হারলেও ভারতের টেস্টটি বাংলাদেশের উন্নতির পক্ষেই বলবে কথা

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২১:১৮, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:২২, মার্চ ০৭, ২০১৭

গাজী আশরাফ হোসেন লিপুচতুর্থ দিনের শেষ সেশনে ৩ উইকেট হারানোর পরই প্রকৃত অর্থে এই টেস্ট ম্যাচ ড্র করার যে একটা ছোট্ট সুযোগ ছিল, তা অনেকটাই ধূসর হয়ে যায়। তবে শেষ দিনের পিচও চমৎকার ব্যাটিং উপযোগী থাকায় ম্যাচ ড্র করতে না পারার হতাশা আমাদের স্পর্শ করতেই পারে।

ব্যাট-বলে ক্রিকেট বিশ্বের ওপর প্রভাব বিস্তার করে ভারত সব সময়ই। তা ছাড়া তারা এখন টেস্ট ক্রিকেটের এক নম্বর দল, সেই দলের বিপক্ষে ম্যাচ ড্র করার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য দলের প্রয়াস ভালো লেগেছে।

ভারতের মাটিতে এমন ব্যাটিং সহায়ক পিচ পাবো, তা ছিল সবার কল্পনার বাইরে। পিচ বিশ্লেষকরাও পিচের ফাটল দেখে অতীতের মতো এই মাঠে এবারও স্পিনাররাই প্রভাব বিস্তার করবে ভেবেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে পেস বোলারদের ফুটমার্ক থেকে পিচ কিছুটা নষ্ট হয়ে যাওয়া ছাড়া বড় টার্ন বা বাড়তি বাউন্স নিয়ে স্পিনারদের সাহায্য করেনি। তবে আমাদের দলে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান বেশি থাকার কারণে বোলারদের তৈরি ফুট মার্কের যথার্থ ব্যবহার ও সর্বোচ্চ ফায়দা নিয়েছেন রবীন্দ্র জাদেজা। পিচের অবস্থার বিষয়ে সবার ধারণা ভুল প্রমাণিত হলেও দলে তিন সিমারের অন্তর্ভূক্ত যে পিচ কিউরেটর, অধিনায়ক কোহলি ও কোচ অনিল কুম্বলের পিচের আদ্যপ্রান্ত আগাম পড়ে নেওয়ারই বার্তা দেয়।

অসাধারণ ব্যাটিং উপযোগী পিচে ভারতের প্রথম ইনিংসে আমাদের এই অনভিজ্ঞ বোলাররা যে তিনটি ক্যাচ, একটি সহজ স্টাম্পিং ও একটি রান আউটের সুযোগ তৈরি করেছিল, সেটা কাজে লাগাতে না পারাটা ছিল এই ম্যাচে আমাদের পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ।

কোনও কোনও টেস্ট ম্যাচে কোনও সেশনে বোলারদের দাপট আত্মরক্ষার কৌশল অবলম্বন করে উইকেটে টিকে থাকার সর্বোচ্চ পরীক্ষা দিতে হয়। যেমনটি প্রথম ইনিংসে রিভার্স সুইংয়ের বিপরীতে মুমিনুল, মাহমুদউল্লাহ ও সাকিবকে দিতে হয়েছে। আর দ্বিতীয় ইনিংসে চতুর্থ দিনের শেষ সেশনে তামিম, মুমিনুল ও সৌম্য সরকার দিয়েছেন ভারতীয় স্পিনের বিপক্ষে। যেখানে ৩ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ ড্রয়ের আশার পথে বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ।

বিশ্বের এক নম্বর দলের বিপক্ষে বিদেশের মাটিতে ১৪টি সেশন পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার মাঝে কৃতিত্ব আছে অনেক। দ্বিতীয় ইনিংসে ভেঙে পড়ার থেকে কিছুটা হলেও অবস্থার উন্নতি হয়েছে আমাদের। সার্বিকভাবে টেস্ট অঙ্গনে এই পারফরম্যান্স বাংলাদেশের উন্নতির পক্ষেই কথা বলবে, যখন কেউ সদ্য ভারত সফর করে যাওয়া অন্য দলের ফলাফলের সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণ সামনে আনবেন।

দ্বিতীয় ইনিংসের শুরু থেকে সাকিবকে দেখলাম, দলের চাহিদা অনুযায়ী উইকেটে তার অবস্থান যাতে লম্বা সময়ের হয়-সেই দিকেই তিনি মনোযোগী। যদিও ভাগ্য তাকে সহায়তা করেনি। বোলারদের তৈরি ফুট মার্কে পড়া টার্ন ও বাউন্স করা জাদেজার ওই বলে তার কিছু করার ছিল না। কিন্তু প্রথম ইনিংসে যখন তার সামনে লম্বা ইনিংস খেলার সুবর্ণ সুযোগ ছিল, সেটি তার উদাসীন ব্যাটিংয়ে আর বড় হয়নি। দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিকের উচ্চাভিলাসী শট খেলে আউট হয়ে যাওয়াটাও ছিল এই টেস্ট আর প্রাণবন্ত না হওয়ার উল্লেখযোগ্য কারণ।

টেস্ট ম্যাচে বল খেলার কৌশলের সঙ্গে বাইরের বল দক্ষতার সঙ্গে ছাড়াটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাইরের বল ছাড়তে মাহমুদউল্লাহ আজ (সোমবার) কুশলতার পরিচয় দিয়েছেন। একদিনের ক্রিকেটে বোলাররা ব্যাটসম্যানদের দুর্বলতম জায়গায় আক্রমণে যেতে পারে না, সেই পরীক্ষা নেয় টেস্ট ম্যাচে। নিউজিল্যান্ড ও ভারত সফরে মাহমুদউল্লাহর আউটগুলি বলে দেয় কোন জায়গায় তাকে আরও পরিশ্রম করতে হবে। পিচে গিয়ে চোখ ধাঁধানো স্টোকস খেলার পাশাপাশি উইকেটে টিকে থাকা ও লম্বা জুটি গড়ার যে চাহিদা এই ফরম্যাটের, সেদিকে সৌম্য ও সাব্বিরকে মানসিকভাবে ও কৌশলগত উন্নয়নে মনোযোগী হতে হবে। বিশেষকরে মুমিনুলকে তার অন্য পজিশনের প্রতি যোগ্য সম্মান প্রদর্শন করে ধারাবাহিক হওয়ার জন্য নিজেকে তৈরি করা উচিত শ্রীলঙ্কা সফরের আগেই।

পেস বোলিং বিভাগকে নিয়ে কোর্টনি ওয়ালশকে অনেক কাজ করতে হবে। এতদিন হিথ স্ট্রিক থাকার পরও পেস বোলিংয়ে জুটি গড়ে উঠছে না অনেকদিন ধরে। অভিজ্ঞদের দলে না নেওয়া বা সাইড বেঞ্চে বসিয়ে রাখাটা বোধগম্য হতো যদি সঠিক লাইন-লেন্থে নতুনদের বল করতে দেখতাম কিংবা রিভার্স সুইং অস্ত্রটির প্রয়োগের কুশলতা দেখতাম।

ঐতিহাসিক এই টেস্টে ভারতের বিপক্ষে আমাদের পারফরম্যান্স ক্রমান্বয়ে ভালো টেস্ট দল হিসেবে গড়ে উঠার একটা ছাপ ফেলেই দেশে ফিরছে খেলোয়াড়রা। তাদের সঙ্গে ইমরুল কায়েস ও মুস্তাফিজুর রহমান যোগ দিলে পরবর্তী মাসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচের লড়াইটা হবে টেস্ট অঙ্গনে নিজেদের এগিয়ে নেওয়ার নতুন প্রয়াস।

/কেআর/

লাইভ

টপ