সিরিজ জিতেই শেষ হোক বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রা

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২১:০১, মার্চ ৩১, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:২৯, মার্চ ৩১, ২০১৭

দেশের বাইরে বাংলাদেশের ওয়ানডে সিরিজ ঘিরে শেষ ম্যাচ শুরুর আগে এত উৎসাহ, উদ্দীপনা, আলোচনা; একই সঙ্গে উৎকণ্ঠা দর্শকদের মাঝে ছিল বলে আমার মনে পড়ছে না। এর অন্যতম কারণ হলো দর্শক ও সমর্থকদের জয় দেখার ইচ্ছা পূরণের সামর্থ্য যে এই দলটির মাঝে আছে, তা সবাই বিশ্বাস করতে শুরু করেছে।

খেলোয়াড়দের ধারাবাহিক নৈপুণ্য ও ১-০-তে এগিয়ে থাকার কারণে কাজটা অনেকেই যতটা সহজ ভাবছেন, আসলে ততটা সহজ নাও হতে পারে। প্রতিদিন তামিম-সাব্বির-সাকিবরা রান নাও পেতে পারেন। তবে কেন জানি মনে হয় এটা মাহমুদউল্লাহর আস্থা পুনরুদ্ধারের ম্যাচ হবে। একই সঙ্গে মুশফিকের একটা দায়িত্বশীল ইনিংস দেখতে পাব। দলের সাফল্যের জন্য ফর্মে থাকা তামিম ও দায়িত্বশীল সাকিবকে আগের ম্যাচগুলোর মতো দুর্দান্ত ভূমিকায় দেখতে চাইব।

শেষ ম্যাচের লড়াইটা যে জমজমাট হবে, তার একটা ইঙ্গিত শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানরা দ্বিতীয় ওয়ানডের পরিত্যক্ত ম্যাচে দিয়েছে। ৩১১ রান করে তাদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে এবং আমাদের বোলারদেরও একটা পরীক্ষাও নিয়েছে। যেটা মাশরাফি ও টিম ম্যানেজমেন্টকে শেষ ম্যাচে নিজেদের পরিকল্পনাকে আরেকটু সুসংগঠিত করতে সহায়তা করবে। জুটি গড়ে উঠতে না দেওয়ার ব্যাপারে মুস্তাফিজকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর হতে হবে। শেষ ম্যাচে তার কাছ থেকে ব্রেক থ্রু পাওয়া যায়নি। ওভার প্রতি তিনি যে রান দিয়েছেন, তা ছিল তার মতো বোলারের ক্ষেত্রে অনেক বেশি। তাকে আরও অন্তত ৩টি স্পেলে সঠিক সময়ে মাশরাফি চতুরতার সঙ্গে ব্যবহার করবেন বলে আশা করি।

আমাদের সেরা বোলাররা শ্রীলঙ্কার টপ অর্ডারের বিপক্ষে যত আগে সফলতা পাবেন, ততটাই সহজ হবে আমাদের ব্যাটসম্যানদের কাজ। হ্যাটট্রিকসহ উইকেট পাওয়ার বিচারে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সেরা বোলার ছিলেন তাসকিন। দারুণ বল করে নজর কাড়লেও শেষ ম্যাচে তাসকিনকে আরও ভালো লেন্থে বল করতে দেখব বলে আমি আশা করি। প্রথম ম্যাচের মতো দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও নতুন বলে মাশরাফির সঙ্গী হয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। পরিত্যক্ত ম্যাচটিতে মিরাজ খানিকটা বেশি রান দিলেও বেশ ভালোই পরীক্ষা নিয়েছেন লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের। বোলিংয়ের ধারাবাহিকতাটা ঠিক রাখতে পারলে শেষ ম্যাচে তিনিও হতে পারেন মাশরাফির তুরুপের তাস।

টেস্ট ও একদিনের ম্যাচে সবচেয়ে ধারাবাহিক ছিল পিচের চরিত্র। এত ভালো উইকেট যে কোনও ব্যাটসম্যানের খেলার জন্য তীর্থভূমি এবং সে কারণে ব্যাটসম্যানরাই খেলার ভাগ্য গড়ার নেপথ্যে শনিবারও সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন। শেষ ওয়ানডে যদিও নাইট ম্যাচ নয়, তাই ডিউ ফ্যাক্টর নেই। পাঁচদিনের টেস্ট ম্যাচে পঞ্চম দিনেও উইকেট যে পরিমাণ ব্যাটিং সহায়ক ছিল, সে হিসেবে আগামীকালও (শনিবার) উইকেট ব্যাটিং সহায়ক হবে বলে আমার ধারণা। সিরিজ বাঁচানোর এই ম্যাচে শ্রীলঙ্কা পিচ নিয়ে কোনও ধরণের বাড়তি ঝুঁকি নেবে বলে মনে হয় না। দ্বিতীয় ম্যাচের একাদশে পরিবর্তন এনে দিলরুয়ান পেরেরা ও নুয়ান কুলাসেকারার সংযোজন বোলিং বিভাগের গভীরতা বাড়িয়েছে লঙ্কানদের।

ওয়ানডে সিরিজ জয়ের নতুন এক লক্ষ্য নিয়ে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ দল মাঠে নামবে। দিনের ম্যাচের গরম ও সিরিজ জয়ের বাড়তি চাপকে ডিঙিয়ে বরং সিরিজ হারানোর ভয়ে থাকা শ্রীলঙ্কাকে কাল বাংলাদেশ মাথা ঠাণ্ডা রেখে টোটাল টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে চেপে ধরে তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাবে। নতুন এই দৃশ্য দেখার প্রত্যাশায় রইলাম।

/কেআর/

লাইভ

টপ