বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১৩:০১, মে ২৫, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:০৮, মে ২৫, ২০১৭

গাজী আশরাফ হোসেন লিপুযে কোনও বিজয়ই আনন্দের। খেলোয়াড়রা অভিনন্দন বার্তা পেয়ে থাকেন ব্যক্তিগত এবং দলগত সফলতার জন্য। আবার ব্যর্থতার জন্য কঠিন সমালোচনার সম্মুখীনও হন। গতকালকের জয়ের চেয়েও দলগত শক্তির আলোকে আরও বড় সফলতা আমাদের ইতোপূর্বে ছিল। কিন্তু কালকের জয়ের আনন্দের আমেজটা ছিল দীর্ঘক্ষণ, সারা মন জুড়ে!কারণ সাম্প্রতিক দলগত সফলতার আলোকে অপেক্ষাকৃত দুর্বল এই দলটির বিপক্ষে ম্যাচটা না জিতলে বড় বেমানান লাগতো।  

কালকের এই জয় চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শুরুর আগে দল যে তাদের চূড়ায় অবস্থান করছে সেই বার্তা সুস্পষ্টভাবে জানান দিয়েছে।  একই সঙ্গে আকাঙ্ক্ষিত র‌্যাংকিংয়ে ৬-এ উঠে এসেছে; ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি নিজেদের উত্তীর্ণও করেছে। তাই বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন, এই কন্ডিশনে দুটো বড় জয় অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বড় ব্যবধানে জেতার জন্য।

গতকালের ম্যাচে আমাদের দুর্বলতম জায়গা চিহ্নিত করতে চাইলে প্রকটভাবে সহজ ক্যাচগুলি তালুবন্দি করতে না পারার ব্যর্থতাই নজরে আসবে। এই ধরনের ক্যাচ আজকাল কেউ মিস করে না! সচরাচর আলোচনা হয় এরচেয়েও কঠিনক্যাচগুলি হাতাছাড়া হলে। এটি একটি খারাপ ছিল দিন ফিল্ডিংয়ে, যা আমাদের প্রকৃত ফিল্ডিং মানের প্রতিচ্ছবি নয়। যার বড় একটা ফায়দা কাল টম ল্যাথাম তুলে নিয়েছেন।

কাল দলে নাসিরের সংযোজন আমাকে চমকে দিয়েছে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলে যেহেতু তিনি নেই। তাই দলের সেরা কম্বিনেশনটা ঠিক করে নেওয়ার জন্য গতকালকের ম্যাচটাই ছিল সেরা সুযোগ। তবে দলের ১৫ জনের মাঝে পরিবর্তনের একটা সহজ সুযোগ আজ পর্যন্ত আছে বলে জেনেছি। যদি সেই ভাবনার আলোকে তাকে খেলানো হয়ে থাকে, তাহলে টিম ম্যানেজমেন্টকে সাধুবাদ জানাই।

ইতোপূর্বে আমাদের বিপক্ষে শক্ত প্রতিপক্ষ শুরুতেই একটা ভালো ভিত গড়ে তুললে তার শেষটা সচরাচর হতো আরও ভালো। কিন্তু কাল নিউজিল্যান্ডকে তাদের প্রত্যাশিত তিনশ রানের অর্জনের লক্ষ্যকে ২৭০ রানে বেধে রাখতে আমাদের পেস বোলাররা যে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখলেন, তা ভিন্ন একটি মাত্র যোগ করেছে। আর সেই দ্যুতিই জয়ের পথে আলো দেখিয়েছে।

আমাদের ব্যাটসম্যানদের এই ছোট মাঠে ২৭১ রান তাড়া করার সক্ষমতার ব্যাপারে কোনও সন্দেহ ছিল না। শুধু দুশ্চিন্তা ছিল ইনফর্ম ব্যটসম্যানরা যাতে উইকেটে থাকতে পারেন এবং অপ্রয়োজনীয় শটস না খেলেন। সৌম্যর এই আউট হয়ত তাকে আবার নতুন করে মনোযোগী হতে সাহায্য করবে। সাব্বির তার স্বাভাবিক স্থিতিতে দাঁড়িয়ে যে দৃষ্টিনন্দন শটস খেলেন। তা যদি তিনি বসে বসে দেখেন তাহলে জোর করে ডাউন দ্য উইকেটে এসে শটস খেলাটা যে তার নিজের ও দলের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা তিনিই সবচেয়ে ভালো উপলব্ধি করতে পারবেন।  এছাড়া দুজন ব্যাটসম্যান যদি একে অন্যকে না দেখে দৃষ্টি শুধু বলের দিকে রেখেই দৌড়ান, তাহলে এমন রান আউটের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো মুশফিল!

কাল তামিম ও সাব্বির জুটি বিশ্ব ক্রিকেটের টপ র‌্যাংকিং দলের মতোই খেলছিল। সেই জায়গা থেকে ম্যাচটাকে আরও অনেক দূর টেনে নিয়ে যেতে হলে আরও মনোযোগী হতে হবে। তামিম ও সাব্বিরের মতো দুজন সেই ব্যাটসম্যানকে আউট করে ম্যাচে ফেরার যে সম্ভাবনা নিউজিল্যান্ড তৈরি করেছিল, সেটা অস্ট্রেলিয়া বা তার সমকক্ষ কোনও দল হলে আরও শক্তভাবে মুখোমুখি হয়ে ম্যাচটি নিজেদের করে নিত।  তারা আরও অনেক বেশি সক্রিয় হতো। যার মুখোমুখি আমরা চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে হতে যাচ্ছি।

তবে কাল যে দিকটি শেষে অনেক বেশি আলো ছড়িয়েছে তা হলো মুশফিক ও রিয়াদ জুটির চমৎকারভাবে ম্যাচটাকে শেষ করার সক্ষমতা। এটাই ক্রিকেট, কাল যত সহজে পারলো, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কিন্তু ঠিক ততটা সহজেও জয়ের মুখ দেখিনি। অনেক বড় মাপের ভুল হয়ে হয়েছিল তাদের, আবার সেই তাদের দ্বারাই জয় রচিত হলো।

কালকের ব্যাটিং অর্ডারে মুশফিককে ৬ নম্বরে ফেরত আনাটাকে ভালো মনে হয়েছে। তবে ৪ নম্বরে মোসাদ্দেকের চেয়ে রিয়াদকে খেলানো আরও ভালো সিদ্ধান্ত হবে বলে আমি মনে করি। সাব্বিরের ফর্মে ফেরত আসাটা রুবেল ও মোস্তাফিজকে কার্যকর ভূমিকায় দেখার অপেক্ষায় ছিলাম। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে মোস্তাফিজ যেন তার সেরা সামর্থ্যে পৌঁছাতে পারেন সেই প্রত্যাশা রইলো। সব ভালোর পরেও চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মতো শক্তিশালী গ্রুপে সফল হতে হলে সাকিব আল হাসানকে ব্যাট ও বল হাতে এমন মলিন থাকলে চলবে না। তিনি স্বরূপে ফেরত আসলে দলের সফলতা আবারও উৎসব মুখর পরিবেশের আবহাওয়া সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।

/এফআইআর/

লাইভ

টপ