তামিম-মুশফিকের মতো জ্বলতে হতো সাকিব-মুস্তাফিজকেও

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১৩:৩২, জুন ০২, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৩৭, আগস্ট ২৯, ২০১৭

.ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ যখন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ইংল্যান্ড, তখন বাংলাদেশের করা ৩০৫ রানের পুঁজিকে যথেষ্ট অনুপ্রেরণা দেওয়ার মতো বলতে পারেন। কারণ ইনিংসের সূচনাটা মোটেই স্বাচ্ছন্দ্যের ছিল না। এই ম্যাচে বিশ্বমানের পেস বোলারদের বিপক্ষে ইনিংসের ভিত গড়তে একটু সময় নিয়ে হলেও দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিয়েছে তামিম ও সৌম্য সরকার। পরে ব্যাটিং স্বর্গ এই উইকেটে তামিম ও মুশফিকের জুটির দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিং ছিল অনেক উচ্চমানের।

তামিমের অসাধারণ ব্যাটিং ধারবাহিকতা ও বোলারদের উপর তার ব্যাটের নিয়ন্ত্রণ তাকে আরও একধাপ এগিয়ে ভিন্ন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তার সঙ্গে মুশফিকের উপযুক্ত সমর্থন আমাদের র‌্যাংকিংয়ে উপরে উঠে আসার যৌক্তিকতার স্বাক্ষর রেখেছে। তবে এর পূর্ণতা পেত যদি আমরা শেষ ১০ ওভার থেকে সর্বোচ্চ ফায়দা তুলে নেওয়ার ক্ষেত্র তৈরি করতে পারতাম। কিন্তু তার সদ্ব্যবহার করতে না পারায় ইনিংস শেষে অনুমান করা যাচ্ছিল বোর্ডে ৩০৫ রান দেখতে ভালো লাগলেও ম্যাচ জেতার জন্য এ উইকেটে যথেষ্ট নয়। তামিম ও মুশফিক জুটি এ রানের পৌঁছার অন্যতম রূপকার। তবে ইনিংস শেষে তারাই সবচেয়ে বেশি উপলব্ধি করেছেন, ম্যাচের শেষদিকে তাদের আরও কিছু দেওয়ার অন্যতম সুযোগটা হাত ফসকে গেছে।

দিনের শুরুতে একাদশ দেখে মনে হয়েছে এ ম্যাচে কি আমরা জিততে চাই? এত দুর্বল বোলিং কম্বিনেশন নিয়ে যত রানই করেন না কেন সেটা প্রতিহত করা কঠিন। ৮ ব্যাটসম্যানের উপর নির্ভরশীল দল তৈরি করা হতো বেশ আগে, যখন আমরা ম্যাচ জেতার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম না। বর্তমানের এ দলটির সক্ষমতার আলোকে দল গঠনে পেশাদারিত্বের চেয়ে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের একাদশ তৈরির গন্ধ পাচ্ছি, যেটা হাথুরুসিংহের আক্রমণাত্মক কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এই দলটিতে আমি তিন নম্বরে সাব্বির রহমানকেই দেখলে খুশি হতাম। ত্রিদেশীয় সিরিজে যে ছকে একাদশ সাজিয়েছে তার সঙ্গে ইমরুলের তিনে খেলা ও সাব্বিরের ছয়ে খেলা সম্পূর্ণ বেমানান। সাব্বিরকে কোচ ও ক্যাপ্টেন যখন ৩ নম্বরের জন্য উপযুক্ত মনে করছেন তখন সেখানে তাকে গড়ে তোলা ও ভালো করানোর কাজটি তাদের ‍উভয় পক্ষের জন্য প্রযোজ্য। সেখানে ভালো না করলে দ্রুত ভুল শুধরাতে হবে।

মাহমুদউল্লাহর মতো একজন খেলোয়াড়ের উপর কেন যেন দল আস্থা রাখতে পারছে না, বিষয়টা আমার বোধগম্য নয়। তার দক্ষতা ও যোগ্যতা বিবেচনায় আনলে, দলে তার ব্যাটিং ভূমিকা অনেকটা মিউজিক্যাল চেয়ারের মতো হয়ে যাচ্ছে। দলের প্রয়োজনে উপরে-নিচে ব্যাটিংয়ে সমন্বয় হতেই পারে যখন সেটা কারও সামর্থ্যকে অবমূল্যায়ন করা হয়। তবে তার ফলাফল বেশিরভাগ সময়ই সুখকর হয় না।

আমি বলব না, কাল ৭ ব্যাটসম্যান নিয়ে খেললে মেহেদী হাসান মিরাজ দলে আসতো এবং তাতে দল জিতে যেত। তবে সেরা কম্বিনেশন হতো, অপশন বাড়ত মাশরাফির। ভবিষ্যতে জাতীয় দলে দীর্ঘদিন খেলার সামর্থ্যবান এ ক্রিকেটার বড় এ টুর্নামেন্টের আসরে দলে অবদান রাখার ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগটা পেত। তাকে দলে দেখতে না পাওয়া ছিল ইংল্যান্ড দলের জন্য বড় চমক।

তামিম ও মুশফিক ব্যাটিংয়ে দারুণ নেতৃত্ব দিয়ে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিয়েছেন। এ রানকে ডিফেন্ড করতে হলে ঠিক তাদের মতোই বোলিংয়ে ভূমিকা রাখতে হতো মুস্তাফিজ ও সাকিবকে। ইংল্যান্ড তাদের ব্যাটিং কৌশলে যথেষ্ট সতর্ক ও রক্ষণাত্মক ছিল মুস্তাফিজের প্রথম ও দ্বিতীয় স্পেলে। প্রয়োজনীয় ব্রেকথ্রু দিতে না পারায় ও উইকেটে নতুন ব্যাটসম্যান আনতে না পারায় অ্যালেক্স হেলস ও জো রুটকে আমাদের বোলিং নিয়ে কখনোই বিচলিত মনে হয়নি। বরং মরগান ও রুট যে ঝড়ো গতিতে ম্যাচ শেষ করল, তাতে আগে ফিল্ডিং করলে শেষ ১০ ওভার বল করার জন্য মাশরাফি কার উপর আস্থা রাখবেন সেটা আবার নতুন করে ভাবতে হতো।

আরেকটি ব্যাপার হলো, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমরা ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে অনেক উন্নতমানের প্রযুক্তি ব্যবহার করছি। ফিল্ডিংয়েও তেমনটা হওয়া দরকার। ইয়ইন মরগানের বিরুদ্ধে যে ক্যাচটি তামিম দাবি করে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন সেটা আরও জুম করে দেখা যেত। ওই উইকেটটি গেলে ম্যাচ ভিন্নরকম হতে পারত।

বাংলাদেশের বিপক্ষে রান কম বা বেশি যাই হোক না কেন আমরা অনুমান করতে পারি কোন দুজন ব্যাটসম্যান উদ্বোধন করতে আসতে পারেন এবং তাদের বিশেষত্বের উপর আমরা আস্থা রাখি। কিন্তু নতুন বলে বল করার মতো তিনজন পেস বোলার আমাদের দলে থাকলেও কেউই সুনিশ্চিতভাবে বলতে পারি না, নতুন বল পেস বোলাররাই ভাগাভাগি করবেন। এই ইংল্যান্ডের মাটিতেও যদি তাদের সামর্থ্যের উপর আমরা আস্থা না রাখতে পারি, তখন এটা লজ্জার ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় পেস বোলিংয়ের নেতৃত্বে থাকা মাশরাফি, বোলিং কোচ তথা প্রধান কোচের জন্য।

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ