মুশফিক-তামিম-সাকিবদের আসল পরীক্ষা

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২২:২৯, ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৩৫, মার্চ ০৮, ২০১৭

গাজী আশরাফ হোসেন লিপুআমাদের এই দলে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় আছেন, যাদের ব্যক্তিগত ক্রিকেট জীবনের পূর্ণতা পেতে যাচ্ছে ভারতের মাটিতে টেস্ট ম্যাচে অংশগ্রহণের মাধ্যমে। দল হিসেবে অনেক দেরিতে হলেও টেস্ট খেলুড়ে সব দেশে টেস্ট ম্যাচ খেলার এই অপূর্ণতার অবসান হলো বাংলাদেশের।

দলের নতুন খেলোয়াড়রা অনেক সৌভাগ্যবান এই স্মরণীয় টেস্ট ম্যাচে অংশগ্রহণ ও পারফরম্যান্সের সুযোগ এত দ্রুত পেয়ে। স্মরণীয় এই টেস্ট ম্যাচে আমাদের বোলিং সফলতা এই তরুণ খেলোয়াড়দের ওপরই নির্ভর করবে। একমাত্র অভিজ্ঞ সাকিব থাকবেন তাদের পথ প্রদর্শক। তবে তামিম-মুশফিক-রিয়াদ-সাকিবরা সারা পৃথিবী জুড়ে ক্রিকেট খেলে যা অর্জন করেছেন, তার বাস্তবিক প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করবে ব্যাটিংয়ের দুই ইনিংসে। ব্যাটিং বিভাগের সফলতাই আসলে বলে দেবে বল হাতে আমাদের বোলাররা কতটুকু সুযোগ পাচ্ছে এই টেস্টে।

এর আগে এই মাঠে সফরকারী দলের ফলাফল মোটেই ভালো নয়। তাছাড়া নিউজিল্যান্ড সফরের পর দল হিসেবে এমনিতেই স্বস্তিতে নেই বাংলাদেশ। দলের ফরম্যাট কিংবা প্রথম একাদশ নিয়ে বেশ ঝামেলায় আছে টিম ম্যানেজমেন্ট। দুশ্চিন্তাটা ছিল চোট নিয়ে। মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ওই সফরে ইনজুরিতে পড়েছিলেন ইমরুল কায়েস (ভারতের বিপক্ষেও নেই এই ওপেনার)। মুমিনুল হকও গিয়েছিলেন ছিটকে। তাদের চোটের কারণে ওই সিরিজে কিছু খেলোয়োড়ের একাদশে জায়গা পাওয়াটা চমকই ছিল।

এই দলের (ভারতের বিপক্ষে) সব খেলোয়াড়ের প্রতি শুভকামনা রেখেই বলছি নিউজিল্যান্ড দল থেকে উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহানের বাদ পড়াটা মোটেই ভালো লাগেনি। তার জায়গায় উদীয়মান লিটন দাসের সংযোজন ঘরোয়া ক্রিকেটের সফলতার কথা বলে, যেটা বেমানান লেগেছে। দলে কোনও কোনও খেলোয়াড় যখন পারফরম না করেই দীর্ঘদিন দলে থাকে, সেখানে সোহান কিংবা অভিজ্ঞ রুবেল হোসেনের না থাকাটা একটু বিস্ময়ই লেগেছে। এমন ঘটনা যখন ঘটে, তখন নির্বাচকদের নির্বাচন প্রক্রিয়াটা হয়ে যায় প্রশ্নবিদ্ধ। ঠিক একইভাবে মোসাদ্দেক হোসেনকে নিউজিল্যান্ড থেকে ফেরত পাঠিয়ে নাজমুল হোসেন শান্তকে দ্বিতীয় টেস্টে খেলানোটা খুব তাড়াতাড়ি হয়েছে বলে আমার মনে হয়। তাছাড়া ৬-৭ নম্বরের খেলোয়াড় অপ্রয়োজনে বাড়ানো হয়েছে, যেটা নাসিরকে ছেটে ফেলার জন্যও হতে পারে।

ভারত যদি ৬ ব্যাটসম্যান ও ৫ বোলার নিয়ে খেলে তাহলে রাহানে বা নায়ারের (যিনি সদ্য ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছেন) মধ্যে থেকে একজনকে বাদ পড়তে হবে। অথবা বিকল্প হিসেবে ৭ ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলবে ভারত। এমন একটা অবস্থায় ভারতের প্রতিষ্ঠিত, অভিজ্ঞ ও সুযোগের অপেক্ষায় থাকা খেলোয়াড়রা এই একটিমাত্র টেস্ট ম্যাচকে যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে নেবেন বলে আমার ধারণা।

পিচের ওপরই নির্ভর করবে দলের কম্বিনেশন। উইকেটে যদি প্রাণ থাকে তবে আমাদের পেস বোলার নিয়েই খেলা উচিত। স্পিনার হিসেবে মেহেদী হাসান মিরাজ ও সাকিবকে লম্বা স্পেল করতে হবে। নিউজিল্যান্ডের দুর্বল ক্যাচিং ভুলে গিয়ে ভিন্ন এক বাংলাদেশকে দেখতে পাব বলে আশা করছি।

ব্যাটিংয়ে বিশ্বমানের স্পিনারদের আমরা মোকাবিলার জন্য কতটুকু তৈরি, তারও পরীক্ষা হবে এই ম্যাচের মাধ্যমে। বিশেষকরে ব্যাট-প্যাড বা সিলি পজিশনে ফিল্ডারদের উপস্থিতি অনেক চাপ সৃষ্টি করবে।

নিউজিল্যান্ডের ফলাফল মন্দ হলেও কামরুল ইসলাম রাব্বি বা তাসকিনের অনিয়মিত চমৎকার স্পেল এই টেস্টে আরও গোছানো হোক। সাকিব ব্যাট-বলে জ্বলে উঠুক। মুশফিক, তামিম ও বিশেষকরে রিয়াদ ফিরে আসুক তার নিজ ছন্দে। করে তুলুক এই টেস্টকে আমাদের জন্য আরও স্মরণীয়।

/কেআর/

লাইভ

টপ