স্মরণীয় এই ম্যাচে সৌভাগ্যবান খেলোয়াড়দের শুভকামনা

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২১:৫৮, মার্চ ১৪, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৫৮, মার্চ ১৪, ২০১৭

সিরিজ শুরুর আগে উজ্জীবিত ছিল বাংলাদেশ। স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তারা জয়ের স্বপ্নে ছিল বিভোর। কিন্তু তাদের আত্মবিশ্বাসের বেলুন চুপসে গেছে প্রথম টেস্টের বড় ব্যবধানে হারের পর!

দল হারার চেয়েও বড় দুশ্চিন্তা হলো মুমিনুল হক ও মাহমুদউল্লাহর বিবর্ণ ফর্ম। ক্রিকেট বিশ্বে সাকিবের রেটিংয়ের সঙ্গে মেলালে তার কাছ থেকেও অধিনায়ক মুশফিক যথাযথ সমর্থন পাচ্ছেন না। সৌম্য সরকারের ইনিংসটা শটের বাহারে ঝলমলে হলেও তা লম্বা হয়ে দলের স্তম্ভ হিসেবে কাজ করছে না। দলের একাদশের কম্বিনেশনেও আছে নানা মত।

এত সব ঝামেলা মাথায় নিয়ে শততম টেস্টের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। এই টেস্টটি আমাদের ক্রিকেট ইতিহাসের একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে এবং এই টেস্ট খেলা কোনও খেলোয়াড় দলের হয়ে ২০০তম টেস্ট খেলতে পারবেন বলে মনে হয় না। তাই যারাই একাদশে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবেন, তারা যেন দেশের মানুষের আবেগের কথাটি ভেবে এই মাইলফলকের ম্যাচটিতে নিজেদের সেরাটা উজার করে দেয়।

মুশফিকের উচিত ব্যাটিং অর্ডারে আস্থাহীন খেলোয়াড়দের একাদশের বাইরে নেওয়া। সেক্ষেত্রে মুমিনুল ও মাহমুদউল্লাহর জায়গায় ইমরুল কায়েস ও মোসাদ্দেক হোসেনকে দলে দেখা যাবে বলে আমার বিশ্বাস। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে ইমরুলকে আমার পছন্দ এবং সৌম্য তিন নম্বরে মুমিনুলের জায়গায়। সাকিবের যেমন টেস্টের চেয়ে সংক্ষিপ্ত সংস্করণে অনেক বেশি উজ্জ্বল থাকার সম্ভাবনা আছে, তেমনি সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের চেয়ে টেস্টে মোসাদ্দেককে আমার বেশি কার্যকর মনে হয় একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে। তার কার্যকর অফ স্পিন দিয়ে সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার তিনি মোটেই খারাপ করবেন না বলে আমার বিশ্বাস।

গলের উইকেটের চরিত্র কেমন হবে তা টিম ম্যানেজমেন্ট না বুঝে তিন পেসার নিয়েছিলেন। কলম্বোর পি সরা ওভালের উইকেট যদি অতিরিক্ত সবুজ না হয় তবে আমাদের দুই পেস বোলার নিয়েই খেলা উচিত। দলে যখন পাঁচজন সিমারের অন্তর্ভুক্তি আছে, সেখানে হিসাব-নিকাশের অনেক জায়গা আছে। মুস্তাফিজুর রহমান যে গতিতে বল করছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্রেক থ্রু যখন আসছে না, তখন তাকে আর খুব বেশি না খেলিয়ে টি-টোয়েন্টি ও একদিনের ম্যাচের জন্যই রেখে দেওয়া উচিত। তাসকিন এই টেস্টে খেললে সফরের বাকি অংশের জন্য নিজেকে ফিট রাখতে পারবেন কিনা, সেটা নিয়ে সংশয় আছে। তা ছাড়া লাইন লেন্থে যথেষ্ট যত্নশীল ছিলেন না তিনি প্রথম টেস্টে। নতুন বলে বল করার দায়িত্ব একবারের বেশি পাননি। সেখানে রুবেল হোসেনের একটা সুযোগ পাওয়া উচিত, নতুনের পাশাপাশি তার কার্যকর রিভার্স দিয়ে দেশের হয়ে অবদান রাখতে পারবেন কিনা, সেই পরীক্ষাটাও হাথুরুসিংহে নিতে পারেন। আর রুবেলকে দলে রেখে সমালোচকদের মুখ বন্ধ রাখাটাই যদি মুখ্য উদ্দেশ্য হয়, তবে কামরুল ইসলাম ও শুভাশিষ নতুন বল ভাগাভাগি করতে পারেন।

দলের এই পারফরম্যান্সের পর একটা বার্তা সবার কাছে যাওয়া উচিত, দলে থাকতে হলে ভালো খেলার চেষ্টার পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে। স্পিনার হিসেবে তাইজুল ইসলাম অন্তর্ভু্ক্ত হলে সম্মিলিত আক্রমণ অনেক গতি পাবে, যেটার জোগান সাকিবের কাছ থেকে প্রত্যাশা মতো দল পাচ্ছে না।

গত কিছুদিনে টেস্ট ম্যাচে টস জিতলে প্রায় সব দলই আগে ব্যাট করতে চায় এবং আমাদের দলে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান বেশি থাকাতে ফুটমার্কটা ব্যবহারে প্রতিপক্ষের স্পিনার বাড়তি সুযোগ পায়। তবে কাল (বুধবার) এই স্মরণীয় টেস্টে যদি প্রথমে আমরা ব্যাট করি, তাহলে লঙ্কান পেস বোলাররাও আমাদের ব্যাটসম্যানদের একটা ভালো পরীক্ষা নেবে প্রথম দুই ঘণ্টায়। বলে যদি সাইড মুভমেন্ট না থাকে, তাহলে দুশ্চিন্তার কোনও কারণ দেখছি না।

বল দিয়ে তো আর সম্ভব নয়, তবে আশা থাকবে আমাদের অনেক ব্যাটসম্যানের শতকের আলোয় আলোকিত হয় যেন শততম টেস্ট। শুভ কামনা রইল সৌভাগ্যবান দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য।

/কেআর/

লাইভ

টপ