তামিমের কাছে অনেক কিছু শেখার আছে সৌম্য-নাসিরদের

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ০১:৫৪, আগস্ট ৩০, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:৫৪, আগস্ট ৩০, ২০১৭

.এই টেস্ট ম্যাচে তামিম অসাধারণ ব্যাটিং করলেন। তার লড়াইটা ছিল বোলিং সহায়ক উইকেটের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে প্রতিপক্ষের ধারালো বোলিংয়ের মোকাবিলা করা। এই টেস্টের তিনদিনই তিনি ব্যাট করেছেন। নতুন ও পুরানো বলে সিমার ও স্পিনারদের বিভিন্ন সেশনে প্রতিহত ও আক্রমণ করেছেন পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে। দ্বিতীয় ইনিংসে একসময় মনে হচ্ছিল তার দৃঢ়তার কাছেই অস্ট্রেলিয়ার পুরো বোলিং শক্তি সম্পূর্ণ পরাস্ত হতে যাচ্ছে। কিন্তু ঠিক তখনই প্যাট কামিন্স অসাধারণ একটি বলে তামিমকে আউট করলেন এবং ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার ফেরত আসার আশায় প্রদীপ জ্বললো।

এই টেস্ট ম্যাচে তিন দিনের মধ্যে যতগুলো উইকেট পড়েছে, তার সেরা ডেলিভারিটি ছিল তামিমকে আউট করা বলটি। স্পিন সহায়ক উইকেটে এ টেস্টের সবচেয়ে বেশি রান করা আত্মবিশ্বাসী ব্যাটসম্যানকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠালেন একজন পেসার। সময় উপযোগী বোলিং পাল্টানোর জন্য কৃতিত্ব পেতে পারেন অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথও।

তামিমের এই সফলতার পেছনে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে অনুশীলনে নিজেকে প্রস্তুত করা। একই সঙ্গে মনোসংযোগের প্রশংসনীয় উন্নতি ও উচ্চাভিলাষী শট খেলা থেকে নিজেকে বিরত করে টেস্ট ফরম্যাটের চাহিদা মোতাবেক নিজেকে মেলে ধরার ব্যাপারটিও তাকে সফল করেছে।

আমার বিশ্বাস মারকুটে এই সফল ব্যাটসম্যানের ব্যাটিং মানসিকতা থেকে সৌম্য, সাব্বির, নাসিরদের অনেক কিছু শেখার আছে। এটা থেকে তাদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ আছে। ব্যাটিং কৌশলের উন্নয়নে প্রধান কোচের ভূমিকা ও নজরদারি ভবিষ্যতে আরও অনেক ধারালো হবে বলে আশা করি।

এই টেস্ট ম্যাচে প্রথম ইনিংসে এগিয়ে যাওয়ার পেছনে অন্যতম মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন সাকিব। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে আউট হওয়ার ধরনটি তার পরিশ্রমকে কিছুটা ম্লান করে দিয়েছে। তবে বল হাতে তার এই ম্যাচে ফেরত আসার ব্যাপারে দারুণ সুযোগ এখনও আছে। তবে স্লিপে ও ব্যাটসম্যানের কাছাকাছি জায়গায় দাঁড়ানো ফিল্ডাররা ক্যাচ ধরতে না পারলে স্পিনারদের তেমন কিছু করার সুযোগ থাকবে না। আগামীকাল (বুধবার) প্রথম সেশনের প্রথম ৯০ মিনিট অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ফেরত আসার। নইলে অসিরা ব্যাটিংয়ে আমাদের মতো ভুল করবে না।

ক্রিকেট ভাগ্য বলে একটি কথা আছে। সেটা না হলে যে ক্ষিপ্রতা নিয়ে মুশফিক কিপিং করেন, তার কোনও চিহ্ন ছিল না ব্যাটিং ক্রিজে ফেরত আসার ব্যাপারে। তার রান আউট ছিল টেস্ট ফরম্যাট ও পরিস্থিতির আলোকে হৃদয় বিদারক। তবে ব্যাটিং অর্ডারে উপরে উঠে এসে তার ব্যাট করার ভালো সিদ্ধান্তটি পূর্ণতা পেলো না।

নাসিরের জন্য দ্বিতীয় ইনিংসে একটা বড় সুযোগ ছিল নিজের জায়গাকে সুসংহত করার এবং দলকে আরও ভালো অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার। এতদিন বাইরে অপেক্ষা করার পর উদ্ভুত পরিস্থিতি বিবেচনায় না এনে যেভাবে ব্যাট চালিয়ে আউট হলেন সেটা তার নিজের জন্য তো বটেই, দলের ও তার সমর্থকদের জন্য খুবই হতাশাজনক। তিনি আউট হয়ে গেছেন বলে যতটা না দুঃখ, এর চেয়ে বেশি কষ্টের ব্যাপার হলো ওই মুহূর্তে টেস্ট ম্যাচে কেউ একদিনের শট তার কাছে দেখতে চায়নি বলে।

নিজের ব্যাটিং ক্ষমতার চেয়ে সাব্বির এই টেস্টে আলোচিত থাকবেন রিভিউ নিয়ে ও না নিয়ে। রিভিউ নেওয়ার ব্যাপারে সহযোগিতার জন্য নন স্ট্রাইকিং এন্ডের খেলোয়াড়দের ভূমিকা তড়িৎ উন্নয়ন পরের টেস্টে দেখতে চাই।

অতি উত্তেজনার কারণে মিরাজ ও ­তাইজুল যেন বেশি জোরে বল না করেন এবং দ্রুত সফল হন এই প্রত্যাশাই থাকলো। সাকিব তার স্নায়ুচাপকে নিয়ন্ত্রণ করে কাল (বুধবার) বোলিং সফলতায় নেতৃত্ব দেবেন বলে আশা রাখি। চতুর্থ দিন প্রথম ৯০ মিনিট উভয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।   

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ