ফেভারিট না হওয়ায় বাংলাদেশের ওপর চাপ কম

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১৫:৫৬, জুন ০৫, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৩৬, আগস্ট ২৯, ২০১৭

.২০১৫ সালের বিশ্বকাপের মতো পুরো সময়টুকু না হলেও কিছু অংশের জন্য বৃষ্টি পিছু ছাড়ছে না এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে। সেই বৃষ্টি হয়তো হস্তক্ষেপ করতে পারে আজকের বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচেও। এ ধরনের ম্যাচে যারা ফেভারিট না তাদের ওপর চাপ কম থাকে। তবে আমাদের সাম্প্রতিক সাফল্যের কারণে ও বৃষ্টিতে এক পয়েন্ট যাওয়াতে অস্ট্রেলিয়া থাকবে অতি হিসাবি।

দলে ইমরুলকে না রেখে মেহেদী হাসান মিরাজকে আনা উচিত। যদিও এক সাইডে বাউন্ডারি অনেক ছোট ও ডানহাতি ব্যাটসম্যানের সংখ্যা আনুপাতিক হারে বেশি অস্ট্রেলিয়ার, তাই খুব কঠিন বিদ্যাপাঠ হবে সাহসী মিরাজের। এই একই জায়গায় আবহাওয়ার কারণে তাসকিনও একাদশের প্রার্থী হতে পারে। তবে ভারতের বিপক্ষে তার এলোমেলো বোলিং তাকে পিছিয়ে দেবে বলে আমার ধারণা।

ব্যাটিংই আমাদের শক্তি এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে ফর্মে থাকা তামিম-মুশফিকরা লম্বা সময় না দাঁড়ালে দুজন ব্যাটসম্যান ৫০ করে রান করলেও তা যথেষ্ট হবে না। সৌম্য বা সাব্বিরের কাছ থেকে তামিমের মতো দায়িত্বশীল ব্যাটিং দেখতে পাব কি না বলা মুশকিল।

যারাই এই টুর্নামেন্টে তিনশর বেশি রান করেছে তার সিংহভাগ করেছে প্রথম চার ব্যাটসম্যান। কাজেই দ্রুত উইকেট হারানো যাবে না। প্রথমে ব্যাট করার সুযোগ এলে তার সদ্ব্যবহারের উপর নির্ভর করবে এ ম্যাচের প্রতিদ্বন্দ্বিতার আমেজ। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের বোলিং তাদের সেরা ছন্দে নেই। সেক্ষেত্রে উচুমানের ফিল্ডিং ও আস্থাশীল ব্যাটিং দিতে পারে মাশরাফির বোলিং ইউনিটকে এই ম্যাচে লড়াই করার প্রেরণা।

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচের আগের দিন ক্রিকেট বিশ্বে রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ। তবে একজন দর্শক হিসেবে ভারত ও পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে আগের সেই আগ্রহ আমার মতো হয়তো অনেক ক্রিকেট ভক্তের কমে গেছে। তবে তাদের দেশের সমর্থকদের মধ্যে তা এখনও বিদ্যমান।

ভারতের সমর্থকদের ভাবনায় ছিল এ ম্যাচে কতখানি প্রভাব বিস্তার করে তাদের দেশ জিতবে, পক্ষান্তরে পাকিস্তানের সমর্থকরা গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা ক্রিকেট- এ কথার উপরই ভরসা করেছে।

বিশ্ব ক্রিকেটে নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করার মতো ব্যাটিং জিনিয়াস পাকিস্তানের দলে এই মুহূর্তে কাউকে রাখতে পারছি না এবং শোয়েব মালিক বা হাফিজরা তাদের সেরা সময়টাকে পেছনে ফেলে এসেছেন। সাদামাটা ফিল্ডিং ও পেস বোলিং এবং তরুণ স্পিনার শাদাব খানকে পুঁজি করে তারা উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারবে না তা বোঝা যাচ্ছিল।

তবে নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসনের মতো টস জিতে আগে ব্যাট করলে তাদের ব্যাটসম্যানরা হয়তো চাপমুক্ত ব্যাটিং করার সুযোগটা পেতেন। তাদের আনুপাতিক হারে শক্তিশালী বোলিংয়েরও একটা পরীক্ষা হতো। তবে দল হিসাবে ভারত এ মুহূর্তে অন্যতম সেরা একটি দল, সম্ভবত একদিনের ম্যাচে তাদের ইতিহাসের সেরা দল। যখন রিজার্ভ বেঞ্চে রবীচন্দ্রন অশ্বিন, মোহাম্মদ সামি, দিনেশ কার্তিক ও রাহানের মতো খেলোয়াড়দেরকে সেরা কম্বিনেশনের জন্য বসিয়ে রাখা হয় তখন তাদের সেরা দল বলাই যায়।

টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে নতুন বলে কোনও উইকেট তুলে নিতে না পারায় ভারতের ব্যাটসম্যানরা ম্যাচে পাকিস্তানকে আর ফেরত আসার মতো কোনও সুযোগ রাখেনি। এত নিম্নমানের ফিল্ডিং দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্তানের ভালো করা আগামীতে মুশকিল হবে। অপরদিকে ভারতের রবীন্দ্র জাদেজার পয়েন্ট অঞ্চলে দুর্দান্ত ফিল্ডিং ও রানআউট স্পেশালিস্ট হিসাবে অন্যতম সেরাদের সেরা। এই সময়কালের ব্যাটিং ও বোলিংয়ের দুর্দান্ত কম্বিণেমন, পেশাদারিত্ব ও পরিস্থিতির দাবি মেটানোর সক্ষমতা সমৃদ্ধ একটি দল এখন ভারত এবং এই সম্মিলিত সক্ষমতাই তাদের এই ট্রফি ছোঁয়ার প্রেরণা যোগাবে।

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ