সিরিজ না জিতলেও প্রাপ্তি কম নয় বাংলাদেশের

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২২:৪৪, এপ্রিল ০১, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৫১, এপ্রিল ০১, ২০১৭

দলীয় প্রচেষ্টায় সাফল্যে ভরা যে বাংলাদেশ দলকে দিন শেষে টিভি পর্দায় দেখতে চেয়েছিলাম, তা পূর্ণতা পেল না। বরং অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ দলের টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্তে অবাক হয়েছি খুব।

সারাদিন গরমের ক্লান্তি বিবেচনায় নিয়ে ও নিজেদের ব্যাটিং সামর্থ্যের ওপর আস্থা রেখে আগে ব্যাট করার সুবিধাটা নেওয়া উচিত ছিল। বড় লক্ষ্য তাড়া করার সময় যে মানসিক চাপ থাকে, তা অন্তত প্রথমে ব্যাটিং করলে থাকে না। আর সেটা গত দুটি ম্যাচেই প্রমাণিত হয়েছে। যে উইকেটের ঘাস আমাদের আগে বোলিং করতে উজ্জীবিত করল, তার সদ্ব্যবহার আমরা উইকেট থেকে যেমন পাইনি, তেমনি লাইন লেন্থের বেহাল অবস্থায় প্রথম ১০ ওভারে দিয়েছি ৭৬ রান! সবচেয়ে বড় কথা প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের চাপে ফেলার চেয়ে সম্ভবত উল্টো আমরাই ছিলাম চাপে; নইলে প্রথম ১০ ওভারেই কেন মাশরাফি ব্যবহার করে ফেললেন তার ৫ বোলারকে! এর মানে উইকেট থেকে ‍খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি বোলাররা, বিপরীতে শ্রীলঙ্কা পেয়ে যায় দারুণ শুরু।

মাশরাফির কট অ্যান্ড বোল্ডের সুযোগ হাতছাড়া হলেও পরবর্তীতে ব্যাটসম্যানদের ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ কাজে লাগিয়ে একাধিক রান আউট করে ম্যাচে ফেরত আসে বাংলাদেশ। তবে দিনের শুরুর মতো শেষ ১০ ওভারে এক থিসারা পেরেরাই ব্যাট হাতে দলকে লড়াই করার মতো জায়গায় নিয়ে যান। পরপর দুই ম্যাচে এই হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান সফল হলেন, অথচ তাকে ঠেকানো কিংবা চাপে ফেলার জন্য কার্যকর শর্টপিচ কিংবা ইয়র্কার দেওয়ার মতো কোনও চেষ্টা দেখতে পেলাম না আমাদের বোলারদের কাছ থেকে। মুস্তাফিজের কাছ থেকে আরও ভালো বোলিং আশা করেছিল দল। পেস বোলাররা ৬ উইকেট নিলেও সেটা শ্রীলঙ্কার উপর ও নিচের সারির ব্যাটসম্যানদের মিলিয়ে।

শ্রীলঙ্কান বোলাররা কিন্তু কাজের কাজটা করেছে শুরুতেই। আগের দিন বলেছিলাম নুয়ান কুলাসেকারার সংযোজন লঙ্কানদের বোলিংয়ের গভীরতা বাড়িয়েছে। ইনিংসের শুরুতেই কথাটা প্রমাণ করলেন এই পেসার। দুর্দান্ত এক স্পেলে শুরুতেই ভেঙে দিলেন বাংলাদেশের টপ অর্ডার। প্রথম ৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া বাংলাদেশকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে যে আরও পরিশ্রম করতে হবে, সেই বিষয়টি নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন কোচ। শুরুতে উইকেট হারালে দলের তিন নম্বর ব্যাটসম্যানকে অনেক বেশি দায়িত্বশীল হতে হয়, সেটা সাব্বির রহমানের মধ্যে দেখা যায়নি একেবারেই। না হলে অত বাইরের বল সাব্বির মারতে যাবেন কেন?

পরে ব্যাট করেও এই পিচে ২৮০ রান তাড়া করা অসম্ভব ছিল না। তবে ৩ উইকেট হারানোর পর সেটা অনেক কঠিন হয়ে গিয়েছিল। এই পরিস্থিতিটাই সৌম্য সরকারকে বসাতে পারত নায়কের আসনে। সেই পথে তিনি হাঁটছিলেনও, যদিও ভালো শুরুর পর পারেননি। শেষ দিকে মিরাজের সাবলীল ব্যাটিং দেখে বিষয়টি নিজেও হয়তো উপলব্ধি করেছেন সৌম্য।

সাকিবের কয়েকটি দায়িত্বশীল ইনিংস উপভোগ করলাম। তবে পরিস্থিতি দলের প্রতিকূলে থাকায় নিজের দায়িত্বের পরিধি আরও বাড়িয়ে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়তে পারলে, সেটা হতো আরও আকর্ষণীয়। সঙ্গে যদি মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ কিংবা মোসাদ্দেক দাঁড়াতে পারতেন, তাহলে হয়তো এমনভাবে ম্যাচ থেকে ছিটকে যেতাম না আমরা।

রান তাড়া করতে গিয়ে তাড়াতাড়ি উইকেট হারালে চাপ মোকাবিলা করে ব্যাট করাটা অনেক সময়ই কঠিন হয়ে পড়ে। তার সঙ্গে যদি সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দুই কাঁধে ভর করে, তখন আসলে চাপটা এমনিতেই বেড়ে যায়। ভালো লাগতো যদি বোলার ও অধিনায়ক মাশরাফি এই চাপটা জয় করে সিরিজ জয়ের চেষ্টাটা করতেন।

আজ স্পিনের পরিবর্তে ঘাস দেখে তিন পেসার খেলানো এবং শুরুতে দুই দিক থেকে পেস আক্রমণ করিয়েও কিন্তু সাফল্য পায়নি সেভাবে। একদিক থেকে স্পিন নির্ভর হয়ে পড়াতে নতুন বলে বল করার অভ্যাস কিন্তু সেভাবে গড়ে উঠছে না আমাদের পেসারদের। তাই প্রয়োজনের মুহূর্তে তাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য নাও পাওয়া যেতে পারে। সামনের সফরেই যার প্রয়োজন পড়বে। নতুন বলে পেসারদের অভ্যাস গড়ে না তোলায় ভুগতে হতে পারে সামনের ত্রিদেশীয় সিরিজ ও চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী সব ঠিকঠাক হয়নি বলে সিরিজ জেতা হয়নি বাংলাদেশের। তাতে অবশ্য সাফল্যের পথে ছেদ পড়েনি মোটেও। বরং বিদেশের মাটিতে, বিশেষকরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাদের ঘরের মাঠে দুর্দান্ত পারফরম করে ওয়ানডে সিরিজ সমতায় শেষ করা আমাদের জন্য কম প্রাপ্তি নয়। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে অনেকেই নিজেদের চিনিয়েছেন নতুন করে, তা ছাড়া দলীয় প্রচেষ্টাও ছিল অসাধারণ। সব মিলিয়ে অভিনন্দন জানাই মাশরাফিদের। এই সাফল্য আগামীতে নিশ্চয়ই দলকে আরও অনুপ্রাণিত করবে।

/কেআর/

লাইভ

টপ