আত্মবিশ্বাসটা প্রতিফলিত হোক মাঠে

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২০:৫৫, মার্চ ০৬, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:০২, মার্চ ০৬, ২০১৭

দেশের বাইরে কোনও প্রতিষ্ঠিত দলের বিপক্ষে তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটেই জেতার বাসনা এত দৃঢ়ভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল কখনও তাদের মনের মধ্যে রাখেনি।

যদিও ফলাফলের অতীত পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও বলবে শ্রীলঙ্কা আমাদের চেয়ে এগিয়ে। তবে এই দ্বৈত রথেই কাউকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়। টেস্ট ক্রিকেটে আমাদের এগিয়ে যাওয়া অভিজ্ঞ ও তরুণদের সমন্বয়ে চমৎকার একটি দল এখন বাংলাদেশ। একনাগারে বেশ ক’টি টেস্ট গত কয়েক মাসে খেলেছে বিভিন্ন কন্ডিশনে এবং এই সিরিজগুলো থেকে তাদের অর্জিত ব্যক্তিগত নৈপুন্য ও নিজের ওপর আস্থা বাংলাদেশ দলকে একটা ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।

সচরাচর দলগুলি নিজের মাঠে নিজ দলের বোলিং শক্তির দিকে লক্ষ্য রেখেই পিচ তৈরি করে। আগে আমরা পেস কিংবা স্পিন-কোনও আক্রমণ দিয়েই আসলে প্রতিপক্ষের জন্য ভীতিকর কোনও অবস্থা তৈরি করতে পারিনি। আমাদের বোলিং তাই তাদের মনে খুব একটা ভয় ছড়াতো না। তবে এই সিরিজে মুস্তাফিজের সংযোজন ও সাম্প্রতিক ভারত সফরে আমাদের স্পিনের বিকল্পকে মাথায় রেখে গল টেস্টের উইকেটে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কোনও পরিবর্তন তারা আনবে বলে আমি মনে করি না।

গল টেস্ট দুই ‍দলের ব্যাটসম্যানরাই নিয়ন্ত্রণ করবে বলে আমার ধারণা। তবে সাম্প্রতিক ভারত-অস্ট্রেলিয়া সিরিজে যে নিচু মানের পিচ তৈরি হচ্ছে, তাতে একজন খেলোয়াড় সামর্থ্যের সেরাটা দিয়েও লড়াতে পারছে না পিচের অস্বাভাবিক আচরণের কারণে।

যে সিরিজে আমাদের বিপক্ষে সাফল্যের ব্যাপারে শ্রীলঙ্কা সন্দিহান, সেই সিরিজটাতেই আমরা সাংঘাতিক আত্মবিশ্বাসী। ঠিক এই সময়টায় আমার মনে হয়েছে আমাদের টেস্ট অধিনায়ককে বিচলিত করা ঠিক হয়নি। কিপিংয়ে তার দুর্বলতা আছে, তবে মাত্রাতিরিক্ত নয়। গত ১০ বছরে অনেক হেড কোচ সহ আরও সহকারী কোচ তার সঙ্গে কাজ করেছেন, করছেন; যদিও তাদের কেউই তার উন্নতির পথে এতটুকু অবদান রাখেননি। আসলে সেভাবে কেউ কাজই করেনি মুশফিকের কিপিংয়ের উন্নতির পথে। মানুষের মতো ক্রিকেটারের অসুখ নির্ণয় করা ও শুধরানোর দায়িত্ব এই হাইপ্রোফাইল কোচদের কাজের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে। গত কয়েকটি সিরিজে শুধু মুশফিক নন, অনেকের হাত থেকেই ক্যাচ পড়েছে, রান আউটের সহজ সুযোগ মিস হয়েছে। স্লিপে নিয়মিত সফলতার সঙ্গে দাঁড়ানোর মতো খেলোয়াড় সংকটই বলে দেয় কোচদের দ্বায়িত্বের কাঁধটাকেও চওড়া করতে হবে। কিপিংয়ে মুশফিকের জায়গায় সবচেয়ে ভালো সমাধান হতে পারতো নুরুল হাসান সোহান। লিটন দাস ভালো ক্রিকেটার, কিপিংটাও হয়তো মন্দ না, তবে ৭ নম্বরে ব্যাট করার জন্য নিজেকে কতটুকু তৈরি করেছেন, তা হবে পর্যবেক্ষণের বিষয়।

এই ৬-৭ নম্বর পজিশনে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে লড়াই করে সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন, নাসির হোসেন, নাঈম ইসলাম, শুভাগত হোম; সম্প্রতি নাজমুল হোসেন শান্ত খেলেছেন নিউজিল্যান্ডে। এখন প্রথম একাদশ গড়ার দৃশ্যপটেই নেই তারা, অথচ এই পজিশনেই তাদের স্পেশালিটি।

মুশফিক কিপিং করলে আমাদের এই সিরিজে ৫ জন স্পেশালিস্ট বোলার নেওয়ার একটা অপশন থাকতো, যেটা ভারত আমাদের বিপক্ষে করেছে।

১৬ জনের দল থাকাতে কোচ-অধিনায়াকের কাছে পিচের চরিত্র অনুযায়ী প্রথম একাদশ গড়ার খুব ভালো সুযোগ আছে। গলের উইকেটের চিত্র বলে সৌম্য সরকারের বড় রান করার একটা বিরাট সুযোগ আছে। তবে তাকে ও মাহমুদউল্লাহকে বাইরের বল ছাড়ার ব্যাপারে আরও মনোযোগী ও সংযত হতে হবে।

রঙ্গনা হেরাথ নিজে অধিনায়ক হওয়ার কারণে বোলিংয়ে একটু কম আসতে পারেন। অবশ্য একাদশে যদি লাকশান সান্দাকান থাকেন, তাহলে এই স্পিনার হেরাথের জন্য ট্রাম কার্ড হয়ে আবির্ভূত হতে পারেন। ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে তাদের সফলতা ছিল দুর্দান্ত, ওই সিরিজটাই হবে হেরাথের দলের বিশাল প্রেরণা।

এই টেস্ট সিরিজের ফলাফল যাইহোক, একটা মনস্তাত্ত্বিক বাধার গন্ডি অতিক্রম করে টেস্ট অঙ্গনে এগিয়ে যাওয়ার যে লড়াই শুরু করল, তা টেস্ট জুড়ে তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ফুটে উঠবে বলে আমার বিশ্বাস। শুভ কামনা রইল দলের সবার প্রতি।

ছবি : সাজ্জাদ হোসেন

/কেআর/

লাইভ

টপ