নিউজিল্যান্ডে নিজেদের মেলে ধরার শেষ সুযোগ

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২০:১৬, জানুয়ারি ১৯, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:২৫, মার্চ ০৭, ২০১৭

গাজী আশরাফ হোসেন লিপুক্রাইস্টচার্চ টেস্টে আন্ডারডগ হিসেবে আমরা মাঠে নামছি। যদিও হাথুরুসিংহে ও তামিম ইকবাল ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখছেন। এটা প্রচলিত একটা প্রথা। মিডিয়ার সামনে এভাবেই বলতে হয়। কিন্তু সত্যিটা হলো আমরা পিছিয়ে থেকেই মাঠে নামছি। এমনিতেই পুরো সিরিজে আমরা কোনও জয়ের দেখা পায়নি। তারপর তিনজন খেলোয়াড়কে হারিয়ে মানসিক ভাবে সাংঘাতিক বিপর্যস্ত অবস্থায় দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামছি।

অন্যের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। কেননা নিজের ভুল থেকে শিখতে গেলে ক্ষতিটা বেশি হয়। গত টেস্টে নিজেরা ভুল করে চরম মূল্য দিয়ে ম্যাচটি হেরেছি। হয়তো অনেক কিছু শিখেছি। কিন্তু সেইসব মূল্য দিয়ে শিখতে হয়েছে। এখন সময় এসেছে গত টেস্টে আমরা যেইসব ভুল করেছি-সেগুলো পুনরায় না করা। তাহলেই আমাদের আগের টেস্ট থেকে ভালো কিছু করা সম্ভব। এখানে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রদের চাপকে জয় করা যতটা সহজ। অনেকক্ষেত্রেই সুযোগ পাওয়া নতুন খেলোয়াড়দের পক্ষে চাপ জয় করা অতটা সহজ নয়।

এই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়া খেলোয়াড়রা আগের টেস্টে যতক্ষণই ক্রিজে ছিলেন, আস্থা রেখে খেলেছিলেন। প্রতিপক্ষ বোলারদের সমীহ আদায় করে নিয়েছিলেন। ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে তাদের অভাব সাংঘাতিক ভাবেই অনুভব হবে। যেহেতু একটা নতুন ভেন্যুতে, নতুন ধরনের উইকেটে খেলা হবে। সেক্ষেত্রে ওয়েলিংটনের মতো ব্যাটিং সহায়ক না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

এই টেস্টে যারা সুযোগ পেলেন, তারা প্রত্যেকেই নতুন উদ্যোমে এই টেস্টটি খেলার সুযোগ পাচ্ছেন। ভালো কিছু করার প্রয়াস তাদের মধ্যে থাকবে। জাতীয় দলে নিজেদের আসন পাকাপোক্ত করার এমন দারুণ সুযোগ সব সময় আসে না। আমার বিশ্বাস তারা এই সুযোগটা যথাযথ ভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে। নির্বাচকদের আস্থা অর্জনের এই সুযোগটা তারা খুব ভালো ভাবেই লুফে নেবে। তাতে করে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ ভাবে দল ও ব্যক্তিগত ভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকবে।

সৌম্য ও সোহানের চেয়ে নাজমুলের জন্য কাজটি অত্যন্ত কঠিন হবে। ডেভলপম্যান্ট প্রোগ্রামের অংশ হয়ে নিউজিল্যান্ড যাওয়া নাজমুলের কল্পনাতেও ছিল না টেস্ট ম্যাচ দিয়ে তার অভিষেক হচ্ছে। ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টির জন্যই হয়তো ওকে বিবেচনা করা হচ্ছিল। কিন্তু পরিস্থিতির আলোকে এখন ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। হয়তো ওয়েলিংটনের উইকেটে সুযোগ পেলে নিজেকে মেলে ধরতে সুবিধা হতো নাজমুলের। এই মুহূর্তে অনেক কঠিন একটি পরীক্ষায় বসতে যাচ্ছেন তিনি। এখানে নাজমুলকে নিজের ক্রিকেটীয় মেধা ও কৌশল প্রয়োগ করতে হবে।

এমন পরিস্থিতিতেই এভাবে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পালনের জন্য কতটা প্রস্তুত ছিলেন তামিম? আমি নিশ্চিত মুশফিকের ইনজুরিতে এভাবে অধিনায়কত্ব করতে হবে কখনোই তিনি ভাবেননি। তবে ক্রিকেট এমন একটি খেলা যখন যেটা না ভাবা হয় সেটাই হয় কিংবা হতে পারে। বড় একটা দায়িত্ব নিয়ে তিনি ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে টস করতে নামবেন।

আগের টেস্টের মতো এই টেস্টেও তিন তরুণের ওপর দায়িত্ব থাকলে খুব ভালো ভাবেই নির্বাচকদের পরখ করে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। টেস্টে তাদের থেকে শহীদ ও শফিউল অবশ্যই ভালো। তারা ইনজুরি থেকে ফিরলে অবশ্যই বর্তমানে একাদশে থাকা দুইজনকে ছিটকে যেতে হবে। এই কারণে ক্রাইস্টচার্চেও নিজেদের পারফরম্যান্সের প্রমাণ রাখা অত্যন্ত জরুরি। হয়তো এই কারণেই একাদশে বোলিং আক্রমণে কোনও পরিবর্তন আসছে না। আশা করি ওয়েলিংটন টেস্টের অভিজ্ঞতা এখানে কাজে লাগাতে পারবে তারা।

এমন একটি ভঙ্গুর দল নিয়ে যখন বাংলাদেশ মাঠে নামছে। তখন মুস্তাফিজকে এখানে পরীক্ষা না করানোই ভালো। তাকে বিশ্রামে রাখাই যৌক্তিক। তাসকিনের ব্যাপারে আমার অভিমত, সে পর পর দুটি ম্যাচের ধকল নিতে পারবে কিনা। বিষয়টি অবশ্য ট্রেনার, ফিজিও খুব ভালো করে বলতে পারবেন। তবে এই ব্যাপারে সচেতন হওয়া জরুরি। আমরা আরও একজন বোলারকে যেন না হারাই!

/আরআই/এফআইআর/

লাইভ

টপ