নির্ভার নয় কোনও দলই

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২৩:২৬, আগস্ট ২৬, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:১৫, আগস্ট ২৯, ২০১৭

.শেষবার শ্রীলঙ্কা সফরে স্টিভেন স্মিথের দলের টেস্ট সিরিজে করুণ পরাজয়, অতি সম্প্রতি খেলোয়াড়দের সঙ্গে বোর্ডের বেতনভাতা নিয়ে মতবিরোধ মাঠ ও মাঠের বাইরে খেলোয়াড়দের ব্যাকফুটে নিয়ে গেছে। নিজেদেরকে এই টেস্ট সিরিজে চালকের আসনে ফেরত আনার বাড়তি চাপে আছে পুরো অস্ট্রেলিয়া দলটি।

দলের কেউই বাংলাদেশে ইতোপূর্বে কোনও টেস্ট খেলেনি। অল্প কয়েকজন খেলোয়াড়ের টেস্ট ম্যাচ খেলার গ্রহণযোগ্য অভিজ্ঞতা থাকলেও দলে এখনও রিকি পন্টিংদের মতো অভিজ্ঞ বা বড় তারকা নেই। সেই জায়গাটি একমাত্র স্মিথের পৌঁছানোর সম্ভাবনা হয়তো আছে। তবে বেশ কিছু সম্ভাবনাময় নতুন খেলোয়াড় দলে থাকলেও তারা দ্রুত টেস্ট পিচের বদলানো চরিত্রের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে ব্যাটে বলে অনাকাঙ্ক্ষিত দক্ষতা দেখাতে পারবে কি না, এই অনিশ্চয়তার চাপ স্মিথকে স্পর্শ করছে। এটা একপ্রকার নিশ্চিত।

অন্যদিকে সর্বশেষ টেস্ট সিরিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আমাদের নৈপুণ্য ও সফলতা অজিদের বিপক্ষেও বাংলাদেশের সামর্থ্যের সেরাটা নিয়ে লড়াইয়ের সুস্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, যেটা স্মিথদের অস্বস্তির মাঝেই রেখেছে।

মুমিনুলকে ছাড়া বাংলাদেশ দল ঘোষণা করে নির্বাচক ও প্রধান কোচ সর্বমহলের চাপের মুখে পড়েন। তারপর বিসিবি সভাপতির হস্তক্ষেপে মুমিনুলের অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়াটি দৃষ্টান্ত হিসেবে ভালো লাগেনি। এতে মুমিনুল, কোচ ও নির্বাচক সবাই বিব্রত হয়েছেন। ভালো কোনও খেলোয়াড় কোনও ব্যক্তি বিশেষের কৃপায় দলে আসতে কখনোই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না, যখন তিনি জানেন তার সামর্থ্যের উপর দলের কাণ্ডারিদের যথেষ্ট ভরসা নেই। টেস্ট ম্যাচের টেম্পারামেন্ট এর বাড়তি খেতাব দিয়ে মুমিনুলকে একদিনের ম্যাচ থেকে সরিয়ে দেওয়া হাথুরুসিংহে তার একদিনের ম্যাচের ব্যাটসম্যানদের উপরই ভরসা করেছেন। এছাড়া ঘরের ম্যাচে দ্বিতীয় উইকেট কিপারকে নিয়ে আগামীতে মুশফিককে কিপিং গ্লাভসে আর দেখতে তেমন আগ্রহী নন এমন বার্তা তিনি দিলেন সম্ভবত।

দলের প্রথম আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় মুমিনুল নেই। অথচ টেস্ট ম্যাচটাকে যিনি একদিনের মতো করে খেলতে চান সেই সাব্বির রহমানকে মুমিনুলের চেয়ে এগিয়ে রেখে একজন টেস্ট ব্যাটসম্যানের যোগ্যতার মাপকাঠি নিরূপনের কৌশলে কী কী বিষয় কোচ যোগ করলেন তা জানতে ইচ্ছা করে। আমার ধারণা দলে রেখে মুমিনুলকে না খেলানোর ঝুঁকির চেয়ে তিনি আগেই তাকে ছেটে ফেলে প্রতিক্রিয়া পরখ করতে চেয়েছেন। আরেকটি কারণ হলো টেস্ট ম্যাচ চলার সময় যেন বাড়তি হৈচৈ অন্য খেলোয়াড়দের মনোযোগে ব্যাঘাত না ঘটায়। মুমিনুলের ফেরত আসা এবং তাকে একাদশে রাখা বা না রাখা নিয়ে আবারও চাপে থাকবেন টিম ম্যানেজমেন্ট। ঠিক তেমনি সুযোগ পেলে তার সদ্ব্যবহারের বাড়তি চাপ থাকছে মুমিনুলেরও।

বর্তমানে মোসাদ্দেক সৈকতের অবস্থা জেনে মনে হয়েছে নির্বাচকদের সঙ্গে তার চোখের অসুখের সঠিক অবস্থা যথার্থভাবে উপস্থাপন করা হয়নি এবং দল ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে বাদ দেওয়া সবাইকে বিস্মিত করেছে।

১১ বছর পর এই সফর ইঙ্গিত বহন করে, পরের ৪ বা ৫ বছর অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দেশে আমাদের আর টেস্ট খেলার সুযোগ হবে কি না। যদি তাই ঘটে, তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দলগত সফলতার অংশীদার হওয়ার জন্য নিজের সামর্থ্যের সেরাটা দেওয়ার সুযোগ এই টেস্টে অংশ নেওয়া সিনিয়র খেলোয়াড়দের।

সর্বোপরি ইংল্যান্ডের সঙ্গে আমাদের সফলতা এখন অজিদের বিপক্ষেও ঘটানোর যে স্বপ্ন সবাই দেখছে, সেটা নিঃশব্দে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের অবচেতন মনেও একটা চাপ তৈরি করে চলেছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে এই ম্যাচ চলার ছন্দে বিঘ্ন ঘটাবে। অনুশীলন ম্যাচ খেলতে না পারাটা অস্ট্রেলিয়াকে অস্বস্তিতে রাখবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ দলের একাদশ নির্বাচন এবং বোলিং আক্রমণের কৌশল নির্ধারণ ও তার যথার্থতা প্রমাণের এক চাপ নিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট সিরিজ।

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ