একেবারে খারাপ হয়নি প্রথম দিন

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২০:১৮, জানুয়ারি ২০, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:১৮, মার্চ ০৭, ২০১৭

গাজী আশরাফ হোসেন লিপুচোটজর্জর বাংলাদেশ প্রথম দিনে স্কোরবোর্ডে যা যোগ করেছে, সেটা খুব একটা খারাপ হয়নি। ক্রাইস্টচার্চ নতুন জায়গা, সেই সঙ্গে তিনজন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান নেই। তারপর এমন উইকেটে টস হেরে আগে ব্যাটিং করে ২৮৯ রানকে আমি খারাপ বলব না।

একটি জুটির গড়ে দেওয়া ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আমরা এই সংগ্রহটা করতে পেরেছি। এই টেস্টে দুজন নতুন সংযোজন হয়েছে-নুরুল হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত। সৌম্যকেও আমি নতুন হিসেবেই দেখছি। সৌম্য সরকার ও নুরুল হাসানকে মোটামুটি সফল বলা চলে। অবশ্য আমি দেখেছি তিনজনই সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এটা দলের জন্য বড় প্রাপ্তি হতে পারে।

সৌম্য ফেরত আসাটা আমার কাছে ভালো লেগেছে। দলও তার দিকে তাকিয়ে ছিল। শুক্রবার খুব ভালো একটি সুযোগ তিনি কাজে লাগাতে পেরেছেন। তবে ইনিংসটা যে লম্বা করার সুযোগ মিস করেছেন, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আমি সবচেয়ে বেশি হতাশ এই সিরিজে রিয়াদকে (মাহমুদউল্লাহ) তার মতো করে না পেয়ে। পুরো সিরিজেই তিনি ব্যর্থ হয়েছে। তার কাছে দলের বড় ধরনের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু শেষ টেস্টেও প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। দল যখন কঠিন সময় পার করে, তখন এই ধরনের সিনিয়র খেলোয়াড়দের কাছ থেকে বড় কিছু প্রত্যাশা করে। এই ম্যাচে আমি তার ব্যাটের দিকে তাকিয়ে ছিলাম।

রিয়াদের পাশাপাশি তামিমের কাছ থেকে কিছু রান আসলে দলের জন্য ভালো হতো। টেস্টে তার কাছ থেকে বড় একটা ইনিংস পাওনা ছিল। তবে ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলতে গিয়ে শুরুতে তিনি আউট হয়ে গেলেন। অধিনায়ক হিসেবে ঠিকভাবে দায়িত্বটা নিতে পারলেন না তামিম।

উইকেটে শুরুতে কিছু মুভমেন্ট থাকলেও এটা খুব ভালো উইকেট। এখানে ব্যাটিং করা অত্যন্ত আরামদায়ক। অবশ্য মানিয়ে নেওয়াটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এটা হয়তো আগামীকাল শুরুতে নিউজিল্যান্ডের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা করবে।

বাংলাদেশের জন্য বেশ কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। নিউজিল্যান্ডকে এত বাজে ফিল্ডিং করতে আমি দেখিনি। কিন্তু এর যথার্থ ফায়দা আমরা তুলে নিতে পারিনি। টেস্ট ম্যাচে কোনও ব্যাটসম্যান জীবন পেলে, সেটাকে কাজে লাগিয়ে বিপক্ষ দলকে হতাশ করে। আজ (শুক্রবার) দলের বেশ কয়েকজন ব্যাটসম্যান সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি।

শুক্রবার ওয়েলিংটনের জুটির মতো বেশ বড় একটি জুটির প্রয়োজন ছিল। যদিও আগের টেস্টের ব্যাটসম্যানদের অর্ধেকই ইনজুরির কারণে এই টেস্টে নেই। কাউকে না কাউকে এই ভূমিকাতে দাঁড়াতেই হতো, যে দায়িত্বটা বেশি ছিল অধিনায়ক তামিমের ওপর। দল তার কাছ থেকে এটাই আশা করছিল।

মমিনুলের কথায় আসি। শুধু টেস্ট ম্যাচ খেলেন তিনি। একটা ফরম্যাটে একটি মাত্র ম্যাচ খেলে আনফিট হয়ে যাওয়া, দলের জন্য এটা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। মমিনুলকে ফিটনেসের ব্যাপারে যত্নবান হতে হবে। নিজেকে তৈরি রাখার ব্যাপারগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। তাকে বুঝতে হবে টেস্টে ভালো খেলার মাধ্যমে অন্য ফরম্যাটে সুযোগ করে নিতে হবে। মোটামুটি ফর্মে থাকা অবস্থায় মমিনুলের খেলতে না পারাটা হতাশাজনক।

নিউজিল্যান্ডের পেসার ও আমাদের পেসারদের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। আজ সারাদিন চারজন পেসার প্রায় ৯০ ওভার বোলিং করেছেন। ট্রেন্ট বোল্ট ২৪ ও টিম সাউদি ২৯ ওভার বোলিং করেছেন। এভাবে টানা পেসাররা বোলিং করে যাচ্ছেন। আমাদের বোলাররা অনেক বল করতে পারে। কিন্তু পার্থক্যটা হচ্ছে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই গতি, একই কার্যকরী বাউন্সার দিয়ে প্রতিপক্ষ বোলাররা ব্যাটসম্যানদের যেভাবে নাস্তানাবুদ করেন, আমাদের বোলাররা সেভাবে পারেন না। কিন্তু বিদেশের মাটিতে ভালো করতে হলে আমাদের পেসারদের এই জায়গাতে উন্নতি জরুরি।

প্রথম দিনের শেষ বিকালে দলের পেসাররা বেশ খানিকটা সময় উইকেটে ছিল। অনেক বেশি বাউন্সার খেলার সুযোগ পেয়েছেন তারা। এই বাউন্সার খেলার মাধ্যমে তারা বুঝতে পেরেছেন, কোন বাউন্সারটা কার্যকর আর কোনটা অকার্যকর। কোন বাউন্সার থেকে সুযোগ তৈরি হতে পারে। এই ব্যাপরাটা তারা উপলব্ধি করে কার্যকর বাউন্সার দেওয়ার চেষ্টা করবেন, যাতে দল উপকৃত হয়।

/আরআই/কেআর/

লাইভ

টপ