পথ দেখাতে পারেন তামিম-মুস্তাফিজ

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২১:৫৬, এপ্রিল ০৩, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:২১, এপ্রিল ০৪, ২০১৭

টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ শেষে ফলাফলের ভিত্তিতে চমৎকার একটা সময় পার করছে বাংলাদেশ দল। তবে দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় টেস্ট ও ওয়ানডের নিয়মিত একাদশে খেলার কারণে যতটুকু ক্লান্তিতে ভুগছে তার প্রভাব এই ছোট ফরম্যাটের টি-টোয়েন্টিতে পড়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বরং প্রতিপক্ষ ও কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বাড়তি সুযোগ তারা পেয়েছে, যার সদ্ব্যবহার টি-টোয়েন্টিতে তারা করে দেখাতে পারেন।

টি-টোয়েন্টিতে দল হিসেবে খেলার অভিজ্ঞতা আমাদের চেয়ে শ্রীলঙ্কার অনেক বেশি। তবে আইপিএল, সিপিএল ও বিপিএলের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচে অংশগ্রহণের বিচারে আমাদের খেলোয়াড়রা সম্ভবত এগিয়েই থাকবে। তবে একটা দল হিসেবে টি-টোয়েন্টির সঙ্গে যথেষ্ট মানিয়ে নিয়ে এখনও উল্লেখযোগ্য সমীহ আদায় করতে পারিনি আমরা।

বোলিংয়ে প্রথম ৬ ওভার বা শেষ ৪ ওভার কে করবেন তা হতে পারে মাশরাফির জন্য সবচেয়ে চিন্তার কারণ, যদি শ্রীলঙ্কা ভালো একটা শুরু পেয়ে যায়। একইভাবে ব্যাটিংয়ে টপ অর্ডারে বিরাট কোহলির মতো একপ্রান্তে একজনকে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা রাখতে হবে। এজন্য ফর্মে থাকা তামিম ইকবালই সেরা বাছাই এবং তাকে ঘিরে সৌম্য, সাব্বির ও সাকিব একটা ভালো শুরু এনে দিতে পারেন দলকে।

প্রথমে বাংলাদেশ ব্যাট করলে একটা ভালো ফিনিশিং পাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকবে। তবে রান তাড়ার ক্ষেত্রে প্রথম ১০ ওভারে যথেষ্ট উইকেট থাকলে তা সামাল দেওয়া আমাদের লোয়ার মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং হবে। আর বাংলাদেশের বিপক্ষে যিনি এ পার্থক্যটা গড়ে দেওয়ার হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হবেন তিনি হলেন লাসিথ মালিঙ্গা।

স্বল্প দৈর্ঘ্যের এ ম্যাচে অনেক ব্যাটসম্যানই মারমুখী থাকেন, যে কারণে বাজে বলে বা সময়মতো শট না নেওয়ার কারণে আউট হন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রিকেটীয় শটে ধাতস্থ হচ্ছে টি-টোয়েন্টির ব্যাটসম্যানরা। ১২০ বলের এ খেলায় ১ থেকে ২ ওভারে ভালো ব্যাটিং বা বাজে বোলিংয়ে হাতছাড়া হওয়া ম্যাচের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে কমছে। ভালো গেম প্ল্যান ও নজরকাড়া ফিনিশিংয়ের কুশলতা দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের ম্যাচে বল ও ব্যাট হাতে সমান সুযোগ থাকে দলকে জেতানোর। এখন পর্যন্ত অলরাউন্ডারদের চাহিদা টি-টোয়েন্টিতে বেশি থাকলেও সাংঘাতিক স্নায়ু চাপের এ ফরম্যাটে স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান ও বোলাররা তাদের জাত আলাদা করে চেনাচ্ছেন। অনেকে টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট হয়ে দলে যোগ দিচ্ছেন। সেই লক্ষ্যে ভবিষ্যতে আমাদের দলেও একসময় আরও খেলোয়াড় যোগ দেবেন প্রথম একাদশে। অবশ্য তার জন্য আরও কিছু সময় লাগবে আমাদের।

সম্ভাবনার দিক থেকে ছোট দৈর্ঘ্যের ম্যাচে যে কোনও দলই জিততে পারে। তবে রান যতই করি না কেন এ ম্যাচে যদি মু্স্তাফিজ আইপিএলের ধাঁচে বল না করে তবে আমাদের সম্ভাবনা কমে যাবে। লাইন ও লেন্থকে পুঁজি করে এই গতিতে বল করে মাশরাফি কেমন করেন তার উপরও সম্ভবত নির্ভর করবে অনেক কিছুই। তার ৪ ওভার তিনি কখন করছেন ও কেমন করছেন এই সিরিজে নির্বাচকরাও লক্ষ করবেন বলে আমার ধারণা।

টি-টোয়েন্টির চেয়ে ৫০ ওভারের ম্যাচে সাইফউদ্দিনের মতো খেলোয়াড়দের আগে খেলানো উচিত ছিল এবং তার পরিণত হওয়ার জন্য আরও ১ বছর অপেক্ষা করলে ভালো হতো। শেষ বিপিএলে তাকে দলে নিয়মিত খেলতে দেখিনি এবং নো বল করার প্রবণতা থেকে উন্নতি না হয়ে থাকলে ফ্রি হিটে খেসারত দিতে হবে।

দুই দলের ব্যাটিং ও বোলিংয়ের সামর্থ্যের বাইরে ভালো রানিং বিটুইন উইকেট ও তৎপর ফিল্ডিং দুই দলের মধ্যে প্রথম ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ