দেশের বাইরে এই জয়কেই এগিয়ে রাখব

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২২:২০, মার্চ ১৯, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:০২, মার্চ ২০, ২০১৭

অভিনন্দন বাংলাদেশ দলের সব খেলোয়াড়, কর্মকর্তাকে জয় বাংলা কাপ টেস্ট ম্যাচ সিরিজে পিছিয়ে থেকেও রবিবার সেই সিরিজে সমতা আনার জন্য।

শততম টেস্ট আমাদের জন্য নিশ্চয় একটা মাইলফলক এবং সেই ইতিহাসের সাক্ষী হতেই আমার শ্রীলঙ্কায় আসা। মনের কোণায় আশা ছিল প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড়ে সমৃদ্ধ হলেও কিছুটা অনভিজ্ঞ এই শ্রীলঙ্কা দলের বিপক্ষে একটা জয় পাওয়া সম্ভব, কিন্তু যখন মনে হয়েছে ২০১৬ সালে এই দলই অস্ট্রেলিয়াকে যেভাবে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল, তখন এটাই মনে হয়েছে মাঠে ভালো করাটাই তো আসলে জয়-পরাজয়ের একমাত্র চাবিকাঠি।

সিরিজের শুরুতে লিখেছিলাম এই সিরিজে ক্রিকেট বিশ্ব সম্ভবত দেখতে পাবে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে দেশের বাইরেও ভালো ক্রিকেট খেলছে। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস এবং টেস্ট ম্যাচের পঞ্চম দিনে ব্যাট করেছে একটা লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের জন্য। বাংলাদেশের জন্য এই নতুন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়াটাও ছিল এক ধরনের বাড়তি চাপ। যার একপিঠে ছিল জয়, অন্য পাশে হারের হাতছানি। আজ জয়ের স্বাদ পেলেও ঘাম ঝরাতে হয়েছে পাঁচ দিন ধরেই। আর এখানেই আনন্দ ও তৃপ্তির স্বাদটা সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের চেয়ে ভিন্ন। এই টেস্ট ম্যাচটিকেই আমি প্রতিপক্ষ ও উপলক্ষের বিচারে দেশের বাইরের জয়গুলো থেকে এগিয়ে রাখব।

শেষ ইনিংসের রানের লক্ষ্যটা ১৯১-এ বেঁধে রাখার জন্য এগিয়ে রাখব গোটা টেস্ট ম্যাচের প্রথম ইনিংসে দুটি উইকেট পাওয়া শুভাশিষ রায়কে তার মিস ফিল্ডিং এবং মিরাজের কাছে দ্রুত বল নিক্ষেপ করে দিলরুয়ান পেরেরাকে রান আউট করে দেওয়ার মুহূর্তটিকে। আজ এই জুটি যখন বিপজ্জনক হয়ে উঠছিল, সেই মুহূর্তে শুভাশিষ-মিরাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় করা রান আউট আশীর্বাদ হয়ে এসেছিল আমাদের জন্য।

পিচ নিয়ে কারও ভবিষ্যদ্বাণী ঠিক হয়নি। পঞ্চম দিনেও পিচ ছিল যথেষ্ট ব্যাটিং সহায়ক, যদি বিচ্ছিন্ন কিছু বলের টার্ন ও বাড়তি বাউন্সকে বিবেচনায় না আনি। ১৯০ রানের মধ্যে বাংলাদেশকে এই পিচে আটকানো তাই কঠিন ছিল শ্রীলঙ্কার জন্য। শুরুতে সৌম্য ও ইমরুলের উইকেট নিয়ে সেই আশাটা জাগিয়েছিল ও বাংলাদেশ শিবিরে কিছুটা আতঙ্ক ছড়িয়েছিল তারা।

বাংলাদেশের দুশ্চিন্তা ২ উইকেট দ্রুত হারানোর চেয়েও বেশি ছিল, ব্যাটসম্যানরা তখন শিশুসুলভ ব্যাটিংয়ে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসবেন না তো?

ব্যাটিংয়ে ফর্ম ফিরে পাওয়াটা সৌম্য ও দলের জন্য একটা বড় আশীর্বাদ। কিন্তু তিনি ও মুমিনুলের জায়গায় সুযোগ পাওয়া ইমরুল শততম টেস্টের ঐতিহাসিক ম্যাচের জয় উদযাপনের সুযোগটা ব্যাট হাতে উদযাপন করতে পারলেন না। সৌম্য প্রথম ইনিংসে রান পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে হয়েছেন ব্যর্থ, ইমরুল তো দুই ইনিংসেই করেছেন হতাশ। দ্রুত আউট হয়ে প্রতিপক্ষের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিয়ে যান তৈরি।

এই টেস্ট ম্যাচে অনেক জুটি হয়েছে, অনেকেই রান করেছেন। তবে মাহেন্দ্রক্ষণে জুটি গড়া ও রান করার কাজটি কিন্তু করেছেন তামিম ও সাব্বির। স্পিনারদের বিপক্ষে তাদের পায়ের ব্যবহার ও আক্রমণাত্মক মনোভাব হেরাথকে এই ম্যাচে আর ফেরত আসার সুযোগ দেয়নি। একমাত্র সুযোগটি এসেছিল শুরুতেই তামিমের যে কঠিন ক্যাচটি উইকেরক্ষক ও স্লিপের মাঝ দিয়ে বের হয়ে গিয়েছিল। কোনও বড় দল যখন তার থেকে পেছনের দলের সঙ্গে এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়, সেটা এক পর্যায়ে বড় দলকেও দিশেহারা করে ফেলে। আজ সান্দাকানের বোলিং থেকে হেরাথ পাননি কিছুই। বিপজ্জনক এই বোলারকে অস্বস্তিতে রাখার পেছনে তামিমের মারমুখী শটগুলো ভূমিকা রেখেছে। সাব্বির ও তামিমের ডান ও বাঁ হাতের কম্বিনেশনের জুটি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় শ্রীলঙ্কার স্পিনাররা ভুগেছে খুব। ফিল্ডিং সাজাতে হিমশিম খেতে হয়েছে তাদের। অধিনায়ক হেরাথ একদিকে চাপে ছিলেন রান ঠেকানোর, সঙ্গে আবার উইকেট তুলে নেওয়ার চাপও তো ছিলই। যত সহজে চার বোলার নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে ধস নামাবেন ভেবেছিলেন হেরাথ, সেখানে তার ভুল হয়েছে। পার্ট টাইম বোলার দিয়ে নতুন বলে টেস্ট বল করানোর উপযুক্ত জবাব আমাদের দল দিতে পেরেছে বলে ভালো লেগেছে।

দল যখন এই পর্যায়ে ভালো করে, তখন তার প্রস্তুতি ও পরিশ্রম করে পাওয়া সুযোগের সঠিক ব্যবহারই হয় অন্যতম কারণ। এই টেস্ট ম্যাচে আমরা ভালো ব্যাট করেছি, ২০টি উইকেট নিয়েছি এবং পাশাপাশি প্রায় সব ক্যাচই ধরেছি। এই ক্যাচ মিস না করা, সময় মতো রান আউট করা-সব মিলিয়ে চমৎকার টিম ওয়ার্কের ফসল।

এর মাঝে বোলিং বিভাগের দুটি সেশনকে আমি সবচেয়ে কৃতিত্ব দেব। টেস্ট ম্যাচের প্রথম দিনের প্রথম সেশন ও শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংসে লাঞ্চের পর ৫ উইকেট তুলে নেওয়াকে আমি দুই ইনিংসের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট বলব।

/কেআর/

লাইভ

টপ