behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

৫ মামলায় জামিনআদালত এলাকায় খালেদা জিয়ার একদিন

সালমান তারেক শাকিল২২:৪৩, এপ্রিল ০৫, ২০১৬

আদালতে খালেদা জিয়ামঙ্গলবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিট থেকে দুপুর সোয়া একটা।  পুরো সময়জুড়েই ঢাকার জেলা দায়রা জজ আদালত ও সিএমএম কোর্টে হাজির হয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ব্যস্ত ছিলেন ৫ মামলার জামিন আবেদন নিতে। আদালত খালেদা জিয়ার সব আবেদন মঞ্জুর করে তাকে জামিন দেন। পূর্ব-ধারণা থেকে নেতাকর্মীরা তার জামিনকে ‘সম্ভাব্য’ মনে করলেও গ্রেফতারের ‘শঙ্কা’ মাথায় রেখে আদালত এলাকায় জমায়েত বৃদ্ধি করেছিল বিএনপি। সকাল ৯টা ২০মিনিটে গুলশান-২-এর বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে আদালতের উদ্দেশে রওয়ানা করেছিলেন খালেদা জিয়া। আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর বাসায় ফেরেন দুপুর আড়াইটার দিকে।

সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টা, বাসা থেকে আদালতের পথে

আগের দিন সোমবার রাতেই বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় আদালতের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন খালেদা জিয়া। তবে, এ দিন ২০ মিনিট দেরিতে বাসা থেকে বহর নিয়ে বের হন খালেদা জিয়া। ক্রিম কালারের কাপড়ে হলুদ ও গোলাপি রঙের ফুলের প্রিন্ট সংবলিত জর্জেট শাড়িতে সকাল সোয়া ১০টা নাগাদ রায়সাহেব বাজার মোড়ে এসে পৌঁছেন খালেদা জিয়া। সঙ্গে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনী সিএসএফের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ও দায়িত্বরত পুলিশের গাড়ি। সামান্য দূরত্বে এই মোড় থেকে খালেদার গাড়ি আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে সময় লাগে আরও প্রায় ২৫ মিনিট। আসার পথে অর্ধেক সময়েই ছিল বিএনপিসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর প্রায় কয়েক হাজার নেতাকর্মীর স্লোগান-মিছিল। ছিল কিছু ডিজিটাল ব্যানারও। একইসঙ্গে ছিল পুলিশের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আদালত এলাকায় খালেদার গাড়ি প্রবেশের আগেই সদরঘাট থেকে রায়সাহেব বাজারের দিকে যাওয়ার রাস্তাটি ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ রাখে পুলিশ। এ কারণে পুরো এলাকায় তীব্র যানজটে চরম দুর্ভোগে পড়েন পথচারীরা। 

নেতাদের নির্দেশনা উপেক্ষা করেই বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের বিশৃঙ্খলা

খালেদা জিয়ার গাড়ি আদালত চত্বরে প্রবেশের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাধা দিলেও উশৃঙ্খল আচরণ করেন কর্মী-সমর্থকরা। শুরু করেন পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি। এ সময় দায়িত্বরত পুলিশের সহনশীলতা ছিল লক্ষণীয়। তবে কর্মী-সমর্থকদের আদালত চত্বরে প্রবেশে নিবৃত্ত করতে চেষ্টা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় দুয়েকজন। আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া কর্মীদের বারবার সরিয়ে দিলেও তারা আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন।

আদালতে খালেদা জিয়ানিচতলা থেকে দোতলায়  উঠতে ১০ মিনিট!

মঙ্গলবার সকালেই যাত্রাবাড়ী এলাকায় বাসে বোমা হামলার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন আদালত। এই মামলায় হাজির হয়ে জামিন চাইতে প্রথমে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে যান খালেদা জিয়া। ১০-৪০ মিনিটে তিনি আদালতের পূর্ব দিকের সিঁড়ি বরাবর গাড়ি থেকে নেমে অন্তত ১০ মিনিটে দোতলায় ওঠেন। এ সময় তাকে ঘিরে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের স্লোগান ছিল লক্ষণীয়। নানা ধরনের দলীয় স্লোগানে মুখর ছিল আদালত প্রাঙ্গণ।

এজলাসে খালেদা জিয়া, বাইরে স্লোগান

১১টা ২০ মিনিটে যাত্রাবাড়ী থানার মামলায় জামিনের খবর এলে আদালতের সামনে অবস্থানরত কর্মী-সমর্থকরা স্লোগান দেওয়া শুরু করেন। এ সময় বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু, এ জেড জাহিদ হোসেন, আবদুল্লাহ আল নোমান, আমানউল্লাহ আমানকে আদালতক্ষ থেকে বেরিয়ে সিএমএম কোর্টের দিকে রওয়ানা হন। অন্যদিকে, খালেদা জিয়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সঙ্গে নিয়ে গ্যাটকো মামলার হাজির দিতে দায়রা জজ আদালতের তৃতীয় তলায় যান। ইতোমধ্যে নেতাকর্মী ও আইনজীবীরা সিএমএম কোর্টের দিকে রওয়ানা হন। এরই মধ্যে খালেদা জিয়া নিচে নেমে এলে ফের নেতাকর্মীরা স্লোগান দিয়ে তার গাড়ি ঘিরে সিএমএম কোর্টের দিকে এগিয়ে যান। সেখানে অবস্থানরত বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদিন ফারুক, ছাত্রদল সভাপতি রাজিব আহসানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত কর্মীদের নিয়ে ‘খালেদা জিয়ার কিছু হলে, জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’ শীর্ষক স্লোগান দিতে থাকেন। দুপুর ১ টা ১০ মিনিটের দিকে খবর ছড়িয়ে পড়ে খালেদা জিয়া বাকি তিনটি মামলায় জামিন পেয়েছেন। শুরু হয় আবারও স্লোগান। পাশাপাশি শুরু হয় খালেদা জিয়াকে বহন করা গাড়িকে কেন্দ্র অবস্থান গ্রহণের জায়গা নিয়ে ধাক্কাধাক্কি। চলে এক গেটে আইনজীবীদের দলবদ্ধ স্লোগান, অন্যগেটে কর্মী-সমর্থকদের স্লোগান।

দুপুর সোয়া একটার দিকে খালেদা জিয়া দোতলা থেকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান উপস্থিত নেতাকর্মী ও আইনজীবীদের উদ্দেশে। তখন কর্মী-সমর্থকরা ফের স্লোগান ধরেন। এর মিনিট দুয়েক পর নিজ গাড়িতে উঠে গুলশানের বাবভবনের উদ্দেশে রওয়ানা হন খালেদা জিয়া। 

বিচারকের অনুমতি নিয়ে বসেছিলেন খালেদা জিয়া

সাধারণত কোর্টে খালেদা জিয়া তার আইনজীবীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মামলাবিষয়ক পরামর্শ ও মতবিনিময় করেন।  তবে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মঙ্গলবার দুটি কোর্টেই কোনও কথা বলেননি তিনি। তবে বিএনপির আইনজীবী মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আদালতে খালেদা জিয়া কোনও কথা বলেননি। প্রত্যেকটি এজলাসেই তিনি বিচারকের অনুমতি নিয়ে বসেছিলেন। যা কিছু বলার, তা আইনজীবীরাই বলেছেন।

আদালতে খালেদা জিয়াযে মামলায় জামিন পেয়েছেন খালেদা জিয়া

যাত্রাবাড়ীতে বাসে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে যাত্রী হত্যার ঘটনায় দায়ের করা পৃথক একটি হত্যা মামলা (মামলা নম্বর ৫৮), নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের মিছিলে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় খালেদা জিয়াসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় দায়ের করা মামলা, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে কটূক্তি করায় ঢাকার সিএমএম আদালতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় খালেদার জামিন মঞ্জুর করা হয়।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া  বলেন, খালেদা জিয়া ৫ মামলাতেই জামিন পেয়েছেন। তিনি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী থাকায় আদালত দ্বিধাহীনভাবে তার জামিন মঞ্জুর করেছেন। আর খালেদা জিয়া সবসময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সময়সীমার মধ্যেই তিনি আদালতে হাজির হয়েছেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, হত্যা, নাশকতা, দুর্নীতি ও রাষ্ট্রদ্রোহের মোট পাঁচটি মামলার আসামি তিনি। আদালত তার বয়স, শারীরিক অসুস্থতা ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সামাজিক মর্যাদা বিবেচনায় জামিন দিয়েছেন।

অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, তিনি তো পলাতক নন বা পালিয়েও থাকেন না। আমরা বলেছি, এই বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে।

সতর্ক ছিল পুলিশ, ঘটেনি দুর্ঘটনা

খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরাকে কেন্দ্র করে বিএনপির বিপুল পরিমাণ নেতাকর্মী ওই এলাকায় যান। আদালত চত্বরে প্রবেশে আাইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নেতাকর্মীরা তা মানেনি। পাশাপাশি বিক্ষোভ মিছিলের মতো ছিল গাড়ি বহরকে কেন্দ্র করে জমায়েত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্কতা ও সহনশীল আচরণের কারণে এলাকায় কোনও অস্থিতিশীলতা দেখা যায়নি। যদিও এর আগে খালেদা জিয়া বকশিবাজারে বিশেষ আদালতে হাজিরর সময় সংঘর্ষ হয়েছিল।

খালেদা জিয়ার আদালতে যাওয়া উপলক্ষে সকাল থেকেই ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের জনসংযোগ শাখার উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার। তিনি বলেন, যেকোনও ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ সতর্ক থাকবে।

ছবি: নাসিরুল ইসলাম

/এমএনএইচ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ