সাকিব-মুশফিকের জুটিই বাংলাদেশের বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২২:০৬, জানুয়ারি ১৩, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৩০, মার্চ ০৭, ২০১৭

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
এ ধরনের উইকেটে আগে ব্যাটিং করাটা সব সময়ই চ্যালেঞ্জের। তারপরও প্রথম দিন শেষে বোঝা যাচ্ছিল বাংলাদেশ এমন একটি অবস্থায় যেতে পারে। যদিও আমি দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন নিয়ে উৎকণ্ঠায় ছিলাম। দিনশেষে আমার সেই দুশ্চিন্তা একদমই কেটে গেছে। দিনের ৯০ ভাগ সময় বাংলাদেশ প্রভাব বিস্তার করতে সমর্থ হয়েছে।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এটা অভাবনীয় সাফল্য বলে আমার মনে হয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ভালো পারফরম্যান্সের পর আন্তর্জাতিক অনেক ধারাভাষ্যকার ও ক্রিকেট বিশ্লেষক বলেছিলেন- বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশকে ভালো খেলে প্রমাণ করতে হবে যে তারা বড় দল হয়ে উঠছে। সেই হিসেবে নিউজিল্যান্ড সফরটা এক ধরনের পরীক্ষাই ছিল। সীমিত সংস্করণের ক্রিকেটে সাফল্য না পেলেও ওয়েলিংটন টেস্টের পারফরম্যান্স অবশ্যই আশাব্যঞ্জক। প্রায় সবারই নজর ছিল এই টেস্টের দিকে।

আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, বাংলাদেশ দলের প্রথম দুইদিনের খেলা নজর কেড়েছে তাদের। বাকি তিনদিনও বাংলাদেশ প্রভাব বিস্তার করে খেলবে বলে আমি আশাবাদী। তারা হয়তো বাকি দিনগুলোতে নজর রাখবে। মূলত আজকের পারফরম্যান্স দিয়েই আমরা এটা অর্জন করতে পেরেছি।

সম্প্রতি বাংলাদেশ দল বেশ চাপে ছিল; কারণ টেস্ট ক্রিকেটে আমরা ভালো করতে পারছিলাম না। ইংল্যান্ডের সঙ্গে টেস্ট সিরিজ ড্র করে নতুন করে টেস্টে নিজেদের আধিপত্যটা জানান দিতে সক্ষম হই।

আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাকিব ও মুশফিক অসাধারণ একটি জুটি করে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ করেছে। আমার মনে হয় এমন পারফরম্যান্স ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিপক্ষে অন্য বড় দলগুলোকে খেলতে আগ্রহী করে তুলবে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গল টেস্ট বাদ দিলে বেশিরভাগ সফরেই প্রতিপক্ষের মাঠে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ভুগতে হয়েছে। হয়তো একটি ব্যক্তিগত স্কোর থাকতো, কিন্তু সেটা দলের স্কোরকে সমৃদ্ধ করতে সহায়ক হতো না।

সেই অবস্থা থেকে এখন দেখুন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একাধিক ক্রিকেটার পারফরম্যান্স করেছে- এটা অবিস্মরণীয় একটি প্রাপ্তি। এই অর্জন টেস্ট অঙ্গনে বাংলাদেশকে ভিন্নমাত্রা দেবে মনে হয়। টেস্ট ক্রিকেট যে কোনও সময় রূপ বদলাতে পারে। আগে বাংলাদেশের বিপক্ষেই রূপ বদলাতো। গত দুইদিনের পারফরম্যান্স অনুযায়ী এই ধারাও হয়তো বদল হবে।

সাকিব গ্রেট খেলোয়াড়। তার নামের পাশে ডাবল সেঞ্চুরি না থাকাটা ছিল খুবই হতাশার। এই আক্ষেপটা আমারও ছিল। শুক্রবার প্রথমবারের মতো ডাবল সেঞ্চুরি করে সেই আক্ষেটা তিনি ঘুচালেন। এমন একটা সময় তিনি এই অর্জন করলেন, যখন এই সিরিজে সীমিত সংস্করণের ক্রিকেটে বাংলাদেশ ভালো করতে পারেনি।

মুশফিক তাকে অবিশ্বাস্য রকম সমর্থন দিয়ে গেছেন। ইনজুরি থেকে ফিরে এমন একটি ইনিংস খেলা সত্যিই দুরূহের ব্যাপার।

এই টেস্টে এখন পর্যন্ত আমার দৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হয়েছে ব্যাটসম্যানদের মানসিকতা। আগে দেখা যেত সেঞ্চুরি করার পরপরই ব্যাটসম্যানরা তাদের দায়িত্ব শেষ হয়েছে বলে মনে করতো। কিন্তু এই টেস্টে সেঞ্চুরির পরও তারা দায়িত্ব নিয়ে খেলার চেষ্টা করেছে। কারণ সাকিব-মুশফিকরা অনুধাবন করতে পেরেছেন এই উইকেটে নতুন ব্যাটসম্যানদের পক্ষে রান করাটা খুব কঠিন। সাকিব শুরু থেকেই এই দায়িত্বের মধ্যে ছিলেন। আমি এই পরিবর্তনটার কথাই বলছিলাম। আশা করছি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

যে কোনও সংস্করণেই ৭ নম্বর পজিশনটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পজিশনে খেলছেন সাব্বির রহমান। তাকে টেস্ট খেলতে হলে এই পজিশনেই খেলতে হবে। সাব্বির ভালো করেই জানেন উপরে ব্যাট করার সুযোগ তার নেই। টেস্ট খেলতে হলে এখানে তার ব্যাটিং করতে হবে। শুক্রবার যতক্ষণ তিনি ক্রিজে ছিলেন বেশ সতর্কতার সঙ্গেই বোলারদের মোকাবিলা করেছেন।

শেষ ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজের আউট হয়ে যাওয়া বেশ দৃষ্টিকটু লেগেছে। সাব্বিরকে শনিবার কিছু করতে হলে অন্য প্রান্ত থেকে সমর্থন লাগবে। টেল এন্ডার যারা আছেন তাদের নিয়ে সাব্বিরকে অবশ্যই ক্যালকুলেটিভ রিস্ক নিয়ে খেলতে হবে।

দিন যত গড়াবে উইকেট ততই ব্যাটিং স্বর্গ হয়ে উঠবে। নিউজিল্যান্ডের বোলিং দেখে আমার ড্যানিয়েল ভেট্টরির কথা খুব মনে পড়েছে। আমি নিশ্চিত কেন উইলিয়ামসনও মনে মনে তার অভাব অনুভব করেছেন।

সাকিব-মুশফিকের লম্বা পার্টনারশিপ যখন হচ্ছিল, তখন মনে হচ্ছিল ভেট্টরি থাকলে হয়তো নিউজিল্যান্ডের জন্য ভালো হতো। এই ধরনের বোলার সচরাচর আসে না। দেশে ও দেশের বাইরে নিউজিল্যান্ডকে অনেক জয় উপহার দিয়েছেন এই স্পিনার। আমার মনে হয় পেস বোলিং সহায়ক উইকেট হলেও ভেট্টরির অভাবটা এখনও রয়ে গেছে।

তৃতীয় দিনে হয়তো বাংলাদেশ আরও কিছু রান করবে। স্কোরবোর্ডে পর্যাপ্ত রান আমাদের বোলারদের আরও বেশি উজ্জীবিত করবে। মুশফিককে আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে ফিল্ডিং সাজাতে হবে। তরুণ পেসাররা ঠিকমতো সাপোর্ট করতে পারলে তৃতীয় দিনটিও বাংলাদেশের হতে পারে।

এক্ষেত্রে পেসারদের পাশাপাশি আমাদের দলের অভিজ্ঞ স্পিনাররা ভূমিকা রাখবেন বলে আমার আশা। এজন্য অবশ্যই ক্লোজ ও আক্রমণাত্মক ফিল্ডিং সাজাতে হবে দলের অধিনায়ককে।

বাংলাদেশের ইনিংসে নিউজিল্যান্ড বেশ কয়েকটি সুযোগ হারিয়েছে। এমন সুযোগ বাংলাদেশের হারানো যাবে না। এই জায়গায় খুব গুরুত্ব দিতে হবে ফিল্ডারদের। এই ম্যাচে তৃতীয় দিনটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে গেলে বাংলাদেশকে ফিল্ডিং ভালো করতেই হবে।

/আরআই/এফএইচএম/

লাইভ

টপ