অবশ্যই বোর্ডের যৌক্তিক ব্যাখ্যা চাওয়া উচিত

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২০:২৮, জানুয়ারি ২৩, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩১, মার্চ ০৭, ২০১৭

গাজী আশরাফ হোসেন লিপুএই টেস্ট ম্যাচে দলের কাছে যে প্রত্যাশা ছিল, প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সম্মিলিত বোলিং ছাড়া ইতিবাচক কিছু নজর কাড়েনি। ফিল্ডিং-ক্যাচিং ছিল চরম হতাশাজনক এবং ব্যাটিংয়ে পিচের কন্ডিশন ও প্রতিপক্ষ বোলারদের দিকে নজর না দিয়ে একদিনের ম্যাচের মতো ব্যাটিং করার প্রবণতা আমাদের ব্যাটসম্যানদের উপস্থিতিকে স্বল্পস্থায়ী করেছে এই উইকেটে। সৌম্য-সোহানদের বিচ্ছিন্ন প্রয়াস তাই যথেষ্ট ছিল না।

প্রত্যেকটি ব্যাটসম্যানের কিছু ব্যক্তিগত অর্জনের লক্ষ্য থাকে। নিজেকে উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার জন্য সবাই বিদেশ সফরকেই বেছে নেয়। কিন্তু সেই জায়গাতে কাউকেই মনে হয়নি ক্ষুধার্ত তারা। সত্যি কথা বলতে দুর্ভাগ্যবশত কাউকেই বলা গেল না ধারাবাহিকভাবে ফর্মে ছিলেন। ইনজুরি হয়তো কিছু সম্ভাবনা নষ্ট করেছে। তবে তামিম, রিয়াদ ও সাব্বিরের কাছে দলের যে প্রত্যাশা ছিল, তার ধারে কাছেও তারা যেতে পারেননি। ৪-৫ বছর পর পর যদি নিউজিল্যান্ড বা ইংল্যান্ডে খেলার সুযোগ আসে, তবে অধিকাংশ খেলোয়াড়ই অর্জিত অভিজ্ঞতা আর কাজে লাগাতে পারে না এটাও সত্যি।

ক্রাইস্টচার্চে অভিষেক হওয়া ‍নুরুল হাসান গ্ল্যাভস হাতে অসাধারণ। আজকে (সোমবার) ওয়াগনারকে অসাধারণ এক রানআউটে সাজঘরে ফিরিয়েছেন নুরুল।

মেহেদী হাসান বুঝতে পারবে দেশের বাইরে স্পিন করা কতটা কঠিন। সাকিবের চেয়ে বেশি ওভার বল করাতে বিষয়গুলো সম্পর্কে সে ভালো ধারণা পেয়েছে বলে আমার মনে হয়। আশা করি সে বুঝতে পারবে, তার আরও কতটা পরিশ্রম করতে হবে।

দ্বিতীয় ইনিংসে আমাদের ব্যাটিং কৌশল কি ছিল, বুঝতে পারিনি। ভালো এবং লম্বা জুটি না দেখে দেখতে হলো আমাদের ব্যাটসম্যানদের দিয়ে কিভাবে শর্টস খেলিয়েও কার্যকর বাউন্সারে বিব্রত করে প্যাভিলিয়নের পথে ফেরত পাঠালেন নিউজিল্যান্ডের পেস বোলাররা। টিমের কোচিং স্টাফরা ব্যাটসম্যানদের প্রতিপক্ষের আক্রমণের জায়গাগুলো নির্ণয় ও তা নিয়ে খুব ভালো কাজ করতে পারেনি। রিয়াদ এই সিরিজে ইয়র্কার বলে বা ফুললেন্থ বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে বহুবার আউট হয়েছেন। দল যদি ২২ সদস্যের হয়, তখন দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে আলাদাভাবে কোচের কাজ করা খুব কঠিন হয়ে যায়। এজন্য প্রধান কোচ শুধু নিজেকেই ব্লেম করতে পারেন। তবে এ ধরনের আবদার বোর্ডের অনুমোদন দেওয়া উচিত হয়েছে বলে আমি মনে করছি না। ঠিক একইভাবে ব্যাটিংয়ে ৬-৭ পজিশনে অনেক খেলোয়াড় আছেন। সেখানে শান্তর (নাজমুল হোসেন) অভিষেক তাড়াহুড়ো করে করাটা আমার ভালো লাগেনি। তিনি একজন প্রতিভাবান, ভবিষ্যতের দারুণ কিছু করবে-এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই। এই জায়গাতে মোসাদ্দেককে দেখতে পারলেই ভালো লাগতো। দল নির্বাচনের সদস্য বেড়েছে অনেক, কিন্তু প্রতিটি ফরম্যাটেই এই সিরিজ জুড়ে প্রথম একাদশ নিয়ে ভালো রকমের বিতর্ক ছিল।

সিরিজ শেষে ক্রিকেট অপারেশন্স বা বোর্ডের একটা রুদ্ধদ্বার বৈঠক হওয়া উচিত। এবং তাদের একনজরে যে যে জায়গায় প্রথম একাদশ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ মনে হয়েছে তার যৌক্তিক ব্যাখ্যা চাওয়া উচিত। বোর্ড সভাপতি এ ব্যাপারে তার টেকনিক্যাল কমিটি বা পরামর্শকদের থেকে প্রয়োজনীয় ফিডব্যাক নিতে পারেন ও তাদের আরও সক্রিয় করতে পারেন।

শর্ট পিচ বলে স্ট্রোকস খেলায় আমাদের দক্ষতা বাড়লেও আরও উন্নতি করতে হবে। বাউন্সারসহ বল ছাড়ার ব্যাপারে আরও স্কিলফুল হতে হবে। ‘এ’ টিম বা হাইপারফরম্যান্স দলের দেশে ও বিদেশে খেলার পরিমাণ বাড়াতে ক্রিকেটে দুতিয়ালি বাড়াতে হবে।

ক্রিকেটের সঙ্গে আমরা যারা সংশ্লিষ্ট তারা সবাই জানি এবং বুঝি যে পেস বোলিং সহায়ক পিচ যদি দেশে তৈরি করতে না পারি তাহলে বিদেশের মাটিতে আমাদের ভালো করার সুযোগ অনেক সীমাবদ্ধ হয়েই থাকবে। তবে বোলিংকে সহায়তা করার জন্য ফিটনেস ও ফিল্ডিংয়ে আরও অনেক উন্নতির বিকল্প নেই। সর্বপরি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সেরাটা পেতে চাইলে তাদের মেশিনের মতো ব্যবহার করা যাবে না। প্রয়োজনীয় বিশ্রাম যেন তারা রিকোভারের জন্য পায়, এগুলো বছরের ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক সূচি তৈরির সময় বিবেচনায় রাখতে হবে।

সর্বপরি এই সফরে আমাদের হাতেগোনা কয়েকটি সাফল্য নিশ্চয় আছে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে আমাদের বেশ কয়েকটি ম্যাচে জয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু আমাদের ব্যাটসম্যানদের আউটগুলোর দিকে তাকালে এর উল্লেখ্যযোগ্য বড় অংশই ছিল প্রতিটি লিডিং ব্যাটসম্যানদের দুর্বলতম জায়গায় পরিকল্পিত বোলিংয়ের সফলতা। এই জায়গায় আমাদের ব্যাটিং কোচ ও হেড কোচের অনেক কাজ করার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।

আমাদের খেলোয়াড়দের প্রতিভা আছে। তাদের পেছনে আছে বিশাল টিম ম্যানেজমেন্ট। এখন প্রয়োজন দরদ দিয়ে পরিশ্রম করে নিজেদের আরও ধারাবাহিক করা।

/আরআই/কেআর/

লাইভ

টপ