পঞ্চম দিনের চাপটা নিতে পারেনি বাংলাদেশ

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২২:৪৬, মার্চ ১১, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৪৬, মার্চ ১১, ২০১৭

যে কাজ যত সুন্দরভাবে করা যায়, সে কাজ থেকে সফল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তত বেশি। দিনের প্রথম বলটি টেস্ট ম্যাচে অধিকাংশ ব্যাটসম্যান না খেলে ছেড়ে দিতে চায় এবং দিনটি যদি পঞ্চম হয়, তাহলে তো কথাই নেই। কারণ হচ্ছে পিচের বাউন্স, টার্ন ও বলের গতি পরখ করে নিতে চায় ব্যাটসম্যানরা।

রঙ্গনা হেরাথ পার্ট টাইম বোলার গুনারত্নের হাতে দিনের শুরুতে বল তুলে দিয়ে অধিকাংশ দর্শককে বিস্মিত করেছেন। যদিও গুনারত্নে প্রথম বলটি খেলতে বাধ্য করেছেন ব্যাটসম্যানকে এবং অল্পের জন্য ক্যাচ আউট থেকে রক্ষা পান সৌম্য সরকার। দ্বিতীয় বল খুব ছোট টার্ন সহ এত নিখুঁত লেন্থ ও লাইনে করেছেন যে তার পুরস্কার হিসেবে পেয়ে যান সৌম্যের উইকেট। ঠিক একইভাবে মুমিনুলকেও দিলরুয়ান পেরেরা প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান। প্রথম ইনিংসের মতো প্রায় একইভাবে মুমিনুলের আউট হওয়াটা ছিল দৃষ্টিকটু।

এই টেস্ট লড়াইয়ে টিকে থাকাতে হলে প্রথম সেশনটা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। অথচ প্রথম সেশনের লড়াইয়ে আমাদের ব্যাটসম্যানদের শুরু থেকেই মনে হয়েছে দিশেহারা। মাইন্ড গেমে পিচ, টার্ন ও ফুট মার্ক আগের ইনিংসের ব্যর্থতা তাদের অবচেতন মনে কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলেছে। দ্রুত দুই উইকেট হারানোর পর অনেক ব্যাটসম্যানেরই নিজের ওপর আস্থা কমে যায়, অবশ্য কিছুটা সময় ক্রিজে নিজেকে ধরে রাখলে আবার আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাটিং করা সম্ভব হয়, যেটা সাকিব কিংবা মাহমুদউল্লাহর ক্ষেত্রে একেবারেই ঘটেনি। তারা সাহায্য করলে স্বীকৃত কোনও ব্যাটসম্যান নিয়ে মুশফিক অন্তত লড়াই চালিয়ে যেতে পারতেন। সাকিব-মাহমুদউল্লাহ ব্যর্থ হলেও একটা জায়গায় মুশফিকের তৃপ্ত হওয়ার কথা। সেটা লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজের অবদান।

মুশফিক উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব ছেড়েছেন এই টেস্টেই। লিটনের ওপর তাই বাড়তি চাপ ছিল। উইকেটের পেছনের সেই চাপটা সামলে ব্যাট হাতেও খারাপ করেননি, বিশেষকরে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানরা যেখানে হতাশ করেছেন রীতিমত। প্রথম ইনিংসে ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে চেষ্টা চালিয়েছেন। মিরাজের জন্য আরও বেশি খুশি হওয়ার কথা মুশফিকের। সত্যিকার অলরাউন্ডারের ঝলক কিন্তু তিনি দেখিয়েছেন গল টেস্টে। বোলিংয়ের পর ব্যাট হাতেও দুই ইনিংসে দারুণ লড়াই চালিয়েছেন তিনি। হারের মাঝেও এই দুটো প্রাপ্তি কিন্তু সঙ্গী করে কলম্বোতে নামবে বাংলাদেশ।

ভারত-অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট সিরিজের সঙ্গে তুলনায় দাঁড় করালে গলের উইকেট ছিল অসম্ভব ব্যাটিং সহায়ক। যেখানে উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার কোনও বাড়তি চাপ নিতে হয়নি ব্যাটসম্যানদের। শ্রীলঙ্কান স্পিনারদের খুব ভালো জায়গায় বল করার কৃতিত্ব দিলে ব্যর্থতার বড় অংশ অদ্ভুতভাবে রান আউট হওয়া তামিমকে নিতে হবে। ইনিংস বড় করতে না পারার দায় তার চমৎকার স্টোকস সমৃদ্ধ ইনিংসকে স্লান করে দিয়েছে। তার সঙ্গে লেগ স্টাম্পের এত বাইরের বলকে তাড়া করে সাকিবের আউট এবং মাহমুদউল্লাহর দুই ইনিংসের ব্যর্থতা কষ্ট আরও বাড়িয়েছে মুশিফকের।

সবশেষে বলল এই টেস্টে তিন পেসার না খেলিয়ে আরও এক স্পিনার যোগ করলে হয়ত সঠিক একাদশের ফরমেশন হতো। ভালো ব্যাট করার সুযোগটা আমরা অপচয় করেছি প্রথম ইনিংসে। আর দৃষ্টিনন্দন স্টোকসের দিকে বেশি মনোযোগী না হয়ে টেস্ট ম্যাচের মেজাজে ব্যাটিং করার দিকে মন দেওয়া খুব জরুরি। সবচেয়ে বড় বিষয় ম্যাচের আগে কিংবা সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার কথা না বলে এখন আসলে সময় এসেছে মাঠে পারফরম করে কথার প্রমাণ দেওয়ার। সেটা যেমন অধিনায়কের, তেমনি অন্য খেলোয়াড়দেরও।

/কেআর/

লাইভ

টপ