behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

ফের জোটের বৈঠক এড়িয়ে গেলো জামায়াতইউপি নির্বাচনে থাকার ঘোষণা বিএনপির

সালমান তারেক শাকিল০১:৩৮, এপ্রিল ০৫, ২০১৬

বিএনপিচলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। সোমবার রাতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে জোটের এ অবস্থান ব্যক্ত করেন জোট সমন্বয়ক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আগের দিন রবিবার রাতে বিএনপির বেশিরভাগ সিনিয়র নেতার পরামর্শে নির্বাচনি মাঠে থাকার পক্ষেই সিদ্ধান্ত নেন খালেদা জিয়া।  এ নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনে ‘ইউপি নির্বাচন থেকে সরছে না বিএনপি’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এদিকে, তৃতীয় দফার মতো ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে অংশগ্রহণ করেনি জোটের অন্যতম শরিক জামায়াত।
নির্বাচনে কমিশনে (ইসি) নিবন্ধন স্থগিত থাকা জামায়াত কেন জোটের বৈঠকে অংশ নেয়নি, এ বিষয়ে বিএনপিসহ জোট নেতারা কিছু বলতে পারেননি।  তবে, খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে জামায়াতের নির্বাহী কমিটির একজন সদস্যের কথা হয়েছে। ওই নেতার সম্মতি নেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে জোটের শরিক বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমি আমার এলাকায় আছি এখন।  তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কল করেছিলেন। তাকে সম্মতি দিয়েছি নির্বাচন চালিয়ে যেতে। ফেরার কোনও অপশন নেই। তার মতে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন যেখানে সুষ্ঠু হয়নি, সেখানে স্থানীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বরং নির্বাচনের কারণে সরকার ক্রমাগত নিজেদের অবস্থান হারাচ্ছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্তকে সঠিক মনে করি। জামায়াতের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে উত্তরে তিনি বলেন, তারা তো আসেননি আজকের বৈঠকেও। এর কারণ জানি না। তবে, ধারাবাহিক  অনুপস্থিতি  জোটের জন্য মঙ্গলজনক নয়।

সোমবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জোটের বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে শরিক নেতারা নির্বাচনে থাকার পক্ষে মত দেন। পাশাপাশি থাকার পক্ষে নানা ধরনের যুক্তি তুলেন ধরেন। খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান, জেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, খেলাফত মজলিশের আহমেদ আবদুল কাদের, ইসলামী ঐক্যজোটের আবদুর রকীব, জাগপার শফিউল আলম প্রধান, এনডিপির খন্দকার গোলাম মুর্তজা, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, পিপলস লীগের গরীবে নেওয়াজ, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, ভাসানী ন্যাপের আজহারুল ইসলাম, ইসলামিক পার্টির আবু তাহের চৌধুরী, মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার আলী বুলবুল, কল্যাণ পার্টির এম এম আমিনুর রহমান, ডিএলের সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, ন্যাপের নুরুল আমান চৌধুরী টিটো।

বৈঠকের বিষয়ে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নির্বাহী সভাপতি মুফতি ওয়াক্কাছ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বৈঠকে অধিকাংশ নেতা মত নির্বাচনের পক্ষে মত দিয়েছেন। নির্বাচন যত হবে, সরকারের অনিয়ম ও  পাপের বোঝা আরও ভারী হবে। এটি তো খালি দেশ নয়, বিদেশি বন্ধুরা দেখছেন। ফলে আন্তর্জাতিকভাবেও সরকার নিজেদের ভাবমূর্তি হারাচ্ছে। তবে কেউ কেউ নির্বাচন থেকে সরে আসারও যুক্তি দিয়েছেন।

জানা যায়,  রবিবারের বৈঠকে বিএনপির দুয়েকজন নেতা নির্বাচন থেকে সরে আসার প্রস্তাব করেন। তবে, বেশির ভাগ নেতা নির্বাচনের পক্ষে ইতিবাচক অবস্থানে থাকায় খালেদা জিয়া বেশির ভাগ নেতার পক্ষে সিদ্ধান্ত দেন।

সোমবার রাত সাড়ে ১০ টায় মির্জা ফখরুল বলেন, সামনের ইউপি নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু হবে না জেনেও বিরোধী জোট নির্বাচনি মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  ইউপিতে  নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হলেও শেষ ধাপ পর্যন্ত মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২০ দল। তিনি বলেন, ২০ দলীয় জোট ইউপি নির্বাচনের প্রতিটি ধাপই পর্যবেক্ষণ করছে। একইসঙ্গে দেশবাসীকে তা জানাচ্ছে। আগামী ধাপের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে তা দেশবাসীর কাছে তুলে ধরা হবে।

মির্জা ফখরুল আলমগীর বলেন, স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে এ রকম ‘সহিংসতা ও ভোট ডাকাতি’র অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আগামী সংসদ নির্বাচন এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু হবে না।

তার ভাষ্য, নির্দলীয় সরকারের ছাড়া এদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না, এটা আবার প্রমাণিত হয়েছে। আমরা মনে করি, আগামী নির্বাচন যখনই হোক, তা হতে হবে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে এবং একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে।

/এমএনএইচ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ