নতুন বলের সদ্ব্যবহার করতে হবে

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২০:১৬, জানুয়ারি ১৪, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:২৯, মার্চ ০৭, ২০১৭

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
মুশফিক ঝুঁকি এড়িয়েই ৫৯৫ রান করে ইনিংস ঘোষণা করেছে। যদিও আমি ভেবেছিলাম বাংলাদেশ অত্যন্ত ৬০০ রান করে ইনিংস ঘোষণা করবে। স্কোরবোর্ডে অনেক সময় সংখ্যা চাপ তৈরি করে। এক্ষেত্রে হয়তো নিউজিল্যান্ডের জন্য ‘৬০০’ সংখ্যাটা চাপ তৈরি করলেও করতে পারত।

নিউজিল্যান্ডের এই কন্ডিশনে দুই প্রান্তে দুই রকম পরিস্থিতিতে বোলিং করতে হয়। এক প্রান্ত বোলারদের অনুকূলে হলেও অপর প্রান্তে প্রতিকূল অবস্থা বিরাজ করে। শনিবার বাংলাদেশ দুই প্রান্তে ‍দুই জন পেসার দিয়ে শুরু করতে পারত। আমি জানি না, তামিম হয়তো ভিন্ন কিছু চিন্তা করেছে।

ঠিক যখনই মিরাজকে সরিয়ে কামরুলের হাতে বল তুলে দেওয়া হলো, তিনি কিন্তু প্রথম ওভারেই সফলতা এনে দিয়েছেন। হয়তো শুরু থেকে দুই প্রান্ত থেকে পেস আক্রমণে গেলে আর একটু আগেই উইকেট যেত।

বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কাটা অবশ্য অধিনায়কের মাঠে না থাকাটা। ব্যাটিং করতে গিয়ে তর্জনিতে আঘাত পান মুশফিক। তাতেই কিপিংয়ে নামা হয়নি তার। দলের প্রধান উইকেটকিপার যে কোনও দলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বোলারদের সঙ্গে ক্রিকেটীয় যোগাযোগ থাকে। যা বোলাদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগায়। শনিবার হয়তো এইদিক দিয়ে বোলাররা স্বাচ্ছন্দ্যে ছিলেন না!

কিপিং বাদ দিলেও অধিনায়ক হিসেবে তার মাঠে উপস্থিত না থাকাটা প্রভাব ফেলেছে। শুক্রবার দ্বিতীয় দিন শেষে তামিম হয়তো তৃতীয় দিন নিয়ে পরিকল্পনা করেছে। কিন্তু সেটা নিশ্চয়ই মুশফিকের মতো করে নয়। যা তামিমের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়েছে। মুশফিক থাকলেও হয়তো বিষয়টি কঠিন হতো না।

আগেই প্রশ্ন রেখেছিলাম-প্রথমে মিরাজকে বোলিংয়ে আনার কারণটা আমি খুঁজে পাইনি। আমাদের দলের সঙ্গে যখন কোর্টনি ওয়ালশের মতো একজন বিশ্বমানের পেসার, কোচ হিসেবে আছেন। তখন তিনিই  বিষয়গুলো দেখবেন। আমার মনে হয়, নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে আমরা যদি পেসারদের ওপর আস্থা রাখতে না পারি; তাহলে এত নামী কোচরা কী কাজ করছেন? এমন প্রশ্ন সামনে চলেই আসে।

অবশ্য তিনি এখনও আমাদের পেসারদের সম্পর্কে পুরো ধারনা নিতে পারেননি। তারও দেখার প্রয়োজন, কে কোথায় কার্যকর। ভবিষ্যতে হয়তো এই বিষয়গুলো দেখে নতুন কোনও পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারবেন।

আরেকদিকে ওয়েলিংটন টেস্টে দুইজন পেসারের অভিষেক হয়েছে। তাসকিনের অভিষেকটা বহু প্রত্যাশিত ছিল। তরুণ এই দুই পেসারদের কাছ থেকে আমরা ভালো কিছু ডেলিভারি দেখতে পেয়েছি। আমার খুব ভালো লেগেছে। টেস্ট ম্যাচে বোলারদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ব্যাটসম্যানদের বল খেলতে বাধ্য করানো। বাউন্সটা এখানে কার্যকর হতে পারে কেবল ব্যাটসম্যানদের বিভ্রান্ত করতে পারলে। বেশি উঁচুতে বল করে শক্তির খরচ করা ছাড়া অন্য কোনও প্রাপ্তি থাকবে না। এই দিকটাতে পেসারদের নজর রাখতে হবে।

তাসকিনের কাছ থেকে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করে অবশেষে টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু করতে পেরেছে। এখন কোচ ও তাকে চেষ্টা করতে হবে কীভাবে বোলিংটা আরও বেশি কার্যকর করা যায়।

প্রথম ওভারে একটি সুযোগ হারানো-যে কোনও তরুণ বোলারের ক্ষেত্রেই হতাশাজনক। আমাদের স্লিপের ফিল্ডিংটা কোনও কোচের সময়ই সাবলীল মনে হয়নি। ওখানে বড় ধরনের কিছু ত্রুটি থেকেই যাচ্ছে। স্লিপের ফিল্ডাররা কখনোই শতভাগ সহায়তা করতে পারছেন না বোলারদেরকে। এই জায়গাতে আরও অনেক অনেক বেশি মনোযোগী হতে হবে।

প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ডের তরুণ ব্যাটসম্যান টম ল্যাথামের ব্যাটিং আমাকে মুগ্ধ করেছে। নিউজিল্যান্ডের তরুণ এই ব্যাটসম্যান অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী। বিশেষ করে, তার ভালো বলগুলোকে বিচার করার কৌশল অসাধারণ। তিনি জানেন তার অফস্ট্যাম্প কোথায়। এর কাছাকাছি থাকা বলগুলো দক্ষতার সঙ্গে ছেড়েছেন। তার সঙ্গী জিত রাভালের চেয়ে তিনি এক্ষেত্রে অনেকখানি এগিয়ে। একই ধরনের বলে রাভাল পেছনে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিল আর ল্যাথাম দারুণ দক্ষতা দেখিয়েছে।

উইলিয়ামসনের ব্যাটিং করার সময় ২-১টা বল বেশ লাফিয়ে উঠেছিল। তারমানে বোঝা যাচ্ছে উইকেটে আচরণ পরিবর্তন হচ্ছে। চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে হয়তো এটা অব্যাহত থাকবে। আমাদের বোলারদের এই সুযোগটাই নিতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব নিউজিল্যান্ডকে অলআউট করতে হবে।

দিনের শুরুতে বাংলাদেশ নতুন বল নেওয়ার সুযোগ পাবে। এই সুযোগটা পুরোদমে কাজে লাগাতে হবে পেসারদেরকে। আগের দিন যা পারেনি, রবিবার দুই প্রান্ত থেকে পেসারদের সেটা করে দেখাতে হবে। নতুন বলটার পুরো সদ্ব্যবহার করতে পারলে শুরুতেই নিউজিল্যান্ডকে টেনে ধরা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে টম ল্যাথাম বাংলাদেশের জন্য প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাকে যত তাড়াতাড়ি সাজঘরে ফেরানো যাবে, ততই মঙ্গল হবে বাংলাদেশের।

সেক্ষেত্রে প্রথম সেশনটাতে আমরা যদি দুটি কিংবা তিনটি উইকেট তুলে নিতে পারি। সেটা হবে অসাধারণ। মূল কথা হচ্ছে প্রথম ইনিংসে আমাদের লিড নিতে হবে। কালকে যখন বাংলাদেশ মাঠে নামবে, তাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এটাই।

সবমিলিয়ে আমি বলবো ফিল্ডিংয়ে আমাদের আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। নিউজিল্যান্ড বেশকিছু সুযোগ হাতছাড়া করে বেঁচে যেতে পারবে। কারণ তারা বড় দল। কিন্তু আমাদের সুযোগ হাতছাড়া হলে আমরা পিছিয়ে পড়বো। এই জন্য প্রত্যেকটি সুযোগই আমাদের দিকে নিয়ে আসতে হবে। তাহলেই কেবল এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করা সম্ভব হবে।

/আরআই/এফআইআর/

লাইভ

টপ