ছন্দ ধরে রাখুক সৌম্য, স্বরূপে দেখা দিক মুশফিক

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২০:৪৩, মার্চ ০৮, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৪৮, মার্চ ০৮, ২০১৭

কুশল মেন্ডিসকে দ্রুত আউট করার পর শ্রীলঙ্কাকে ৪৫০ রানের মধ্যে আটকে রাখতে পারলে ভালো লাগতো। পাঁচ সেশনের মধ্যে প্রথম সেশনটি বাদ দিয়ে চার সেশন ছিল সম্ভবত এই টেস্টের সেরা ব্যাটিং সহায়ক পিচ। তারপরও ৪৯৪ রানে ওদের আটকাতে পারাটা খুব একটা মন্দ নয়।

শ্রীলঙ্কার ১৩০ ওভারের ইনিংসে আমরা প্রায় ৭৩ ওভার পেস বোলিং করেছি, যা তারা করেছে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে। একই সঙ্গে রানের চাকাও ওরা রেখেছে সচল। এতে তিন পেসার খেলানোর সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল না, তা প্রতীয়মান হয়েছে। টিম ম্যানেজমেন্টে থাকা তিন শ্রীলঙ্কানও পিচ বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন।

তাইজুলকে অনেক লড়াই করে ভারতের বিপক্ষে দলে জায়গা পেতে হয়েছিল এবং উইকেট নেওয়ার দিক দিয়ে তিনি সাকিবকে টপকে গিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসীও ছিলেন। প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা যখন তিন স্পিনার নিয়ে খেলেছে, সে সময় একাদশ নির্বাচনে এ ধরণের ভুলে একজন খেলোয়াড় তার প্রাপ্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় টিম ম্যানেজমেন্টের দুর্বল বিচার-বিশ্লেষণের কারণে। আর বিপক্ষ দল পেয়ে যায় দুর্বল কম্বিনেশনের এক প্রতিপক্ষ।

তারকাখচিত ও যথেষ্ট অভিজ্ঞ ব্যাটিং লাইন আপ না থাকলেও শ্রীলঙ্কার টেম্পারমেন্ট, বল নির্বাচন, টাইমিং বলে দেয় এই দলটি দ্রুত সব ফরম্যাটের সঙ্গেই মানিয়ে নেওয়ার উদ্দীপনা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাবে।

দিন শেষে আমাদের অবস্থান মোটেই মন্দ নয়। অতিরিক্ত শট খেলার অভ্যাস টেস্ট ম্যাচে রানের চেয়ে আউট হওয়ার সুযোগই সৃষ্টি করে বেশি। তামিম ও সৌম্য দুজনই প্রাপ্ত সুযোগ কাজে লাগাচ্ছিলেন ভালোই। তামিমের আউট অনেকবার দেখেছি, কিন্তু কোনও উপসংহারে পৌঁছাতে পারিনি। তামিমের চোখ ও মস্তিষ্ক তার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। মুমিনুল হক পেছনে না খেলে সামনে আসলেই বেঁচে যেতেন, তবে বলটি তিনি সোজা ভেবে খেলেছিলেন, কিন্তু বলের টার্নে তিনি হেরে গেছেন। এই টেস্টে তার রান করাটা নিজের ও দলের জন্য খুবই জরুরি ছিল।

ম্যাচের শুরুর দিন বলেছিলাম শ্রীলঙ্কা দলে স্পিনার সান্দাকান হতে পারেন প্রথম সারির উইকেট সংগ্রাহকদের একজন। এই চায়নাম্যান বোলার কিন্তু ব্যাটসম্যানদের স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাট করতে দিচ্ছেন না। একই সঙ্গে ড্রেসিংরুমের পরবর্তী ব্যাটসম্যানদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়ে গেছেন ইতিমধ্যে। বোলারদের ফুট মার্ক, আমাদের দলে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের আধিক্য ও রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে তার বল করার দক্ষতা প্রশংসনীয়।

সৌম্য সরকার আছেন চমৎকার ছন্দে। দল তাকে তার দুঃসময়ে ফেলে দেয়নি। তিনি যদি বাইরের বল খেলতে গিয়ে বাড়তি শর্টস না খেলেন, তাহলে লম্বা ইনিংস খেলে তিনিই হবেন এই টেস্টে আমাদের ব্যাটিং হিরো। নিউজিল্যান্ড সিরিজের মতো মুশফিকুর রহিম নাইটওয়াচম্যান না পাঠিয়ে নিজে উইকেটে এসে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন।

এখন টেস্ট অধিনায়কের কাছে বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের চাওয়া অনেক। ইনিংসটা সমৃদ্ধ করে তাকে দিনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেশনের কঠিন সময়টায় আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) উইকেটের এক প্রান্তে দেখতে চাই স্বরূপে।

কাল অন্তত দুটি বড় মাপের জুটি আমি আশা করছি এবং সান্দাকানকে সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে পারলে তৃতীয় দিনে আমরাই আধিপত্য বিস্তার করব।

ছবি : সাজ্জাদ হোসেন।

/কেআর/

লাইভ

টপ