আইসিসির কলামে আমিনুল ইসলাম‘বাংলাদেশের উত্থানের স্থপতি মুশফিক-তামিম-সাকিব’

Send
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২:০৬, মার্চ ২০, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:১০, মার্চ ২০, ২০১৭

মুশফিক, তামিম ও সাকিব১৯৮৮ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত ১৩ টেস্ট ও ৩৯ ওয়ানডেতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তার অন্যতম সেরা ইনিংস ২০০০ সালে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টেস্টে। ১৬ ওয়ানডেতে অধিনায়কত্ব করা এ ব্যাটসম্যান ওই ম্যাচে প্রায় ৯ ঘণ্টা ব্যাট করে ব্যক্তিগত ঝুলিতে পুরেছিলেন ১৪৫ রান। দেশের প্রথম টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান তিনি, শততম টেস্ট জয়ের পর তাই বাংলাদেশের অগ্রগতি নিয়ে আইসিসিতে কলাম লিখেছেন। তারই গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভাষান্তর করা হলো বাংলা ট্রিবিউন পাঠকদের জন্য-

যথোচিত কথা হলো যে শততম টেস্টে বাংলাদেশের অবিস্মরণীয় জয় এসেছে দলের তিনজন ধারাবাহিক পারফর্মারদের হাত ধরে- অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম, যে কি না জয়সূচক রান করার সময় তরুণ মেহেদী হাসান মিরাজের অপর প্রান্তে ছিল; সাকিব আল হাসান, প্রথম ইনিংসে যার সেঞ্চুরিতে সফরকারীরা ১২৯ রানের শক্ত লিড নিয়েছিল এবং তামিম ইকবাল, যার আগ্রাসী ৮২ রান চার উইকেটে জয়ের পথ তৈরি করেছিল।

এ তিন ছেলে তাদের ক্রিকেট যাত্রা শুরু করেছিল ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কায় আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ দিয়ে। বাংলাদেশের উত্থানের স্থপতি তারা। যাই হোক, এ যাত্রা খুব সহজ ছিল না। কারণ গত কয়েক বছর ধরে হারগুলো জয়কে ম্লান করে দিয়েছিল। গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের দিকে ছুটে যেতে বারবার পড়ে যাওয়ার পর উঠে দাঁড়াতে সিংহ হৃদয় লাগে। কারণ বারবার পরাজয় ও হতাশা একজনের প্রাণোচ্ছ্বলতা ও উদ্দীপনা সহজেই শেষ করে দিতে পারে।

মুশফিকের জয়ের উল্লাসআমি নিশ্চিত, আমার মতো বাংলাদেশের সব ক্রিকেট সমর্থকদের এখনও মনে আছে ২০১২ সালের কথা। ওই বছরের মার্চে মিরপুরে এশিয়া কাপ ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই রানে হারের পর কান্নায় কতটা ভেঙে পড়েছিল সবার মনে আছে। ওই কান্নাগুলো আসলে ছিল বড় ইভেন্টে সফলতার পাওয়ার তীব্র ক্ষুধা।

এক্ষেত্রে বলতে পারি, বাংলাদেশ ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের জন্য আমি খুশি এবং আনন্দিত। তবে সবচেয়ে বেশি মুশফিকুরের জন্য। ‘রোল মডেল’ এই শব্দটা প্রায় ব্যবহার করা হয় ক্রীড়াঙ্গনে, মাঝে মধ্যে অপব্যবহারও হয়। কিন্তু আপনি যদি আধুনিক বাংলাদেশের রোল মডেলদের সত্যি দেখতে চান- তাহলে মুশফিক, সাকিব ও তামিমকে ছাড়া আর কারও দিকে চোখ যাবে না। এ তিন খেলোয়াড়দের প্রত্যেকে মিলে ১৫০ টেস্ট খেলেছে। মুশফিক একাই খেলেছে ৫৪ ম্যাচ, অধিনায়ক হিসেবে ৩০টি। তাই বলা ভালো বাংলাদেশের টেস্ট যাত্রার দ্বিতীয় অংশের মেরুদণ্ড তারা তিনজন।

যারা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক টেস্ট পারফরম্যান্স লক্ষ করেছেন তাদের কাছে কলম্বোর ফলাফল অবাক হওয়ার মতো নয়। মিরপুরে এ মৌসুমের শুরুতে বাংলাদেশ দ্বিতীয় টেস্ট জিতেছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। কিন্তু চট্টগ্রামে প্রথম টেস্ট প্রায় জিতেই গিয়েছিল তারা, যেটা ২২ রানে হেরেছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাওয়ে সিরিজে ভালো করেছিল দল, যদিও দুই টেস্টই হেরেছে। দল যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি সেটা নয়। ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টেও একই কথা এবং গলেতে চলতি সিরিজের প্রথম টেস্টও নির্ধারিত হয়েছে পঞ্চম দিনে গিয়ে।

তামিম ইকবালসবচেয়ে ভালো লাগা ব্যাপার হচ্ছে মুশফিক, সাকিব ও তামিমদের সঙ্গে দলে থাকা তরুণ প্রজন্ম এখন টেস্ট জয়ের স্বাদ জানে। অভিজ্ঞ ও র‌্যাংকিংয়ের উপরের দিকে থাকা ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়গুলো দারুণ অভিজ্ঞতা তাদের জন্য। এ জয়গুলো তাদের মধ্যে ভালো উপলব্ধি আনবে।

এ খেলার সবটাই হচ্ছে আত্মবিশ্বাসের এবং আস্থার। অ্যাডিলেডে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের বিজয়ের পর এটা ভালোভাবে প্রমাণ হয়েছে। দলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য ওই জয় আমাকে অনেক বেশি আশাবাদী ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।

অ্যাডিলেডের সফলতা টেস্টে প্রতিফলিত হয়েছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট চালু হওয়ার পর থেকে টেস্ট ক্রিকেট অনেক বেশি ওয়ানডের মতো হয়ে গেছে। আর বাংলাদেশ ওয়ানডেতে ভালো হওয়ার কারণে টেস্টেও ভালো করছে।

বাংলাদেশের সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের বাস। প্রত্যেকে মনে হয় শুধু ক্রিকেট নিয়ে কথা বলে। একটি দল হিসেবে সফল হতে হলে আপনাকে সরকার, দর্শক, স্পন্সর ও মিডিয়ার কাছ থেকে দৃঢ় সমর্থন পেতে হবে- যেগুলো সবই পাচ্ছে বাংলাদেশ। আমি নিশ্চিত আরও বেশি বেশি সফলতায় আমরা এগিয়ে যাব।

সাকিবের সেঞ্চুরি উদযাপনপি সারা ওভালের জয় কিন্তু ঐতিহাসিক। আমি নিশ্চিত লোকমুখে অনেকদিন থাকবে এ জয় এবং লিখা হবে আরও অনেকদিন। আমি সেগুলো পড়তে ও শুনতে মরিয়া। কিন্তু বিনয়ের সঙ্গে মনে করিয়ে দিতে চাই প্রত্যেককে, ‘মিশন শ্রীলঙ্কা’ এখনও শেষ হয়নি।

২০১৯ সালের আইসিসি বিশ্বকাপ খেলার টিকিট সরাসরি হাতে পাওয়ার কথা মাথায় রেখে শ্রীলঙ্কাকে তিন ওয়ানডেতে মোকাবিলা করবে দল। প্রায় ১১ বছর পর আগামী জুনের আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশ সরাসরি খেলার যোগ্যতা লাভ করে সমর্থকদের গর্বিত করেছে। আর যদি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগামী ওয়ানডে সিরিজটা আমরা জিতি তাহলে বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার দৌড়ে অনেকখানি এগিয়ে যাব। এছাড়া আমাদের খ্যাতিও অনেক সমৃদ্ধ হবে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এবং ওয়ানডেতে আমাদের ভালো রেকর্ড আছে। আর উজ্জীবিত হওয়ার মতো ব্যাপার হলো বাংলাদেশ এবং তাদের মূল খেলোয়াড়রা জ্বলছে। বিশ্বকাপের টিকিট পেতে শ্রীলঙ্কায় সেরা সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ। লর্ডসে যাওয়ার জন্য আগামী দুই বছরের পরিকল্পনাও শুরু হোক এখান থেকে।

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ