দ্রুত চান্ডিমালের উইকেট তুলে নেওয়াটাই এখন মূল লক্ষ্য

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২১:৪৮, মার্চ ১৫, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৪৮, মার্চ ১৫, ২০১৭

টেস্ট ম্যাচে টস হারের কারণে আকাঙ্খিত ব্যাটিং করতে না পারলে অধিনায়ক সচরাচর প্রথম সেশনে বোলারদের সফলতার দিকেই থাকেন তাকিয়ে। শততম টেস্টের প্রথম সেশনে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের বোলাররা কিন্তু প্রথমে ব্যাটিং না পাওয়ার সেই হতাশা মিলিয়ে দিয়েছে দূর দিগন্তে।

পাঁচ পেসারের মধ্যে একাদশে যখন দুজন জায়গা পান, তখন বুঝতে হবে সেই বিভাগেই হয়েছে যোগ্যতার সবচেয়ে বড় লড়াই। প্রথম টেস্টে ভালো জায়গায় বল করার পুরস্কার পেয়েছেন শুভাশীষ রায়। আর মুস্তাফিজুর রহমান যখন নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য তার ব্যাকুলতার কথা টিম ম্যানেজমেন্টকে জানান, তখন বিকল্প কোনও কিছু ভাবার আর অবকাশ থাকে না। আর বল হাতে কিছু করে দেখানোর সুযোগ না পাওয়ার জন্য বাকিদের জন্য রইল সমবেদনা ও পরবর্তী সুযোগের জন্য প্রস্তুত থাকার আহবান।

দিন শেষে বলতে হবে ভালো লাইন-লেন্থের পাশাপাশি শুভাশীষ ছিলেন বেশ আক্রমণাত্মক। তবে ক্লান্তির চাপে দ্বিতীয় নতুন বলে প্রয়োজনীয় ব্রেক থ্রু দিতে পারেননি এবং বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের জন্য তার বলের লাইনে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা দরকার। মুস্তাফিজ যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন এবং কম খরচে দুটি উইকেট নিলেও দিনের শেষ দিকে পুরনো বলে তার কাছ থেকে একটা ব্রেক থ্রু পেলে দলের চাহিদাটা পূরণ হতো আরও ভালোভাবে।

গল টেস্টে শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানরা প্রথম সেশনটিতে যতটা মনোযোগী ও স্টোকস খেলার ব্যাপারে সংযত ছিলেন, আজ (বুধবার) ছিলেন অনেকটাই বিপরীত। আমাদের বোলাররা ভালো লাইনে বল করাতে তাদের বল ছাড়ার সংখ্যা ছিল অনেক কম। আগের টেস্টে রান বেশি করায় কলম্বো টেস্টে বেশি স্টোকস খেলেছেন তারা, আর সেটাই হয়েছে বাংলাদেশের জন্য মঙ্গলের। বেশি শট খেলতে যাওয়ায় সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং সেই সুযোগগুলো নষ্ট করেননি সৌম্য সরকার কিংবা মুশফিকুর রহিম। তাদের মতো বাকি খেলোয়াড়ও ছিলেন তৎপর, সব মিলিয়ে আজ দলের ক্যাচিং ও স্টাম্পিং ছিল দুর্দান্ত।

স্পিন আক্রমণে মেহেদী হাসান মিরাজ এখনও নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। এই টেস্টে সুযোগ পাওয়া তাইজুল ইসলাম মন্দ নন, তবে সাকিব আল হাসানের কাছ থেকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেশনে দলের প্রত্যাশা ছিল প্রয়োজনে কিছু রান খরচ হলেও শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং স্তম্ভ দীনেশ চান্ডিমালকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠানো। তাহলে হয়তো আজই শ্রীলঙ্কাকে অলআউট করে দেওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হতো।

টেস্ট দলে দীর্ঘ দিনের নিয়মিত দুই মুখ-মুমিনুল হক ও মাহমুদউল্লাহ একাদশে নেই। লিটন দাসের ইনজুরির কারণে বাংলাদেশ তাদের সম্ভাব্য সেরা ব্যাটিং নিয়ে এই টেস্টে খেলছ। ভাগ্য শততম টেস্টে লিটনকে পরিপূর্ণভাবে প্রমাণ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করল।

তবে নতুন সংযোজন সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন, তাইজুল ও ইমরুল কায়েসের উপস্থিতি ফিল্ডিংয়ে মাঠে দলকে উজ্জ্বীবিত করলেও ম্যাচের শেষ সেশনে বেশ কিছু খেলোয়াড়ের মুভমেন্টে ছিল ক্লান্তির ছাপ। চোট থেকে মাত্র ফিরে আসা ইমরুলের জন্য সিলি পয়েন্ট বা ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে ফিল্ডিং পজিশন মোটেই আদর্শ বলে আমার মনে হয়নি।

উপরের সারির স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের আউট করার পাশাপাশি চাপের মাঝে থাকা বিপক্ষ দলের লেজের ব্যাটসম্যানদের উইকেট দ্রুত তুলে নেওয়ার ব্যাপারে আমাদের বোলারদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। ২৩৮ রানে ৭ উইকেট তুলে নিয়ে খুব একটা খারাপ জায়গায় নেই বাংলাদেশ। তবে অন্য প্রান্ত থেকে সহায়তা পেলে চান্ডিমাল হয়ে যেতে পারেন আমাদের মাথা ব্যথার অন্যতম কারণ। তাই সকালে দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়াই প্রধান কাজ। আর তাতে চান্ডিমালের উইকেট পাওয়াটাই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য।

/কেআর/

লাইভ

টপ