মনেপ্রাণে চাইছিলাম ইংল্যান্ড জিতুক

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১৫:৪১, জুন ১১, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:২৯, আগস্ট ২৯, ২০১৭

.অস্ট্রেলিয়াকে এই গ্রুপ থেকে কোয়ালিফাই করার জন্য এমন কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে- তা সম্ভবত তারা ভাবেনি। এমন পরিস্থিতিতে আগের সেই তেজী অস্ট্রেলিয়াকে খুঁজে পাইনি। টসের সময় অসি অধিনায়ককে যথেষ্ট চিন্তিত মনে হয়েছে এবং দল নিয়ে যথেষ্ট আস্থাশীলও মনে হয়নি। আইপিএল খেলার কারণে দল হিসাবে অস্ট্রেলিয়া গত কয়েক মাস একসঙ্গে খেলেনি এবং তাদের দুর্ভাগ্য যে দলকে সুসংগঠিত করার জন্য পাওয়া দুটি ম্যাচে পুরোপুরি খেলতে না পারার জন্য। এছাড়া নিজেদের দলের ধার বাড়ানোর জন্য পর্যাপ্ত সুযোগও তারা পায়নি। আইপিএল-এ অংশগ্রহণ করলেও দক্ষিণ আফ্রিকা বা ইংল্যান্ড তাদের খেলোয়াড়দের নিয়ে দ্বিপাক্ষিক ভাবে একদিনের তিনটি ম্যাচ খেলেছে। আর নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার অনেক খেলোয়াড়ই শেষ পর্যন্ত আইপিএলে অংশগ্রহণ করায় তাদের পক্ষে দ্বিপাক্ষিক কোনও সিরিজে মূল দল নিয়ে খেলা সম্ভব হয়নি যার চরম মূল্য অন্তত অস্ট্রেলিয়াকে দিতে হলো। এতে বাংলাদেশ সবচেয়ে লাভবান হয়েছে। কারণ এত বড় মাপের টুর্নামেন্টে সেমিফাইনালের ম্যাচ জেতার জন্য নিজেদের মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুতের সুযোগ তারা পেল।

কাল স্মিথ ও ফিঞ্চ রান পেলেও তাদের একজন যদি তিন অংকের দেখা পেতেন এবং পিচে আরও কিছুক্ষণ থাকতে পারতেন। তাহলে এই পিচ থেকেও অনায়াসে ৩০০ রান অতিক্রম করা মোটেই অসম্ভব ছিল না। বড় শটস খেলার জন্য প্রথমার্ধে পিচ যথেষ্ট সহায়ক না হলেও আনুপাতিকহারে এই ছোট মাঠেও ২টির বেশি ছক্কা অস্ট্রেলিয়া মারতে পারেনি। সেই সঙ্গে ফিঞ্চ, স্মিথ ও হেনরিকসের ৩০ গজের মাঝে ক্যাচ আউট হওয়াই বলে দিচ্ছিল- উইকেট প্রথম সেশনে মন্থরই ছিল। এমন উইকেটে ধাতস্থ হতে পারলে যে ফায়দাটা স্মিথ নিতে পারতেন তার সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। দলের লোয়ার অর্ডারে স্টার্ক ও কামিন্সের আদিল রশিদের এমন লুজ বলে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রতি দারুণ অবিচার করেছেন!

অনেকদিন পর অস্ট্রেলিয়ার শেষ সারির ব্যাটসম্যানদের এত নিচুমানের ব্যাটিং করতে দেখলাম। তবে জাত অস্ট্রেলিয়ানদের মতো একদিক থেকে লড়লেন তরুণ ট্রাভিস হেড, তার মাঝে এক সময়ের মাইকেল বেভান বা মাইক হাসির মতো ব্যাট করার সম্ভাবনা দেখতে পেলাম। তবে ইংল্যান্ডের মার্ক উড প্রথম দিকে এবং পরবর্তী পর্যায়ে আদিল রশিদ অস্ট্রেলিয়াকে কখনোই ছন্দে ব্যাট করতে দেয়নি। তার সঙ্গে অবশ্যই জেতা ম্যাচের চাপ কাল তাদের ভালোভাবেই স্পর্শ করেছিল; ডেভিড ওয়ার্নারের ব্যাটিং দেখে মনেই হয়নি যে এই খেলোয়াড়টিই আইপিএলে ১২০ বলের খেলায় কত সফল ছিলেন। কাল মনে হয়েছে, মিডউইকেট ছাড়া অন্য কোথাও তিনি শটস খেলা ভুলে গেছেন। ময়েসেস হেনরিকস যখন চার নম্বরে ব্যাট করেন, তখন তাদের ব্যাটিং গভীরতাও হয়েছে প্রশ্নের মুখোমুখি।

বোলিংয়ের শুরুতেই হেজেলউড ও স্টার্ক উইকেট তুলে অস্ট্রেলিয়াকে উজ্জীবিত করলেও তাদের এই মোমেন্টামকে বৃষ্টি নষ্ট করে দেয় এবং পুনরায় খেলা শুরু হলেও তাদের কোনও বোলারই উইকেট তুলে নেওয়ার মতো বল করতে পারেননি। হয়তো জাম্পাকে আরও আগে স্মিথ ডেকে আনতে পারতেন বোলিং আক্রমণে।

অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম সেরা ফিল্ডিং দল হলেও মরগান ও জশ বাটলারের ক্যাচ যদি যথাক্রমে উইকেটকিপার ও পয়েন্টে ম্যাক্সওয়েল নিতে পারতেন, তাহলে এই খেলার ফলাফল হয়ত ভিন্ন হলেও হতে পারতো। 

কবে বা কোন ম্যাচে এর আগে ইংল্যান্ডকে সমর্থন করেছি তা মনে করতে পারছি না। তবে কাল মনেপ্রাণে চাইছিলাম ওরা জিতুক। আমরা যদি এত বড় এবং নামি টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল খেলতে পারি, তাহলে ভবিষ্যতে আরও ভালো খেলে আরও বড় স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আমাদের খেলোয়াড়রা তাদের গড়তে আরও অনেক যত্নবান হবেন।

/এফআইআর/

লাইভ

টপ