দুটি সেঞ্চুরি নিয়ে যেতে পারে ড্রয়ের দিকে

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২২:০৮, মার্চ ১০, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:১৬, মার্চ ১০, ২০১৭

২০১৩ সালের সঙ্গে চলতি টেস্টের পিচের আচরণগত তেমন কোনও পার্থক্য নেই। দল হিসেবে আমরা অভিজ্ঞ হয়েছি, বিপরীতে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট থেকে দারুণ কিছু খেলোয়াড় অবসরে গেছে। তাদের বিদায়ের পর তারুণ্যনির্ভর এই দলের জন্য কিন্তু বাড়তি কোনও সুবিধা দেয়নি তাদের বোর্ড, বরং দুই দল যাতে সমান সুযোগ পায়, সেভাবেই বানিয়েছে পিচ। আমাদের ব্যাটসম্যানরা প্রথম ইনিংসে সেই সুযোগটা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে পিছিয়ে থেকে শুরু করতে হতো না।

১৮২ রানে লিড থাকার পরও দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতে শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যানদের প্রথম ঘণ্টার ব্যাটিংয়ের মনোভাব ছিল কোনোভাবেই যেন ম্যাচে ফিরতে না পারে বাংলাদেশ। নির্ভুল ব্যাটিংয়ে পরীক্ষা নিয়েছে আমাদের বোলারদের। পরে পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে করেছে ব্যাটিং, এটাই আসলে টেস্টের সৌন্দর্য্য।

চতুর্থ দিনে পিচ ব্যাটিং সহায়ক থাকলেও কিছুটা মন্থর হয়েছে। বাউন্সার তার কার্যকারিতা হারিয়েছে। আমাদের তিন পেসারও কম বল করেছেন, তবে এই ইনিংসে মুস্তাফিজ অধিনায়কের জন্য আরেকটু কার্যকর হবেন বলে আশা করেছিলাম। তার বোলিংয়ের জায়গা ভালো থাকলেও টেস্ট ম্যাচে তাকে নিয়ে বাড়তি করে দুশ্চিন্তা করার খুব একটা দরকার পড়েনি লঙ্কানদের।

আমার মনে হয়েছে হেরাথ আরও আধ ঘন্টা আগেই ইনিংস ঘোষণা করতে পারতেন। যাক এই বিলম্ব ও পরপর দুই দিনের বৃষ্টি শাপে বর হয়ে এসেছে আমাদের জন্য। এখন আমাদের আরও ৯৮ ওভার লড়াই করতে হবে। এ রকম চাপের মধ্যে ম্যাচ বাঁচানোর লড়াই হবে আমাদের জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা, একই সঙ্গে চতুর্থ ইনিংসে ভালো ব্যাট করতে পারার আস্থার ভিত গড়া।

কাল (শনিবার) হেরাথ রানের বিনিময়ে উইকেট কিনতে চাইবেন, তার স্পিনাররা ব্যাটসম্যানদের বড় শট খেলতে প্রলুব্ধ করবেন। পাশাপাশি ব্যাট প্যাড বা স্লিপে ক্যাচের জন্য কাছাকাছি ফিল্ডার রেখে মানসিক চাপেরও সৃষ্টি করবেন ব্যাটসম্যানদের ওপর। শেষ দিনের প্রথম সেশনটায় যদি আমরা একটির বেশি উইকেট হারাই, তাহলে দ্বিতীয় ও বিশেষকরে শেষ সেশনে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে আমাদের ব্যাটসম্যানদের। স্পিনার সান্দাকান এখন পর্যন্ত খুব একটা কার্যকর না হলেও তার সঙ্গে পেস বোলারদের ফুটমার্ক থেকে শ্রীলঙ্কার তিন স্পিনার ফায়দা তুলে নেওয়ার মতো সুযোগ পাবেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে।

আমাদের লেজের দিকের ব্যাটসম্যানরা বেশ দুর্বল। তাই উপরের ও মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের প্রকৃত টেস্ট ম্যাচের ব্যাটিং করতে হবে চতুর্থ ইনিংসে। সৌম্য অসাধারণ শুরু করেছেন তার নিজের ধাঁচে। তামিমও অসাধারণ খেলছেন তার চরিত্রের বিপরীতমুখী ধৈর্য দেখিয়ে।

অন্তত দুটি সেঞ্চুরি পারে এই ম্যাচটার ফলাফল ড্রতে নিয়ে যেতে। নিয়মিত বিরতিতে নতুন ব্যাটসম্যান পিচে আসলে শ্রীলঙ্কার জয় ঠেকানো মুশকিল হবে। অন্যদের পাশাপাশি মুমিনুল, মাহমুদউল্লাহ ও লিটন দাসের অবদান অনেকটাই নির্ভর করবে বাংলাদেশ এই লড়াইয়ে যেতে পারবে কতদূর।

এক সময় আমরা তিন দিন কিংবা চার দিনে হেরেছি টেস্ট ম্যাচ। তাই ম্যাচ টেনে পঞ্চম দিনে নিয়ে যাওয়াটা দলের একটা উন্নতির ছাপ এবং ভিন্ন একটি পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে অতিক্রম করার নতুন অভিজ্ঞতা। বিষয়টা আমাদের সবার অনুধাবন করত হবে।

/কেআর/

লাইভ

টপ