা রয়েছেন।

এর আগে গত ৬ মে যাত্রাবাড়ীতে বাসে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে ডিবি পুলিশ। এই মামলাতেই বুধবার বিকালে খালেদা জিয়াসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতার পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। 

বিএনপির দফতর সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি মামলা তদন্তাধীন, তিনটি মামলায় হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ রয়েছে। এ ছাড়া দুর্নীতির দুটি মামলার বিচার চলছে ঢাকার একটি বিশেষ জজ আদালতে। মামলা দুটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ৭৬টি মামলার আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি মামলায় তার অনুপস্থিতিতে বিচার চলছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ৭৮টি মামলার আসামি করা হয়েছে। তবে মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির জানান, সর্বশেষ তথ্যমতে, তার বিরুদ্ধে ৮৪ টি মামলা হয়েছে। ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর অবরোধের ঘটনায়ই তার নামে রাজধানীতে ৩৭টি মামলা দেয় পুলিশ। 

এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচটি, এম কে আনোয়ারের বিরুদ্ধে পাঁচটি (জামিনে), মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে ৭৩টি (কারাগারে), গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে ১১টি (বর্তমানে জামিনে), এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে তিনটি, মওদুদ আহমদের বিরুদ্ধে ১০টি, খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান ওরফে শিমুল বিশ্বাসের নামে ৪৭টি, বিএনপির সহসভাপতি আবদুল্লাহ আল নোমানের বিরুদ্ধে পাঁচটি, সহসভাপতি সাদেক হোসেন খোকার বিরুদ্ধে ১৪টি (বর্তমানে বিদেশে চিকিৎসাধীন), বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানের বিরুদ্ধে ১০টি মামলা বিচারাধীন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদুর বিরুদ্ধে ১৭টি (বর্তমানে জামিনে), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হান্নান শাহর বিরুদ্ধে আটটি, আবদুল আউয়াল মিন্টুর বিরুদ্ধে পাঁচটি, শমসের মবিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে চারটি, মোসাদ্দেক আলী ফালুর নামে চারটি (বর্তমানে জামিনে), বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমানের বিরুদ্ধে ৮৭টি, সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের বিরুদ্ধে ১০টি, বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির নামে ৪০টি (কারাগারে), যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদের (বর্তমানে ভারতে আটক) বিরুদ্ধে ২৭টি, আরেক যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর (বর্তমানে জামিনে) বিরুদ্ধে ৪৪টি, যুগ্ম মহাসচিব বরকতউল্লা বুলুর বিরুদ্ধে ৫০টি, সহসভাপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে পাঁচটি, বিশেষ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তফার বিরুদ্ধে ৯টি, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলমের বিরুদ্ধে তিনটি, গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়ার বিরুদ্ধে দুটি, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেনের বিরুদ্ধে ১১টি, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকনের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা বিচারাধীন।

এ ছাড়া যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের বিরুদ্ধে ১১০টি, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম নীরবের বিরুদ্ধে ১৭৮টি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের নামে ১০০টি, সাধারণ সম্পাদক মীর শরাফত আলী সপুর বিরুদ্ধে ১০৫টি মামলা আছে। 

শামসুজ্জামান দুদু মনে করেন, বিএনপি নেতাদের এইসব মামলা দিয়েই সাইজ করতে চায় সরকার। বিএনপি আবারও গুছিয়ে ওঠুক, সেটি সরকার চায় না। সম্মেলন করে কমিটিও ঘোষণা করতে পারা যায়নি। তার মানে হচ্ছে, সরকার নিজেকে বিপদগ্রস্ত মনে করেছে। গৃহপালিত বিরোধীদল তো ঘরে বসে আছে, তাদের নিয়ে চিন্তা নেই। কিন্তু বিএনপিকে নিয়ে চিন্তা আছে। 

কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদকের দাবি, যেহেতু বাংলাদেশের মানুষ আন্দোলনকে বিনোদন মনে করে, সেহেতু এখন যেকোনও ইস্যুতে কর্মসূচি দিলে মানুষ রাজপথে নামতে পারে, ভয়ে তারা এখন আমাদের মামলায় জড়াচ্ছে, গ্রেফতার করছে। 

ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, সরকার কাউন্সিলের আগে থেকেই চিন্তিত। বিএনপির সম্মেলনে তাদের ভয় বেড়েছে। সংগঠিত দলের কর্মসূচি নিয়ে তারা এখন ভাবছে। 

বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ মনে করেন, বিএনপির মহাসচিবকে মনোনিত করার পর মাত্র ঘন্টা ব্যবধানের মধ্যে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ রাজনৈতিক ইতিহাসে অকল্পনীয়। এটি শিষ্ঠাচারের কোনও সীমাতেই পড়ে না। 

ছাত্রদল সহ সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট বলেন, নতুন কমিটি হচ্ছে বিএনপির। কমিটি গঠন শেষ হলেই কর্মসূচি আসবে। এসব নিয়ে চিন্তায় থাকতে পারে সরকার।

এসটিএস/ এপিএইচ/

 




Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ