মুশফিকের কাছে সেঞ্চুরির প্রত্যাশা

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২২:১৭, সেপ্টেম্বর ০৪, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৩০, সেপ্টেম্বর ০৪, ২০১৭

.টেস্ট সিরিজ ২-০ তে জেতার এক বিশাল প্রত্যাশার চাপ বাংলাদেশের মাথায়। এমন অবস্থায় প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যাটিংয়ের বড় একটা সুযোগ কাজে লাগানোর আশা নিয়ে দিন শুরু করেছে বাংলাদেশ।

এক সিমার নিয়ে খেলার সিদ্ধান্তে সহজেই একাদশে জায়গা পেয়েছেন মুমিনুল হক। কিন্তু নিজেদের জায়গা পাকা করার সুযোগের সদ্ব্যবহারের বাড়তি একটা তাগাদা ছিল সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস ও মুমিনুলের মাঝে।

চট্টগ্রামের স্লো ও লো বাউন্সের উইকেটে সাবলীলভাবে শট খেলা দিনের শুরুতে একটু কষ্টসাধ্য হয়েছিল। তবে ঢাকার মতো অস্বাভাবিক বাউন্স ও হঠাৎ হঠাৎ টার্ন না থাকায় ব্যাট করা বেশ সহজ ছিল। নিজের জায়গাটা পাকা করার জন্য সৌম্য টেস্ট মেজাজে ব্যাট করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। বড় একটা ইনিংস গড়ার ভিত তৈরি করেও শেষ রক্ষা করতে পারেননি। লাঞ্চের ঠিক আগে একটি ডেলিভারিতে ব্যাট বলের লড়াইয়ে নাথান লিওনের জয় হয়েছে।

ইমরুল যেসব ইনিংসে সুযোগ পেয়েছেন, তার অনেকগুলোতেই স্টাম্পের বল সুইপ করে ব্যর্থ হয়েছেন। এবারও তার প্রতি নির্বাচকদের অগাধ আস্থার প্রতিদান দিতে পারলেন না।

সবচেয়ে আলোচিত মুমিনুল। কয়েকটি আলগা শট খেলে দীর্ঘক্ষণ উইকেটে টিকে থাকলেন। কিন্তু তার নিজের ও দলের জন্য ইনিংস বড় করার সুবর্ণ সুযোগটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলেন তিনিও। স্পিনাররা তেমন কোনও টার্নই পায়নি। তবে লিওন অসাধারণ নৈপুণ্যে যে অ্যাঙ্গেলের সৃষ্টি করেছেন, সেই ফাঁদেই অতিরিক্ত ব্যাকফুটে খেলে মুমিনুল ধরাশায়ী হলেন।

প্রথম চার উইকেট লিওন তার মেধা ও চতুরতার সঙ্গে এলবিডাব্লিউ করে নিতে পেরেছেন। এ সফলতার ক্ষেত্রে তার নিখুঁত লাইন ও জোরের উপর বল করার দক্ষতাকে আরও ধারালো করেছে পিচের লো বাউন্স।

তামিম ইকবালের দ্রুত আউটের কারণে দুই প্রান্ত থেকেই আমরা উইকেট হারিয়েছি। প্রাথমিক পর্যায়ে সাকিব তার ব্যাটিংয়ে যদি আরেকটু যত্নবান হতেন, তাহলে তার নামের পাশে আরও অনেক রান জমা পড়তো। এই ইনিংসে তার আউটের ধরনটি কিন্তু সেটাই বলে দেয়।

তবে প্রতিপক্ষের ওপর যথাযথ সময় কাউন্টার অ্যাটাক করেছেন সাব্বির রহমান। টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একদিনের স্টাইলে ব্যাট করার দায়িত্ব তিনি পেয়েছিলেন ঢাকা টেস্টে। এবার পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয় টেস্টে তিনি তার দ্বিগুণ প্রতিদান  দিয়েছেন দল ও ম্যানেজমেন্টকে। মূলত তার ও মুশফিকের ওই জুটি এ ম্যাচে বাংলাদেশকে এখনও লড়াই করার মতো অবস্থানে রেখেছে।

টিভি আম্পায়ারের কাছে যাওয়ার পরও সাব্বিরের আউটের সিদ্ধান্তটি কিছুটা বিতর্কিত রয়ে গেল। বিসিবির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত হবে, যারা সম্প্রসারণের দায়িত্ব পেয়েছেন তাদের সঙ্গে বসে ভালো মানের প্রোডাকশন হাউস নির্ধারণ করা। যেন দক্ষ জনবল ও উন্নতমানের প্রয়োজনীয় ক্যামেরা তারা সঠিক স্থানে বসান। এতে করে রান আউট, স্টাম্পিংসহ যে কোনও জায়গায় প্রয়োজন অনুযায়ী জুমিং করে চাহিদা মোতাবেক টিভি আম্পায়াররা প্রযুক্তির সেরা সদ্ব্যবহার পেতে পারে।

কাল সকালের সেশনটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের জন্য। মুশফিক যেন নাসির ও মিরাজকে নিয়ে ব্যাট করতে পারেন দীর্ঘ সময়। প্রথম দিনের ‘ক্যাপ্টেনস নক’ যেন শতরানের দেখা পায় এই প্রত্যাশা থাকবে।

এই পিচের আচরণের দ্রুত অবনতি ঘটবে বলে আমার মনে হয় না। অস্ট্রেলিয়া যদি দ্বিতীয় দিনের একটা বড় সময় নিয়ে ব্যাট করে, তবে আমার ধারণা বেশ ভালো একটা ব্যাটিং সহায়ক পিচে তারা ব্যাট করতে যাচ্ছে। প্রথম ইনিংসে লিড নেওয়াটা থাকবে অসিদের লক্ষ্য। কারণ চতুর্থ ইনিংস যে তাদের ব্যাট করতে হবে। আর তাদের ব্যাটসম্যানদের রুখতে হলে লিওনের মতো আমাদের কোনও স্পিনারকে বাড়তি সফলতা বয়ে আনতে হবে।

পিচের চরিত্রের আলোকে স্পিনাররা বাংলাদেশের বোলিংয়ের মূল ভরসা। তবে মোস্তাফিজের সংযোজন বলে দেয়, দল তার জ্বলে ওঠার অপেক্ষায় আছে। বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে তিনি তার বোলিংয়ের বিশেষত্ব নিয়ে ফিরে পাক হারানো ছন্দ ও আত্মবিশ্বাস। দলের বোলিং শক্তি পূর্ণতা পাবে তার স্বরূপে ফেরার মাধ্যমে।

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ