সাকিবের ব্যাটিং থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত সবার

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২২:২১, মার্চ ১৭, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:২১, মার্চ ১৭, ২০১৭

শততম টেস্টের তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের ব্যাটিং দারুণ উপভোগ করলাম। একটা হালকা উৎসবের আমেজ এনে দিল স্বীকৃত শেষ তিন ব্যাটসম্যানের সঙ্গে মেহেদী হাসান মিরাজের ইনিংসটির সম্মিলিত প্রয়াস।

বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের অনেক সহ-নায়ক থাকলেও মূল নায়ক হয়ে আবির্ভূত হলেন সাকিব আল হাসান। দ্বিতীয় দিনের শেষ লগ্নে উইকেটে এসে তার নিজের সভাবসুলভ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাটি করে দিন শেষ করেন। যদিও তৃতীয় দিনে ব্যাটিংয়ের ধাঁচ পাল্টে দলকে বিপর্যয় থেকে বের করে নিয়ে এলেন এবং দারুণ সঙ্গ দিলেন মুশফিককে। সেই সঙ্গে নিজের সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে স্মরণীয় করে রাখলেন শততম টেস্ট। শটস তিনি খেলেছেন ঠিকই, তবে তার ধৈর্যশীল ব্যাটিং, বল ও শট নির্বাচন এবং সব মিলিয়ে উইকেটে উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছিল বড় একটা ইনিংস তিনি খেলতে যাচ্ছেন আজ (শুক্রবার)।

রঙ্গনা হেরাথ দ্বিতীয় নতুন বল নিলেও প্রথম ওভারেই এভাবে সেট হয়ে যাওয়া মুশফিককে বোল্ড করে দেবেন, ভাবিনি। সুরঙ্গা লাকমালকে কৃতিত্ব দিতে হবে তার চমৎকার লাইন ও লেন্থের জন্য। তবে আত্মবিশ্বাসী মুশফিক আরেকটু সচেতন থাকলে হয়তো ব্যাটেই বলটা খেলতে পারতেন এবং আমাদের প্রথম ইনিংসটি হয়তো আরও লম্বা হতো।

দ্বিতীয় দিনের শেষ সেশনের শেষ ২৫ মিনিট আমাদের দায়িত্বহীন ব্যাটিংয়ের অপবাদ সাকিব তার চরিত্রের বিপরীতমুখী ব্যাটিং করে অনেকটাই ঘুচালেন আজ। দিন শেষে তার সাক্ষাৎকারে যা বলেছেন, তার মর্মকথা হলো-দলের বিপর্যয় সামাল দিতেই আমরা তার এই দায়িত্বশীল ব্যাটিং দেখলাম। দল বিপদে কিংবা ভালো অবস্থা, যেমনই থাকুক না কেন, বদলে যাওয়া উপলব্ধিটা তিনি যদি ভবিষ্যতে ধরে রাখেন, তাহলে তার কাছ থেকে এই ম্যাচে রান করা অন্য ব্যাটসম্যানরাও নায়ক হওয়ার প্রতিযোগিতায় নামবেন।

‘দিনেশ চান্ডিমালের দায়িত্বশীল ব্যাটিং থেকে নেওয়া শিক্ষা আজ আমাকে এমন একটি ইনিংস খেলতে অনুপ্রাণিত করেছে’-দিন শেষে সাক্ষাৎকারে সাকিবের এই উক্তি বাংলাদেশের সব স্তরের ক্রিকেটারদের জন্য শিক্ষামূলক হয়ে থাকবে। র‌্যাংকিংয়ে সাকিব ও চান্ডিমালের বিস্তর ফারাক থাকলেও দিন শেষে সাকিব দলের সেরা পারফরমার এবং তার ব্যাটিংয়ে ১২৯ রানের লিড পাই আমরা। এত ভালো একটা স্মরণীয় ইনিংস খেলার পর সাকিবের মনটা যে কারণে খারাপ থাকতে পারে, তা হলো তিনি কেন মোসাদ্দেক হোসেনকে উইকেটে আরেকটু সঙ্গ দিতে পারলেন না!

মোসাদ্দেকের ব্যাটিং এতই সাবলীল ছিল যে মনেই হয়নি তিনি জীবনের প্রথম টেস্ট ইনিংস খেলতে নেমেছেন। ৮ নম্বরে নেমেই দ্বিতীয় নতুন বল সামাল দিয়েছেন এবং তার দুর্ভাগ্য অভিষিক্ত হিসেবে প্রথম সেঞ্চুরিটা করা হলো না। ব্যাটিং কোচের কাজ হবে এশিয়ার বাইরের ভিন্ন কন্ডিশনেও মোসাদ্দেক যাতে সফল হতে পারেন, সময় পেলে তা নিয়ে কাজ করা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি যে আরও উপরের অর্ডারে জায়গার দাবিদার হবেন, সে ব্যাপারটি নিশ্চিত। অভিজ্ঞ ইমরুল কায়েস বা সাব্বির রহমান কী আজ কিছু শিখলেন মোসাদ্দেকের ব্যাটিং থেকে?

পিচ থেকে সিমাররা ফায়দা তুলতে পারবেন না বলেই এক সিমারে খেলছে শ্রীলঙ্কা। কিন্তু লাকমাল একাই কয়েকটি স্পেলে যে চমৎকার বোলিং করেছেন, উইকেট নিয়েছেন, আউটের সুযোগ তৈরি করেছেন-তা ছিল প্রশংসনীয়। উইকেট নিয়ে হেরাথকে চমৎকার সহযোগিতা করেছেন চায়নাম্যান স্পিনার সান্দাকান।

দ্বিতীয় ইনিংসে শুভাশীষ রায় সুযোগ তৈরি করলেও মুশফিক তার সাধ্যের সর্বোচ্চটা দিয়েও কঠিন ক্যাচটি ধরতে পারেননি। ইতিমধ্যে অবশ্য শ্রীলঙ্কার পেয়ে গেছে চমৎকার শুরু। কাল (শনিবার) পিচ কতটুকু সাহায্য করবে, সেটা না ভেবে ঠিক জায়গায় বল করাটাই হবে বোলারদের মুখ্য কাজ। চতুর্থ দিনের এই উইকেটে মুস্তাফিজের কাটার যথেষ্ট কার্যকর হওয়া উচিত।

সব মিলিয়ে শততম টেস্ট্ সত্যিই ‍উপভোগ করছি, দুই দলের সামনেই টেস্ট ম্যাচটি জেতা বা হারার সম্ভাবনা অনেক বেশি। একমাত্র বৃষ্টিই খেলাটিকে ড্রয়ের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

এখন প্রাপ্ত লিডের সঙ্গে মুশফিকের অধিনায়কত্ব, বোলারদের উইকেট তুলে নেওয়ার প্রচন্ড আকাঙ্খা ও ভালো ফিল্ডিংই পারে শ্রীলঙ্কান শিবিরে আতঙ্ক ছড়াতে। কাল প্রথম সেশনের লড়াইটায় এগিয়ে যেতে না পারলে চাপটা উল্টো আমাদেরকেই চেপে ধরতে পারে!

/কেআর/

লাইভ

টপ