বাংলাদেশের উজ্জীবিত থাকার পাশাপাশি দুশ্চিন্তার কারণও আছে

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১০:৫১, জুন ০১, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৩৮, আগস্ট ২৯, ২০১৭

.১০ দলের পরিবর্তন করে আইসিসির শীর্ষ ৮ দলকে নিয়ে আয়োজিত এ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আমাকে যথেষ্ট আকৃষ্ট করত না এবং বাংলাদেশ দলের অনুপস্থিতি ছিল এর অন্যতম একটি কারণ।

২০১৫ সালে এ ট্রফিতে বাংলাদেশ তার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পর আনন্দিত হয়েছিলাম, কারণ দলীয় নৈপুণ্যের উন্নয়ন ঘটিয়ে এ ট্রফিতে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে তারা। আরও মনে হয়েছে এ টুর্নামেন্টে অবহেলিত না হলে এ ধরনের বড় মঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতাটা বর্তমানের দলকে আরও অনেক আত্মবিশ্বাসী করে তুলত।

এ টুর্নামেন্টের ঠিক আগেই আমরা ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের ছয়ে উঠে আসায় আমি যতটা আনন্দিত, ঠিক ততটাই ব্যথিত একাধিক বিশ্বকাপজয়ী ও আমার প্রিয় একটা দল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এ টুর্নামেন্টে না দেখতে পাওয়ায়। ভিভ রিচার্ডস বা গর্ডন গ্রিনিজের মতো আমাকেও বেশ নাড়া দিয়েছে বিষয়টা।

বিশ্ব ক্রিকেটে বড় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ, অভিজ্ঞতা ও বর্তমানের দলগত শক্তি বা সাফল্যের আলোকে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে সেমিফাইনালে দেখার একটা বড় সম্ভাবনা আছে। তবে বাকি ৪ দলের যে কেউ যে কাউকে হটিয়ে সেরা চারে আসতে পারে।

ইংল্যান্ডের হঠাৎ করে মেঘ ঢেকে যাওয়া আকাশ বা গুড়ি গুড়ি এক পশলা বৃষ্টি যে কোনও দলের জন্যই বাড়তি সুবিধার দরজা খুলে দিতে পারে। ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দর্শকদের খেলা দেখার মাঝেই নিহিত থাকে আইসিসির বাণিজ্যিক সফলতা। তাই প্রায় সব খেলাই সকালে শুরু হবে এবং পরিস্থিতির আলোকে সকালে ফিল্ডিং করা দল যে কোনও দিন উইকেটের শুষ্কতাকে কাজে লাগিয়ে সহজে জয় তুলে নিতে পারে এবং গ্রুপ পর্যায়েই খেলার আকর্ষণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

২০১১ ও ২০১৫ বিশ্বকাপে বা গতবার দেশে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সাফল্য আমাদের দলকে যতটা না উজ্জীবিত করবে, তার চেয়ে বর্তমান ইংল্যান্ড দলের ফর্ম ও তাদের পেসার বোলারদের বাড়তি বাউন্সসহ বল মুভ করানোর সক্ষমতা যথেষ্ট দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দেখা দিতে পারে। ওভালের ব্যাটিং সহায়ক পিচে নতুন বলের বিপক্ষে প্রথম ১০-১২ ওভারে আমাদের শুরুটাই বলে দেবে এ ম্যাচে ইংল্যান্ডকে আমরা কতটুকু কঠিন সময়ের মুখোমুখি করতে পারব। তাই ম্যাচে মেহেদী হাসান মিরাজকে অন্তর্ভুক্ত করে তিন সিমার নিয়েই সম্ভবত বাংলাদেশ খেলবে। বল হাতে মাশরাফি যদি সুইং না পায় বা বল হাতে সাকিব যদি স্বরূপে আবির্ভূত না হয় তবে ইংল্যান্ডের রানের গতি থামানো অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার হবে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচ ও ইংল্যান্ডে কিছুদিনের অনুশীলন এত বড় টুর্নামেন্টের জন্য যথেষ্ট পুঁজি নয়। কারণ অন্য ৬টি দল ইংল্যান্ডে ধারাবাহিকভাবে সফল হয়ে নিজেদের নিয়মিত ধাতস্থ করার সুযোগ পাচ্ছে। একারণেই একটা বাড়তি চাপ নিয়েই আজ আমাদের মিশন শুরু হবে। সেখানে তামিম ও মুশফিকদের অতীত অভিজ্ঞতা, সৌম্য ও সাব্বিরের মনোযোগী ব্যাটিং এবং সাকিবের ফর্মে ফেরার উপরই নির্ভর করবে ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনার ক্ষেত্র তৈরি করার।

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ