ফিল্ডিংয়ে নিজেদের সেরাটা দিয়ে এভাবে লড়তে দেখিনি বাংলাদেশকে

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ০৩:৫৬, এপ্রিল ০৭, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ০৩:৫৬, এপ্রিল ০৭, ২০১৭

টি-টোয়েন্টি থেকে মাশরাফির বিদায় মুহূর্তটি তার সতীর্থরা যেমন স্মরণীয় করে রাখলেন, তেমনি শ্রীলঙ্কা সফরের প্রতিটি ফরম্যাটে সম্মিলিত পারফরম্যান্স দলের আস্থাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল। যেটা বাংলাদেশ পেরিয়ে গোটা ক্রিকেট বিশ্বেরই নজর কেড়েছে।

এই সফরের শুরুতে লিখেছিলাম, এই সিরিজ থেকে ক্রিকেট বিশ্বের সমীহ আদায় ও ভালো দল হয়ে গড়ে উঠার সিঁড়ি তৈরি করতে পারে বাংলাদেশ। যদিও এভাবে শেষ দিন পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভরপুর থাকবে গোটা সিরিজ, সেটা ভাবিনি।

দলের সাফল্যের জন্য টেস্ট ও সীমিত ওভার ক্রিকেটের দুই অধিনায়ক এবং সব খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাকে অভিনন্দন জানাই। মাশরাফির বিদায়ী ম্যাচে খেলোয়াড়রা আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রেখে যেভাবে একসঙ্গে লড়াই করেছে, সেটা সত্যি অসাধারণ। নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়ে এভাবে লড়াই করতে বাংলাদেশকে কখনও দেখিনি। বিশেষকরে ফিল্ডিংয়ের সময় খেলোয়াড়দের অঙ্গভঙ্গিতে স্পষ্ট বোঝা গেছে, নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য তারা কেমন মুখিয়ে আছে।

এই ম্যাচের উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য যতটা না অসাধারণ ছিল, তার চেয়েও দৃষ্টিনন্দন শটস খেলেছেন সৌম্য ও ইমরুল। শটের প্লেসমেন্ট ছিল দুর্দান্ত, আর ফিল্ডিং সীমাবদ্ধতার পুরো ফায়দা তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার শুরুর কাজটা এর চেয়ে ভালো আর কিভাবে হতে পারতো।

ফর্মহীনতার ভোগা মুশফিককে টপ অর্ডার থেকে সরিয়ে নেওয়াটা ছিল সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত। ১৯ ও ২০তম ওভার ছাড়া শ্রীলঙ্কার বোলাররা কোনও প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। তবে চাপমুক্ত ব্যাটিং করার সুযোগটি অধিনায়ক করে দেন টস জিতে, যাতে সন্ধ্যাটিকে সবার জন্য করে তোলেন উপভোগ্য।

ইমরুলের অপ্রয়োজনীয় রান আউট বা অন্য সেট ব্যাটসম্যানদের কেউই ইনিংস বড় করতে না পারার ব্যর্থতার পরও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ১৭৬ রান করার পরও মনে হয়েছে আরও ১৫ রান বেশি হলে ভালো হতো। মাহমুদউল্লাহর কাছ থেকে দল আরও ভালো ফিনিশিং আশা করে।

প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে যা হয়নি, তা এই ম্যাচে ঘটেছে। সাকিবের ব্যাট ও বল দুটোই কথা বলেছে। মুস্তাফিজ ফিরেছেন তার স্বরূপে; তার পরপর দুই বলে দুটি উইকেট শ্রীলঙ্কার ড্রেসিংরুমে যে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল, তা থেকে থিসারা পেরেরাও বের হয়ে পারেননি দলকে বিপদমুক্ত করতে। ধারাবাহিকভাবে ভালো করা আমাদের ফিল্ডারদের প্রতিটি রান বাঁচানোর লড়াই ছিল অসাধারণ। বিশেষকরে মাহমুদউল্লাহ; ২০ ওভারের শেষ বলে এক রানের জন্য তার না দৌড়ানোটা যে একটা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে, তা তিনি নিজেও উপলব্ধি করেছেন, আর সেটা তিনি পুষিয়ে দিয়েছেন ফিল্ডিংয়ে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে।

তরুণ বোলার সাইফউদ্দিনের বোলিংয়ে নো বল (ওভার স্টেপিং) করতে না দেখে তাকে দেখভাল করার দেশীয় কোচদের ধন্যবাদ জানাই। তাকে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে। তার যতটুকু ব্যাটিং প্রতিভা আছে, তার পরিচর্চা করলে তিনি একদিনের ম্যাচের জন্যও নিজেকে দাবিদার করে তুলতে পারবেন।

বিদায়ের ম্যাচে সেরাটা দেওয়ার পরিস্থিতি অনেক সময় থাকে না অনেকের। আজ যেমন মাশরাফির ব্যাট হাতে ছিল না। তবে ফিল্ডিংয়ে আজ দল পরিচালনায় মোটেও আবেগতাড়িত হননি তিনি। ম্যাচ জেতা বা সিরিজে সমতা আনার সুখস্মৃতির চেয়ে মাঠে তার সতীর্থরা যেভাবে বোলিং ও ফিল্ডিং করলেন তাকে ও দলকে জয়ী করার জন্য, এর চেয়ে বড় আনন্দ একজন ক্রিকেটারের জীবনে আর কী হতে পারে।

এই ম্যাচ শেষেই টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারকে বিদায় বলে দিলেন মাশরাফি। তিনি চলে যাচ্ছেন কুড়ি ওভারের ক্রিকেট থেকে, তবে যাওয়ার আগে এই ফরম্যাটে দলকে তুলে দিয়ে গেলেন সাফল্যময় এক জায়গায়। তৈরি করে গেলেন আস্থার শক্ত ভিত। যে ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে দল সামনে সাফল্যের সীমানাটা আরও বিস্তৃত করছে, নিজেদেরকে ক্রিকেট বিশ্বে তুলে ধরছে আরও উঁচুতে-আর সবার মতো মাঠের বাইরে বসে এই দৃশ্যটা দেখতে নিশ্চিতভাবেই উদগ্রীব হয়ে থাকবেন মাশরাফি।

/কেআর/

লাইভ

টপ