যোগ্যতর দল হিসেবেই পাকিস্তান জিতেছে

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১৫:৫০, জুন ০৮, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৩৩, আগস্ট ২৯, ২০১৭

.পাকিস্তানের চমৎকার পরিকল্পনার কাছে কাল দক্ষিণ আফ্রিকা পরাস্ত হয়েছে। বলতে গেলে এই টুর্নামেন্টে সাহস করেই এই প্রথম দুই প্রান্ত থেকে এক নাগাড়ে লম্বা সময় বল করলো দুই স্পিনার ইমাদ ওয়াসিম ও মো. হাফিজ। দলনায়ক সরফরাজ আহমেদ দশ ওভার শেষ হওয়ার আগেই দুই প্রান্ত থেকে তাদের হাতে বল তুলে দিয়েছিলেন। এই দুই বোলারই আমলা, ডি কক ও এবি ডিভিলিয়ার্সের উইকেটগুলি ভাগ করে নিয়েছে।

পাকিস্তানের বোলিং বিভাগ শক্তিমত্তার দিক থেকে তাদের ব্যাটিংয়ের চেয়ে শ্রেয়তর। কাল প্রথম ম্যাচের চেয়ে তারা যথেষ্ট ভালো ফিল্ডিং দিয়ে ক্যাচ ধরায় দক্ষিণ আফ্রিকা দলের পক্ষে ম্যাচে ফিরে আসাটা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে দু প্লেসিস বা দুমিনিকে সঙ্গে নিয়ে মিলারের ব্যাটিংটা পুনরায় মেরামত শুরু করায় যে সুযোগটা এসেছিল তা কিন্তু পাকিস্তানের নতুন ও তরুণ পেস বোলার হাসান আলীর আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের কাছে শেষ পর্যন্ত মাথা নত করে।

দুমিনির ক্যাচটি বাবর আজম স্লিপে চমৎকারভাবে ধরেছিলেন এবং হাসান আলীকে রাউন্ড দ্য উইকেটে বল করার পরামর্শের কৃতিত্বটা কিন্তু দল নায়ক সরফরাজ আহমেদের প্রাপ্য।

ইমাদ ওয়াসিম ও হাসান আলীর বোলিং লাইন ছিল স্টাম্প বরাবর এবং বাকি বোলারদের চেয়ে অনেক বেশি নিখুঁত। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে মো. হাফিজকে দলনায়ক একটু বেশি ব্যবহার করে ফেলেছেন এবং দলের অন্য লেগ স্পিনার সাদাব খানকে তিনি কম ব্যবহার করে ফেলেছেন।

এবি ডি ভিলিয়ার্সের দ্রুত প্রস্থান ও ইনফর্ম ব্যাটসম্যান আমলার কাল উইকেটে দীর্ঘ সময় অবস্থানের অভাবকে অন্য প্রান্ত থেকে অন্য কোনও ব্যাটসম্যান পূরণ করতে না পারায় মিলারের পক্ষে দলের মোট সংগ্রহকে ২১৯ এর বেশি করার স্বাদ অপূর্ণই থেকে যায়। তবে মিলার কাল অত্যন্ত ভালো দায়িত্বশীল ইনিংসই খেলেছেন।

এখন পর্যন্ত এই টুর্নামেন্টে আলোচিত রাবাদা ও তার সঙ্গে পারনেল একদমই অনুজ্জল ছিলেন। এই ম্যাচে দ্রুত ব্রেক থ্রু যখন তাদের দল চাইছিল তখন পারনেল ছিলেন খরুচে বোলার এবং রাবাদা কিছুটা সমীহ আদায় করলেও উইকেট তুলে নিয়ে কাজের কাজটি করতে পারেননি। আহমেদ শেহজাদের জায়গায় ফখর জামান তার চমৎকার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দিয়ে দলের চাহিদা মিটিয়েছেন।

কালকের ম্যাচে আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃষ্টি ছিল প্রত্যাশিত ও সুনিশ্চিত বলা যায়। তাই ডিএল ম্যাথডে ম্যাচ জিততে হলে উইকেট তুলে নেওয়া ছিল অতি প্রয়োজন এবং পরবর্তী পর্যায়ে বৃষ্টির জন্য খেলা আর নাও হতে পারে সেই সম্ভাবনার কথা জানা থাকার পরও ইমরান তাহিরকে দলনায়ক সর্বোচ্চ ব্যবহার করলে মরনে মরকেলের এই একক প্রচেষ্টা সেভাবে বৃথা নাও যেতে পারতো।

এখন বলতেই পারি, এই ম্যাচে যোগ্যতর দল হিসেবেই পাকিস্তান জিতেছে । তাই এই গ্রুপের বাকি ম্যাচগুলির আকর্ষণ অনেক বেড়ে গেল।

/এফআইআর/

লাইভ

টপ