আত্মবিশ্বাসে ভরপুর এক বাংলাদেশকে দেখলাম

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ০১:২৩, মার্চ ২৬, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:২৩, মার্চ ২৬, ২০১৭

দেশের বাইরে বাংলাদেশকে এত ভালো ব্যাটিং করতে এর আগে দেখেছি বলে মনে করতে পারছি না। এই সিরিজে শুধু মুখে মুখে নয়, মনেপ্রাণেও আমাদের দল বিশ্বাস করে তারা জেতার জন্য পূর্ণ সামর্থ্য রাখে। তাই আজ (শনিবার) জেতাটা খুব দরকার ছিল।

এই জন্য চাওয়া ছিল একটা চমৎকার শুরু। যেটা তামিম ও সাব্বির দলকে দিয়েছেন। একটু সময় নিলেও ইনিংসে চমৎকার সব শট খেলা ও প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর চড়াও হওয়ার কাজটি প্রকৃত তিন নম্বর ব্যাটসম্যানের মতোই করেছেন সাব্বির। ক্রিকেট বিশ্বের বড় দলগুলোর মাঝে যে আস্থাশীল ও পরিকল্পনা অনুযায়ী বড় ইনিংসের জুটি আমরা দেখি, আজ তামিম ও সাকিব জুটি ছিল তার প্রতিচ্ছবি। এক দিনের ক্রিকেটে এত সিঙ্গেলসের ওপর নির্ভর করে যে ইনিংসটি সাকিব বড় করলেন, তার ধরণটা ছিল অনেকটাই মুশফিকের মতো সাবধানী। তার এই ইনিংসিটি ও জুটির কথা অনেকদিন মনে থাকবে।

ব্যাটিংটার প্রতি একটু বাড়তি মনোযোগী হলে তামিম যে বড় বড় ইনিংস খেলতে পারেন, আজ তিনি নিজেই সঠিক সময়ে আমাদেরকে করে দেখালেন। দলের প্রয়োজনে তার সংযত ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দর্শকদের আনন্দ দিয়েছে, প্রতিপক্ষের বোলিং পরিকল্পনাকে ভেঙে দিয়েছে। শেষ ১০ ওভারের এত সুন্দর ব্যবহার করে নিজেদের প্রতি দলের আস্থা বাড়িয়েছেন কয়েকজন। ৫০ ওভার শেষে ৩২৪ রান ছিল বোলিং বিভাগকে উজ্জীবিত করার জন্য যথেষ্ট।

এই ওয়ানডে সিরিজকে শ্রীলঙ্কা নিজেদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য দলে এনেছিল অনেক পরিবর্তন। কিন্তু একমাত্র টস জেতা ছাড়া নতুনদের নিয়ে গড়া এই দলের কোনও কিছুই সঠিকভাবে করতে দেয়নি বাংলাদেশ।

ফিল্ডিং নিয়ে দ্রুত আমাদের উইকেটের পতন ঘটাতে পারেনি। বোলিং আক্রমণ দেখে বোঝা মুশকিল কারা ছিল তাদের ফ্রন্ট লাইন বোলার, যারা পুরো ১০ ওভার বল করতে পারেন। উপুল থারাঙ্গার জন্য শেষ ১০ ওভারে কে বল করতে পারেন, তা নিয়ে তাকে নতুন করে ভাবতে হবে।

উইকেটের যে চরিত্র ছিল তাতে ৩২৫ রান তাড়া করে জেতা কষ্টকর হলেও অসাধ্য ছিল না। বর্তমান ক্রিকেটে কিন্তু সেই মোমেন্টামের জন্য যে শুরু তারা করতে চেয়েছিল, বাংলাদেশ তা করতে দেয়নি। আমাদের বোলাররা এবং ম্যাচের প্রাথমিক নিয়ন্ত্রণ আমরা প্রথম ১৫ ওভারেই নিয়ে নিয়েছিলাম, পরবর্তীতে কোনও স্বীকৃত ব্যাটসম্যানকে একদিক থেকে বড় ইনিংস খেলার সুযোগ না দিয়ে যে বড় ব্যবধানে লঙ্কানদের হারাল, তা বিশাল লজ্জা দিয়েছে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটকে।

আমাদের তিন সিমার খেলানোর পরিকল্পনা ভালোই লেগেছে। তবে নতুন বলটার অংশীদার দুই প্রান্ত থেকে দুজনকে করানো উচিত ছিল। নতুন বলের সদ্ব্যবহার না করতে পারলে তো স্পিনাররা আছেই। সিমারদের মাঝে একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতার আমেজ ছড়াচ্ছে দেখে ভালো লাগছে, কারণ উইকেটের চরিত্রের কারণে একাদশ দুজন সিমার নিয়েও সাজানো হতে পারে, সেটি অধিনায়ক বোঝেন।

ম্যাচ জেতার জন্য যে মেহেদী হাসান মিরাজকে একাদশে প্রয়োজন, তা উপলব্ধি করে তাকে ফেরত আনার জন্য ম্যানেজমেন্ট ও অধিনায়ককে ধন্যবাদ।

অভিনন্দন অধিনায়ক ও তার দলকে পুরো ম্যাচ জুড়ে একটা আত্মবিশ্বাসী দলের মতো করে খেলার জন্য। অভিনন্দন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে লঙ্কানদের ওপর চড়াও হয়ে এত স্বস্তির জয় উপহার দেওয়ার জন্য।

/কেআর/

লাইভ

টপ