বিভক্ত জাসদে একদিকে ঐক্যপ্রক্রিয়া, অন্যদিকে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি

Send
বিশেষ প্রতিনিধি২৩:০৮, এপ্রিল ০৩, ২০১৬

জাসদজাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদে একদিকে চলছে ঐক্য প্রক্রিয়া, অন্যদিকে শুরু হতে যাচ্ছে আইনি লড়াই। দলটির তৃণমূল পর্যায় ঐক্যের পক্ষে মত দিলেও নেতৃত্বের বিরোধে দুই কমিটির কার্যক্রম চলছে। এই দুই কমিটিকে এক করতে সরকার, ১৪ দল ও জাসদের সাবেক নেতারা যার যার অবস্থান থেকে চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
এদিকে, মশাল প্রতীক কারা পাবেন, সেই বিরোধ নিষ্পত্তির দায়িত্ব আদালতের ওপর ছেড়ে দিতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন মনে করে, কোনও নিবন্ধিত দল ভাগ হয়ে গেলে তাদের প্রতীক সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষমতা ইসির কাছে নেই। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে রবিববার এ তথ্য জানা গেছে।
তবে দলের দুই অংশের নেতারা জানিয়েছেন, মশাল প্রতীক নিয়ে আইনি লড়াইয়ের জন্য তারা প্রস্তুত আছেন। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কার্যালয় নিয়েও আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুত চলছে দুই পক্ষের মধ্যে।
এই মুহূর্তে মহাজোট সরকার, বা ১৪ দলের পক্ষ থেকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) দুটি অংশকে ঐক্যবদ্ধ থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের একজন সদস্য সরকারপ্রধানের এই মনোভাবের কথা সম্প্রতি জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে অবহিত করেছেন।

এই পরিস্থিতির মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাসদের সাবেক ও কয়েকজন প্রবীণ নেতা গত শনিবার ধানমন্ডিতে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বৈঠক করেন। এসময় দুই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। 

বৈঠকে সাবেক নেতাদের মধ্যে ছিলেন প্রকৌশলী মুনীরউদ্দিন আহমদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কোষাধ্যক্ষ ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন, চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান প্রমুখ। 

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও দুই পক্ষ তাদের যুক্তি ও অবস্থানে ছাড় দিতে নারাজ। তবে ঐক্য চেষ্টার আয়োজকেরা দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসাতে পেরে খুশি।

ওই বৈঠকে উপস্থিত দলের একজন সাবেক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দুই পক্ষের মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয়ে গেছে। তাদের এক টেবিলে বসানো হয়েছে। আলোচনা হয়েছে। আরও আলোচনা হবে। তিনি আরও বলেন, দলের প্রায় সবাই ঐক্যের পক্ষে। ঐক্য না হলে  দলটি চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।  

আগামী ২৩ এপ্রিল ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তৃতীয় ধাপের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ ধাপে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ৬ এপ্রিল। ৭ এপ্রিল প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। এ অবস্থায় কোনও ইউনিয়নে জাসদের দুই পক্ষের প্রার্থী থাকলে ‘মশাল’ প্রতীক নিয়ে বিরোধ তৈরি হতে পারে।

জানা যায়, কমিশন মনে করে, তারা এখন কোনও একটি পক্ষকে যোগ্য মনে করে মশাল প্রতীক বরাদ্দ দিলে, অপর পক্ষ আদালতে যাবে। সে ক্ষেত্রে নতুন জটিলতা তৈরি হবে। তাই কমিশন বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য জাসদের দুই পক্ষকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিতে পারে। 

জানতে চাইলে ইসির আইন শাখার সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, দল ভাগ হয়ে গেলে কে বৈধ আর কে অবৈধ, সেটা নির্ধারণের এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের নয়। এই বিরোধ নিষ্পত্তির দায়িত্ব আদালতের ওপর ছেড়ে দেওয়াই ভালো। তিনি বলেন, যুগ যুগ ধরে একসঙ্গে থাকা নেতারা নিজেদের বিরোধ মেটাতে না পারলে কমিশন তা কয়েকদিনে কীভাবে মেটাবে?

গত ১১ মার্চ শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাসদের সম্মেলন হয়। ১২ মার্চ মহানগর নাট্যমঞ্চে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলের নির্বাচন পর্বে সাধারণ সম্পাদক পদে নেতা নির্বাচন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গণ্ডগোল শুরু হয়। একপক্ষ হাসানুল হক ইনুকে সভাপতি ও শিরিন আখতারকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে। অপরপক্ষ শরীফ নুরুল আম্বিয়াকে সভাপতি ও নাজমুল হক প্রধানকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করে।

আইন অনুযায়ী দলীয় কাউন্সিল হওয়ার পর নতুন কমিটির তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়। সে জন্য দুই পক্ষই ২৩ মার্চ নির্বাচন কমিশনে নিজেদের কমিটি জমা দেয়। একই সঙ্গে নুরুলআম্বিয়ার অংশের পক্ষ থেকে মশাল প্রতীক তাদের জন্য বরাদ্দ রাখতে কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়।

জাসদের একাংশের সভাপতি শরীফ নুরুলআম্বিয়া এবং অপরাংশের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দাবি করে মশাল প্রতীক নিজেদের থাকবে বলে জানিয়েছেন। 

এপিএইচ/

লাইভ

টপ