শেষ দিনের প্রথম সেশনই ঠিক করে দেবে ম্যাচের গতিপথ

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২০:২৩, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৪, মার্চ ০৭, ২০১৭

গাজী আশরাফ হোসেন লিপুআগেই বলেছিলাম চতুর্থ দিনে আমরা কতদূর যেতে পারব, সেটা নির্ভর করবে মুশফিক ও মিরাজের ওপর। মিরাজের আউটে শুরুতে ধাক্কা খেলেও শেষ দিকের ব্যাটসম্যানরা যেভাবে অধিনায়ক মুশফিককে সমর্থন দিয়ে গেছে, সেটা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। অনেক দিন পর বাংলাদেশের ইনিংসের শেষ দিকটায় এমনটা দেখলাম।

একই সঙ্গে এটাও আবার ফুটে উঠেছে ছয় নম্বরে ব্যাটিং করায় আবারও সঙ্গীর অভাবে ভুগলেন মুশফিক। সঙ্গ তিনি পেয়েছেন, তবে সেটা টেল এন্ডারদের কাছ থেকে। তাই চাপ ছিল তার ওপর সব সময়। চাপ জয় করে এই ম্যাচেও করলেন সেঞ্চুরি, তার আগে নিউজিল্যান্ড সিরিজেও বড় ইনিংস খেলা মুশফিকের সামর্থ্য নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। প্রশ্ন শুধু এটাই, যার লম্বা ইনিংস খেলার সামর্থ্য আছে, তিনি কেন এত নিচে ব্যাটিং করছেন? তাই আমার মনে হয় সামনের দিনগুলোতে নিজের জায়গা নিয়ে অধিনায়ক হিসেবে তিনি যেমন ভাববেন, একই সঙ্গে চিন্তা করবেন টিম ম্যানেজমেন্টও।

এখনকার ক্রিকেটে ইনজুরির দুশ্চিন্তা দলের মধ্যে থাকে সবচেয়ে বেশি। কোনোভাবে যদি খেলোয়াড়দের ওপর থেকে শারীরিক চাপ কিছুটা কমানো যায়, অধিনায়ক সেই পথটাই নেন বেছে। ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি বাংলাদেশকে ফলোঅনে না ফেলে সেই কাজটাই করেছেন। নিজেরা দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে পড়ে বিশ্রাম দিয়েছেন খেলোয়াড়দের।

চতুর্থ দিনে উইকেটের চিত্র পাল্টাবে, সেটাই স্বাভাবিক। তবে ভারতীয় উইকেটে সচরাচর যেমনটা আমরা দেখি, তেমনটা দেখা যায়নি। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটই ছিল। কিছু বল টার্ন করা ছাড়া উইকেটে প্রভাব বিস্তার করেছে ব্যাটসম্যানরাই। আর ভারত যে ব্যাটিংয়ে নেমে আমাদের বোলারদের ওপর চড়াও হবে, সেটা অনুমিতই ছিল। এরপরও বলব, ২৯ ওভার আমরা খুব একটা খারাপ বোলিং করেনি। ওদের ৪টা উইকেট তুলে নিয়েছি, ৫টাও হতে পারতো যদি না ক্যাচ মিস করতেন সাকিব কিংবা মিরাজ।

বোলিংয়ের প্রসঙ্গে বলল, যদি ফিটনেসের কোনও সমস্যা না থেকে থাকে, তাহলে কামরুল ইসলাম রাব্বিকে ব্যবহার করা যেত। তাতে শ্রীলঙ্কা সিরিজের আগে একটা প্রস্তুতিও হয়ে যেত তার। কারণ দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিং করার সুযোগ আমাদের বোলারদের খুব একটা হয় না। এবার খুব অল্প সময়ের জন্য হলেও পাওয়া সুযোগটা হাতেই পেলেন না কামরুল। একমাত্র পেস বোলার হিসেবে দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিং করা তাসকিন ভালো করেছেন। উন্নতি যে হয়েছে সেটা তার পাওয়া ২ উইকেটই বলে দেয়। যদিও লাইন ও লেন্থে আরও উন্নতি করতে হবে তাকে। তাসকিনের মতো সাকিবও পেয়েছেন ২ উইকেট। যেটা খুব দরকার ছিল সাকিবের জন্য। তার মতো একজন বোলারের উইকেট শূন্য থাকাটা একেবারেই বেমানান হতো। দ্বিতীয় ইনিংসে চেনা ছন্দে ফিরে নিজেকে যেমন উজ্জীবিত করেছেন তিনি, সেই সঙ্গে দলকেও করেছেন সাহায্য।

দ্বিতীয় ইনিংসে আমাদের ভালো করতে না পারার ‘দুর্নাম’ প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে একরকম। সেক্ষেত্রে চতুর্থ দিনে এসে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করাটা বাংলাদেশের জন্য ছিল চ্যালেঞ্জের। সেই চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা পেসারদের ওপর রাজত্ব করলেও পরীক্ষা দিতে হয়েছে স্পিনারদের সামনে। উইকেট থেকে পাওয়া সুবিধা ও নিজেদের দক্ষতা দিয়ে রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজা ফায়দা তুলে নিয়েছেন। বিশ্বমানের স্পিনারদের সামনে আউট হওয়া বাংলাদেশের তিন ব্যাটসম্যানই কিন্তু ফিরেছেন রক্ষণাত্মক ক্রিকেটের কারণে। রক্ষণাত্মক না খেলে উপায়ই বা কী, বিশাল লক্ষ্যের পেছনে যে ছুটছে বাংলাদেশ। তবে আজ (রবিবার) যদি শুধু একটা উইকেট হারাতাম, তাহলে বাংলাদেশ দল নিজেদের আরও বেশি উজ্জ্বীবিত করতে পারতো।

যাইহোক, সাকিব লড়াই করার মতো মানসিকতা নিয়ে ব্যাটিং করেছেন আজ। বাড়তি দায়্ত্বি নিয়ে খেলেছেন তিনি। একই সঙ্গে মাহমুদউল্লাহর কাছ থেকে একটা বড় ইনিংস চাইছি। যদিও আগামীকাল (সোমবার) প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে দিয়েই যেতে হবে আমাদের। প্রথম সেশনটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম সেশনে যদি আমরা কোনও উইকেট না হারাই, তাহলে শক্ত জায়গায় থেকে ড্র করার অবস্থানে থাকব। কিন্তু যদি দুইটি উইকেটও হারাই, তাহলেও বাঁচাতে পারব না ম্যাচ।

শেষ পর্যন্ত হার-জিত যাইহোক, আমরা লড়াই করার মতো একটা অবস্থানে যেতে পারলেও আমার কাছে হবে সেটা বড় প্রাপ্তি। সেই প্রাপ্তির কতটা কাছে যেতে পারব, সেটা সময়ই বলে দেবে।

/কেআর/

লাইভ

টপ