ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বহীনতায় হেরেছে বাংলাদেশ

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২০:২৯, জানুয়ারি ১৬, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:২৭, মার্চ ০৭, ২০১৭

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
সম্ভাবনাময় একটি ম্যাচের সমাপ্তি এভাবে হবে, আমরা কেউই ভাবিনি। আমি ভেবেছিলাম ম্যাচটি ড্র হচ্ছে। কিন্তু চতুর্থ দিনের শেষ বিকাল ও পঞ্চম দিনের সকালে ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বহীনতায় আমাদেরকে হার দেখতে হলো।

টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে অভিজ্ঞ ও অনভিজ্ঞ দলের পার্থক্যটা এই ম্যাচে ফুটে উঠেছে। অভিজ্ঞ দল যদি কোনও সুযোগ পায়, সেটা খুব ভালোভাবে কাজে লাগায়। যে কাজটা করেছে নিউজিল্যান্ড। রবিবার শেষ বিকালে নিউজিল্যান্ডকে আমরা কয়েকটা সুযোগ দিলাম, যা আজ সকালের (সোমবার) শুরু থেকেই তারা যথার্থ ব্যবহার করেছে সেটার। আমি অবশ্যই বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ওপর দায় চাপাবো। বিশেষকরে দলের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে। রবিবার তিন উইকেট পড়ে যাওয়ার পর আমরা জানি আমাদের দুটি উইকেটে সমস্যা আছে। ইমরুল ও মুশফিক আহত, দলের সতীর্থরা এটা জানার পরও দায়িত্ব-জ্ঞানহীন শট খেলে আউট হয়েছে।

কারও মধ্যেই বাড়তি মনোযোগ আমি লক্ষ্য করিনি। এক ধরনের অমনোযোগী ব্যাটিং দেখে বিরক্ত হয়েছি। মমিনুলকে মনে হয়েছে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী। সাব্বির যেভাবে আউট হয়েছে, দেখে কষ্ট লেগেছে। অবশ্য শেষ দিকে হাতের ব্যথা নিয়েও মুশফিক যেভাবে চেষ্টা করেছে, বিষয়টি ছিল অসাধারণ। সবশেষে ইমরুল কায়েস দলে অবদান রাখার চেষ্টা করেছে। সঙ্গীর অভাবে যদিও শেষ পর্যন্ত কিছু করতে পারেনি। সত্যি কথা বলতে ব্যাটসম্যানদের মধ্যে চেষ্টার কমতি ছিল। সর্বোচ্চটা দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু কিছু ব্যাটসম্যানের মধ্যে আমি আগ্রহ কম দেখেছি।

টেস্ট ম্যাচে এমন অনেক মুহূর্ত আসে, যেখান থেকে বের হয়ে ম্যাচে ফিরতে হয়। এবং যে দলগুলো ঠিকঠাক বিষয়গুলো করতে পারে, তারাই টেস্ট ক্রিকেটে বড় দল হয়ে উঠতে পারে। যেভাবে আমরা সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ক্রমেই বড় দল হয়ে উঠছি, ঠিক সেভাবেই। তবে বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটে সেভাবেই শুরু করেছিল। ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ জেতার পর সবাই এমনটাই ভেবেছিল। আমরা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টটি ড্র করতে পারতাম, কিন্তু ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার কারণেই ম্যাচটি আমরা হেরে গেছি। ফল উল্টো না হলে বাংলাদেশের পথটা আরও সুন্দরই হতো।

শেষ দিনে এসে বোলাররাও সেভাবে উইকেট থেকে সুবিধা পায়নি। তাছাড়া নিউজিল্যান্ডের বোলিংও আহামরি পর্যায়ের ছিল না। শুধুমাত্র আমাদের উইকেটে আকড়ে থাকার মানসিকতা ছিল না বলেই পথ হারিয়েছি।

বাংলাদেশের পাঁচ বোলারদের মধ্যে চারজনকেই অনভিজ্ঞ বলা চলে। তিন পেসারের সঙ্গে মেহেদীও অনভিজ্ঞই। সাকিবই কেবল অভিজ্ঞ। এমন বোলিং আক্রমণ নিয়ে টেস্ট ম্যাচে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আক্রমণে যাওয়া অনেক কঠিন। এই দায়িত্বটা কোনও অভিজ্ঞ পেসারদের নিতে হতো। কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্ট তরুণদের ওপরই আস্থা রাখতে চেয়েছে।

এই ম্যাচে আমাদের বোলারদের অনেক কিছু শেখার আছে। কেননা এখানে তারা এলোমেলো বোলিং করেছে। শুভাশিষ অভিষেক টেস্টে খুব একটা ভালো করতে পারেনি। হয়তো এখান থেকে শিখে পরের ধাপে কাজে লাগাবে। মিরাজের অনেক কিছু শেখার আছে। সে নিশ্চয় বুঝতে পারবে দেশের উইকেট থেকে কতখানি সাহায্য পাওয়া যায়, আর বাইরে ভালো বল করার জন্য কতখানি পরিশ্রম করতে হয়। সবকিছু মিলিয়ে হয়তো ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করবে মিরাজ।

দূর্ভাগ্যবশত ম্যাচটি হারলেও এখানে আমাদের প্রাপ্তিও কম নয়। কেউই ভাবেনি আমরা ওয়েলিংটনে পাঁচদিন খেলব। রেকর্ড জুটি গড়ে প্রায় ৬০০ রান করব। এই সব প্রাপ্তি কিন্তু আমাদের জন্য নতুন। আক্ষেপটা শুধু শেষটা রঙিন হয়নি বলে। হয়তো আজকের সকালটাতে ব্যাটসম্যানরা আরও একটু দায়িত্ববান হলে ম্যাচটা বাঁচানো যেত। 

আরও একটি উন্নতি চোখে পড়েছে। ব্যাটসম্যানরা শর্ট বল খেলার ক্ষেত্রে যথেষ্ট পারদর্শী হয়ে উঠেছে।  প্রতিপক্ষ শর্ট বল করলে, আমরা এখন পাল্টা আক্রমণ চালাতে পারি। আগে এই ডেলিভারিগুলো ছেড়ে দিলে বোলাররা আরও চড়াও হতো। এখন আমাদের ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় প্রতিপক্ষের বোলাররা সেই সুযোগ পাচ্ছে খুব কম।

/আরআই/কেআর/

লাইভ

টপ