ব্যাটসম্যানদের নিতে হবে বাড়তি দায়িত্ব

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২১:০৪, জানুয়ারি ১১, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৩৩, মার্চ ০৭, ২০১৭

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
সম্প্রতি বাংলাদেশ দল ঘরের মাঠে নিয়মিত সাফল্য পেলেও নিউজিল্যান্ডের মাটিতে সফল হওয়াটা কঠিন। ইতিমধ্যে হয়ে যাওয়া ৬ ম্যাচই এর প্রমাণ। কোনও খেলোয়াড়ই যখন ফর্মে নেই, তখন সেটা যে ইনজুরি থেকে ফেরত আসা মুশফিককেও দুশ্চিন্তায় ফেলেছে, সে ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই।
নিজের সামর্থ্যের সেরাটা মেলে ধরার জন্য একজন প্রকৃত ক্রিকেটার টেস্ট ম্যাচটিকেই বেছে নেবে। ব্যাট বা বল হাতে নিয়ে নিজের জাত চেনানোর এটাই সেরা ফরম্যাট বলে আমি মনে করি।
তবে নিউজিল্যান্ডে অদ্যাবধি দুটো ফরম্যাটে কোণঠাসা হয়ে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা কিছুটা বিচলিত। তুলনামূলকভাবে একদিনের ম্যাচে ও টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আংশিক সফল হওয়ার প্রাপ্ত সুযোগের যথার্থ প্রয়োগ করতে না পারায় দলের খেলোয়াড়দের নিজেদের আস্থার জায়গাটি নড়বড়ে করে দিয়েছে।
অদ্যাবধি দলের একাদশ নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের বাড়বাড়ি করা, কোচ হাথুরুসিংহের সঙ্গে যুক্তির মাধ্যমে মুশফিককে তার একাদশ নির্বাচনে সোচ্চার থাকা উচিত।
এই সফরে এখন পর্যন্ত পেস বোলিংয়ে নজরকাড়া তেমন সুইং দেখিনি। তবে লাল বল, পিচের বাড়তি সবুজ ঘাস ও অস্বাভাবিক বাড়তি বাতাসের মাঝে খেলে অভ্যস্ত কিউইরা যে এই টেস্ট ম্যাচ থেকে বাড়তি ফায়দা আদায় করে নেবে, তা প্রায় নিশ্চিত করেই বলা যায়। হাতে গোনা কয়েকজন ব্যাটসম্যান বাদ দিলে আমাদের দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই টেস্ট খেলেনি। পেস বোলিংয়ে একেবারেই অনভিজ্ঞ সবুজ উইকেট তাদের উজ্জীবিত করলেও রাব্বি ও তাসকিনদের জন্য অনেক দুরূহ হতে পারে আকাঙ্খিত সফলতার দেখা পাওয়াটা। বাতাসের বুকে ধাক্কা দিয়ে যে বোলার নতুন বলে বল করবে, সেটাই হবে তার জীবনের এক নতুন অভিজ্ঞতা ও দুরূহ একটি কাজ।

দীর্ঘদিন ধরে ম্যাচের বাইরে থাকা মমিনুল ও মেহেদী হাসান মিরাজের জন্য সরাসরি ২২ গজে পারফরম্যান্স করাটা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে। ইতিমধ্যেই তাদেরকে খেলানোর সুযোগ থাকলেও দলের কোচ কখনোই মনে করেননি।

এই টেস্টে রাব্বি, রুবেল ও তাসকিনের ওপর পেস আক্রমণের দায়িত্ব থাকবে। সাকিবের সঙ্গে মেহেদী মিরাজকে দেখা যাবে বলে মনে করি। সোহানকে (নুরুল হাসান) যদি কিপিং করতে হয়, তাহলে সাব্বির ও সৌম্যকে বাইরে থাকতে হচ্ছে। আর মুশফিক কিপিং করলে ৭ নম্বরে সাব্বিরকে এগিয়ে রাখবো।

এই টেস্টকে আমরা কত দূর টেনে নিয়ে যেতে পারব, তা নির্ভর করবে আমাদের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের ওপর। এছাড়া বৃষ্টিও আমাদের হয়ে খেলতে পারে। শর্ট পিচ বল মোকাবিলায় আমাদের কাউন্টার অ্যাটাক আগের চেয়ে অনেক উন্নতি হয়েছে। তবে সুইং ও বাড়তি বাউন্স থাকবে মূল দুশ্চিন্তার কারণ।

স্ট্যাম্পের বাইরে ওভার পিচ বলগুলো যদি না ছেড়ে দ্রুত রান সংগ্রহের আশায় বেশি শটস খেলায় মনোযোগী হয়, তবে তা আমাদের সবার আকাঙ্খিত লম্বা জুটির স্বপ্নে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি সুন্দর ব্যাটিং সেশনের শেষ ওভারে আউট হওয়া বা লোয়ার অর্ডার কিংবা মিডল অর্ডারের ধস-এই সিরিজে ওভারকাম করতে হবে। ব্যাটসম্যানরা ভালো করেই জানেন বোলারদের কাছ থেকে বাড়তি কিছু আশা করার চেয়ে নিজেদের বাড়তি দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হবে।

/আরআই/কেআর/

লাইভ

টপ