লক্ষ্যটা যেন ১৭৫ রান ছাড়িয়ে না যায়

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২৩:২৯, মার্চ ১৮, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:২৯, মার্চ ১৮, ২০১৭

খেলার প্রথম সেশনে নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর যেভাবে ৫টি উইকেট দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশ তুলে নিয়েছে, সেটা ছিল অসাধারণ। বলতে গেলে যা এই টেস্ট ম্যাচটি নিজেদের করে নেওয়ার লড়াইয়ে সর্বোচ্চ প্রাপ্তি। কারণ একদিকে দিমুথ করুণারত্নে খেলে যাওয়ার কারণে উইকেট পড়েছিল অন্য প্রান্ত থেকে। কোনও টেস্ট ম্যাচ সিরিজে সমতা আনার লক্ষ্যে দেশের বাইরে প্রতিপক্ষকে নিয়ন্ত্রণ করে ম্যাচে ফেরার এক অনন্য সফলতা আমাদের খেলোয়াড়দের।

প্রত্যাশা ছিল পুরনো বলে উইকেট থেকে সুবিধা নিতে পারবেন মুস্তাফিজ। সেটা তিনি করে দেখিয়েছেন মুশফিকের সহায়তায়, পেয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ ৩ উইকেট। সাকিব আজ (শনিবার) মাঠে দারুণভাবে নিজের কাজটা করেছেন। নিজে উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি সতীর্থ বোলারকে পরামর্শ দিয়ে তার সরব উপস্থিতির জানান দিয়েছেন। গত কিছুদিনে কোনও টেস্ট ম্যাচে নিজে উদ্যোগী হয়ে তাকে এত বড় স্পেলে বল করতে দেখিনি। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন আজকের মধ্যে শ্রীলঙ্কাকে অলআউট করে দিতে পারলে চতুর্থ ইনিংসে আমাদের রান তাড়ার সংখ্যাটা কম হবে।

যদি আজ আমরা আম্পায়ারদের সিদ্ধান্তের বিপরীতে রিভিউ চাওয়ার সিদ্ধান্তে ভুল না করতাম, তাহলে দিলরুয়ান পেরেরা অনেক আগেই আউট হয়ে যেতেন। আমাদের বোলার এবং উইকেটরক্ষককে খেলার মাঝে সক্রিয় থাকা অবস্থায় রিভিউয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ও তার থেকে সফলতা পাওয়ার জায়গাগুলোকে ধারালো করার জন্য আমাদের ভিডিও বিশ্লেষক ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আমার বিশ্বাস।

সাকিব উইকেট নেওয়ায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখায় এবং লম্বা স্পেলে বল করার চমৎকার মেজাজে থাকলেও দিনের শেষ সেশনে তাকে ছোট ছোট দুটো বিশ্রাম দিয়ে তাইজুলকে ব্যবহার করা উচিত ছিল। দিনের শুরুতে ব্রেক থ্রু দিলেও মিরাজ আজ বল হাতে মোটেও উজ্জ্বল ছিলেন না। লাকমালের দিনের শেষ পর্যায়ে মেজাজ হারানোর ফায়দাটা শুভাশীষ বা অন্যরা নিতে পারলে তাকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠানো যেত। তবে দুই ইনিংসে সব মিলিয়ে ১৮ উইকেট তুলে নিয়ে আমাদের বোলাররা তাদের নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ রাখলেন। যদিও মুশফিক ও সৌম্য সরকারের ক্যাচ ধরার সফলতা এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

চতুর্থ দিনের উইকেট পর্যায়ক্রমে ব্যাটিং থেকে যতটা বোলারদের সহায়তা করবে ভেবেছিলাম, তা ঘটেনি। শ্রীলঙ্কার অন্তত তিনজন ব্যাটসম্যান ছেড়ে দেওয়ার মতো বলে আউট হয়েছেন। শ্রীলঙ্কার সাতজন স্বীকৃত ব্যাটসম্যানই আউট হয়ে গেছেন। একজন পেস বোলার কমিয়ে বাড়তি ব্যাটসম্যান খেলিয়ে লঙ্কানরা সফল হয়নি।

টেস্ট ব্যাটসম্যানদের ধৈর্য ও বলের নির্বাচনের গুরুত্ব যে অপরিসীম, তা দুই দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারাও দেখলেন। তার মাঝে করুণারত্নে ও পেরেরার ব্যাট হাতে লড়াই করাটা উপভোগ করেছি।

ইতিমধ্যে ১৩৯ রানে এগিয়ে গেছে শ্রীলঙ্কা। তবে আমাদের লক্ষ্যটা যেন ১৭৫ রান ছাড়িয়ে না যায়। তাইজুলের বাঁক নেওয়া বলে হেরাথ যেভাবে আউট হলেন ও দিনের শেষ বলে মোসাদ্দেকের টার্ন ও বাউন্স করা বলাটা কিন্তু বলে দিচ্ছে শেষ দিনে সময় যত গড়াবে, স্পিনাররা ততই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবেন উইকেটের বাড়তি সুবিধা নিয়ে।

আমাদের দলে আছে পাঁচজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান, যাদের জন্য বোলারদের তৈরি করা ফুটমার্কের সর্বোচ্চ সহায়তা নেবে ওদের স্পিনাররা। তবে আমরা যদি লুজ বল থেকে ফায়দা তুলতে পারি, তবে হেরাথ স্পিনারদের জন্য ব্যাট-প্যাড বা হঠাৎ লাফিয়ে উঠা বল থেকে ক্যাচের আশায় সবসময়ের জন্য ক্লোজিং খেলোয়াড়ের সংখ্যা বাড়াতে পারবেন না। পরিস্থিতির আলোকে যদি সেই ঝুঁকি তাকে নিতে হয়, তাহলে অরক্ষিত সীমার ফিল্ডারের অভাব বোলারদেরকেও অনাস্থায় ভোগাবে।

পেসার হিসেবে এক লাকমাল ও স্পিন সমৃদ্ধ এই আক্রমণের বিপক্ষে মুশফিক কাল চার নম্বরে ব্যাট করুক এবং এক প্রান্ত আগলে রেখে সঙ্গীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে খেলাকে নিয়ন্ত্রণ করুক-এটাই চাওয়া থাকবে অধিনায়কের কাছে।

আমাদের খেলোয়াড়রা জয়ের লক্ষ্যে রান তাড়া করার নতুন মিশনে নিজেদের শান্ত রাখুক, এটাও থাকবে চাওয়া। তারা উইকেটের আচরণের সঙ্গে মানিয়ে একটি প্রতিষ্ঠিত ও পূর্ণাঙ্গ দলের বিপক্ষে দেশের বাইরে টেস্ট ম্যাচ জয়ের নতুন ধারা সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন বলে আমার বিশ্বাস।

/কেআর/

লাইভ

টপ