অন্যতম সেরা ইনিংসটাই যেন খেলতে পারেন মুশফিকরা

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২০:৩৩, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৬, মার্চ ০৭, ২০১৭

গাজী আশরাফ হোসেন লিপুভারত প্রায় নিয়মিতই দেশের মাঠের টেস্ট ম্যাচে এক ইনিংসে ৬০০ বা তার বেশি রান করছে। তবে আমাদের বিপক্ষে ইনিংস ঘোষণা করার আগে অনায়াসে যে ৬৮৭ রান করল, তার পেছনে তাদের ব্যাটিং দক্ষতার চেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছেন আমাদের খেলোয়াড়রা! সোজাভাবে বলতে গেলে আমাদের বাজে ফিল্ডিং। আমাদের অত্যন্ত দুর্বল ক্যাচিং, স্টাম্পিং ও রান আউটের সুযোগ নষ্টের পুরো ফায়দা তুলে নিয়েছে ভারত।

ফিল্ডিংয়ে এই ধারাবাহিক দৈন্যতা একটা দল হিসেবে ব্যাট-বলে লড়াই চলার সময় চাহিদা মোতাবেক উজ্জীবিত করতে পারছে না। মেহেদী হাসান মিরাজের অসাধারণ ক্যাচও তাই যথেষ্ট কার্যকর হলো না তার সতীর্থ খেলোয়াড়দের বাজে ফিল্ডিংয়ের জন্য। নইলে এমন সহজ স্টাম্পিং মুশফিক কেন মিস করবেন, কেনই বা মুঠোর মধ্যে থাকা বল ওভাবে ছেড়ে দেবেন তামিম!

যখন আমাদের সেরা স্পিনার একটি ব্রেক থ্রু দিতে না পারেন, তখন ভারতের ছয় ব্যাটসম্যানের মধ্যে পাঁচজনের সফল হওয়াটা মোটেও অস্বাভাবিক দেখায় না। বোলাররা বিভিন্ন সময় আউটের যে সুযোগ তৈরি করেছেন, তার জন্য এই অনভিজ্ঞ বোলাররা কিছুটা হলেও কৃতিত্ব পেতে পারেন। বিশেষকরে তাইজুল ইসলাম। এই স্পিনার দলে নিজের জায়গার জন্যও লড়াই করছেন, যদিও এই ম্যাচে তিনি তার নিশানা, বোলিংয়ে ভিন্নতা ও উইকেট নিয়ে স্পিন আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাতে একাদশে তৃতীয় স্পিনারের সংযোজন করার বিষয়টির যথার্থতা ফুটে উঠেছে। ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে ডানহাতি স্পিনারও যে যথেষ্ট কার্যকর হতে পারে, সেটা দেখিয়েছেন মিরাজ। যেটা দেশের উঠতি অফস্পিনারদের অনুপ্রাণিত করবে। তবে উইকেট থেকে সাহায্য না পেলে দেশের বাইরে সাকিবকে তার জাত চেনানোর জন্য আরও চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

এই ইনিংসে দুই-দুইবার নতুন বলে বোলিং করার সুযোগ হয়েছে তাসকিন আহমেদ ও কামরুল ইসলাম রাব্বির। কিন্তু উইকেটের চরিত্র অনুযায়ী চমৎকার লাইনের ওপরে বল কিভাবে করতে হয়, দিন শেষে ভারতের তিন বোলারের করা ১৩ ওভার লক্ষ্য করে থাকবেন তারা নিশ্চয়। তাসকিন কি আসলেই বেশি মাত্রায় শর্টপিচ বল করেন নাকি বল ডেলিভারির সময়ের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ যথেষ্ট নয়, এই বিষয়টি আমি নিশ্চিত নই। আশা করি দলের বোলিং কোচ হিসেবে কোর্টনি ওয়ালশের সংযোজনের প্রতিফলন আগামীতে ক্রমান্বয়ে বোলারদের উন্নয়নের মাধ্যমে দেখতে পাব।

ডিআরএস ও আম্পায়ারস কলের সংমিশ্রনে নেওয়া সিদ্ধান্ত বড় দলের বিপক্ষে আম্পায়ারদের আরও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে। আইসিসির নিয়মিত অক্টোবরের বাৎসরিক সভায় (ক্রিকেট কমিটি) বিষয়টিকে পরিশোধিত করে প্রযুক্তি নির্ভরই করা উচিত।

এই দুই দিনে পুরনো বলের ছোট একটু সময়ে কিছু কিছু বল টার্ন করেছে। দ্বিতীয় দিনে তার সংখ্যাটা বাড়লেও ৫৪০ বলের মধ্যে ২০ থেকে ২৫টির বেশি হবে না। আর তৃতীয় দিনে সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কিছুটা, তবে বাজেভাবে পিচের ডিকোরেশন হবে না বলে আমার ধারণা।

দ্বিতীয় দিনের শেষটা নেহাত মন্দ হয়নি। তবে টেস্ট ফরম্যাটে আমাদের দলে আছেন অনেক বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। নতুন বলে কুমার সাঙ্গাকারার মতো ব্যাট-প্যাড নিয়ে সফটহ্যান্ডে খেলা সৌম্য সরকার বাইরের বলগুলোকে ছাড়তে পারলে হয়তো অপরাজিতই থাকতেন। শেষ ওভারে উমেশ যাদবের বাইরের বলটা খেলতে গিয়ে তামিম উইকেট দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন, ভারতের লোকেশ রাহুল কিন্তু ওভাবে খেলেই আউট হয়েছিলেন।

তিন পেসারের সংযোজনে প্রাথমিকভাবে কোহলি সফল। আগামীকাল (শনিবার) দিনের শুরুতে, মাঝে রিভার্স সুইং ও দিন শেষে নতুন বল ব্যবহারের সুযোগ তিন সিমার সংযোজনের যথার্থতায় ভূমিকা রাখবে। আমার বিশ্বাস স্টাম্পের বেশি বাইরের বল যদি আমরা তাড়া করে মারতে না যাই এবং উড়িয়ে মারার চেষ্টা না করি, তাহলে আমাদের জুটিগুলোও লম্বা হবে। নইলে উইকেটে আসা নতুন ব্যাটসম্যানদের ওপর যে মনস্তাত্তিক চাপ প্রয়োগ করবেন কোহলি, তা মোকাবিলা করা কঠিন হবে। ড্রেসিং রুমকে আশ্বস্ত করার জন্য দ্বিতীয় ও তৃতীয় উইকেটে দুটো জুটি হওয়া খুব জরুরি। তাই যথেষ্ট অভিজ্ঞ ব্যাটিং বিভাগকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটাই নিতে হবে। অন্য ব্যাটসম্যানদের পাশাপাশি মুমিনুল হক ও বিশেষকরে মাহমুদউল্লাহকে নিতে হবে বড় দায়িত্ব।

ফলোঅন এড়াতে কতদূর যেতে হবে, তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে ব্যাটসম্যানদের ভাবনায় থাকুক এই ঐতিহাসিক টেস্টে যেন ব্যাট হাতে নিজের অন্যতম সেরা ইনিংস খেলতে পারি।

/কেআর/

লাইভ

টপ