টস জয়ই এগিয়ে দিলো বাংলাদেশকে

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ০১:৪৫, আগস্ট ২৮, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:১৪, আগস্ট ২৯, ২০১৭

গাজী আশরাফ হোসেন লিপুপ্রথম দিনে মাঠের লড়াইয়ে বাংলাদেশের অনেক অর্জন থাকলেও সেরা সাফল্যটা ছিল সকালে মুশফিকের টস জেতা। দিনের প্রথম ৪ ওভারে ৩ উইকেট হারালেও প্রথম দিনের শেষে পিচের আচরণের দিকে তাকালে বোঝা যায়, টস জয়ই শেষে এসে বাংলাদেশকে এক অসাধারণ মুহূর্ত দিয়েছে।

টেস্ট ম্যাচে একজন ব্যাটসম্যান তার বল ছাড়ার কুশলতা, নিজের উইকেটকে আগলে রাখার জন্য দৃঢ় আত্মরক্ষার কৌশল ও শট বাছাইয়ে তার পারদর্শিতা দেখানোর একটা বড় সুযোগ পায়, যেটা তাকে পরিণত টেস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবে স্বীকৃতি এনে দেয়।

আজ দিনের শুরুতে বাংলাদেশের তিন ব্যাটসম্যান তাদের প্রয়োগে মোটেই নামের সুবিচার করতে পারেনি। কেউ নিজেকে টেস্টের উপযুক্ত হিসেবে গড়ে তোলার আগে জোর করে দলে অন্তর্ভুক্তির দায় নির্বাচক প্যানেলের উপরও বর্তায়।

তিনজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে বল করার পর চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসাবে আসা ডানহাতি সাব্বিরকে প্রথম বলটিই সঠিক লাইনে করে উইকেট নিয়ে প্যাট কামিন্স অনন্য বোলিংয়ের নিদর্শন রাখেন।

যে কোনও ব্যাটিং বিপর্যয়ের মাঝেও সাকিব তার নিজের মতো করে নির্ভার ব্যাটিং করতে পারেন বলেই উদ্ভুত চাপটা প্রতিপক্ষকে ফিরিয়ে দিতে পারেন। তামিম তার আত্মরক্ষার ভিতটি অনুশীলনের মাঝে কতটুকু মজবুত করেছেন তা তিনি দেখিয়েছেন ১৫৫ রানের জুটি থেকে। নাথান লিওনের স্পিনের বিপক্ষে তার আত্মবিশ্বাসী পায়ের ব্যবহার ছিল যথেষ্ট দৃষ্টিনন্দন। সাইড স্ট্রোক বাদ দিলে উইকেটের সামনে থেকে মাটি কামড়ানো শটের মাধ্যমে সাকিবের রান সংগ্রহ তাকে সচরাচর ব্যাটিং থেকে অনেক এগিয়ে রেখেছে।

খেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পিচের আচরণ ক্রমান্বয়ে বাজে হয়েছে। স্পিনে অস্বাভাবিক বাউন্স ব্যাটসম্যানদের আত্মবিশ্বাসে চিঁড় ধরিয়েছে। উইকেট কিপারের গ্লাভসকে ফাঁকি দিয়ে ১৫ রান বাই হিসাবে এসেছে, এটা অকল্পনীয়। তবে মন্দের ভালো সময়ে তামিম ও সাকিব দ্রুত কিছু রান করে দলের অবস্থা সুসংহত করেছে।

শুরুর মতো আমরা শেষ ৪টি উইকেট দ্রুত হারাই। তবে বল পুরানো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাউন্স কমতে থাকাটা এই টেস্টে এলবিডাব্লিউর সংখ্যা যে অনেক বাড়াবে সেটা প্রায় নিশ্চিত।

চাপের মুখে ইতোপূর্বে অনেক পড়েছে অজিরা। কিছু ক্ষেত্রে সফলতার সঙ্গে ম্যাচে ফেরত এসেছে। তবে এই পিচের আচরণের কারণে বাংলাদেশের করা ২৬০ রান তাদের চেপে ধরেছে। পিচের এই আচরণের অনেক সমালোচনা শুরু হবে, কেননা প্রথম দিনে এমন ব্যবহার ভারত ছাড়া অন্য কোথাও নিকট অতীতে দেখিনি।

তবে কোনও একটি সেশনে যদি পিচ ভালো ব্যবহার করে, তবে অজিরা যে তার ফায়দা তুলে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করবে কোনও সন্দেহ নেই। এটা হবে এই পিচে নিজেদের মানিয়ে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার এক নতুন যুদ্ধ। আর উইকেটের বাড়তি সুবিধা কাজে লাগিয়ে দ্রুত অজিদের অলআউট করাই এখন হবে বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য।

অস্ট্রেলিয়া পেস ও স্পিনের সমন্বয়ে বোলিং আক্রমণ রচনা করলেও দ্বিতীয় দিন তাদের ব্যাটসম্যানদের বড় সময় ধরেই স্পিন সামাল দিতে হবে। আর এই পিচে মোস্তাফিজের পুরানো রূপে জ্বলে ওঠার অপেক্ষায় অনেকের মতো আমিও থাকব। দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ৯ ওভারে ১৮/৩; এমন পরিস্থিতিতে মানসিক চাপটা নিয়ন্ত্রণ করে দ্বিতীয় দিন আক্রমণাত্মক ব্যাট করাটাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে তারা।

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ