পিচ নয়, নিজেদের মেধার ওপর আস্থা রাখতে হবে

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২২:১০, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:২৬, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০১৭

.দ্বিতীয় দিনের প্রথম ও শেষ সেশনটা বড় বেশি নিজের করে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এই টেস্টে ফিরে আসার লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়া কতখানি এগিয়ে যাবে, সেটা তৃতীয় দিনের ৯০ ওভার খেলার পর বোঝা যাবে। আমার প্রত্যাশা ছিল মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে বড় একটা জুটি প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ পাবে, দলীয় রান ৩৫০ ছাড়িয়ে যাবে। স্কোরকার্ডের দিকে তাকালে বোঝা যায় অনেক বড় ইনিংসের সম্ভাবনা জাগিয়ে আমাদের অন্তত পাঁচজন ব্যাটসম্যান আউট হয়ে গেছেন। তবে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থ করার পেছনে একটা বড় কৃতিত্ব দিতে হয় অসি স্পিনারদের, বিশেষ করে উইকেট তুলে নেওয়ার সক্ষমতাসম্পন্ন নাথান লিওনের নিখুঁত ও কুশলী বোলিংকে।

দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা সম্ভবত ৫ থেকে ৬টি বলের আকস্মিক টার্ন ও বাউন্সে বিব্রতবোধ করেছেন। ঠিক একইভাবে তাইজুলের নিচু হয়ে দ্রুত বাঁক নেওয়া বলে ডেভিড ওয়ার্নার তার কুশলতায় রক্ষা পেয়েছেন। দুই দিনের খেলা শেষে দুই দলের মাত্র ১২ উইকেট (একটি রান আউট) হারানো বলে দেয়, স্পিনারদের ভালোভাবে বুঝে খেলতে পারা দলের সফলতার পাল্লা ভারি হবে। দ্বিতীয় ইনিংসের আগে পিচ স্পিনারদের তেমন কোনও সাহায্য করবে বলে মনে হয় না।

কাল বাংলাদেশের বোলারদের জন্য প্রথম সেশনে দুটি সুযোগ থাকছে। একটি হলো, পুরোনো বলে ব্যাটসম্যানরা থিতু হওয়ার আগে তাদের জুটি ভাঙা। অন্যটি হলো, ১ ঘণ্টা পরে যে দ্বিতীয় নতুন বল পাবে তার যথার্থ ব্যবহারে অন্তত তিনটি উইকেট তুলে নেওয়া।

ঠিক একইভাবে অস্ট্রেলিয়া চাইবে এই টেস্টের প্রথম ইনিংসকে যতটা লম্বা করা যায়। অন্তত দুজন ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরিসহ ১৫০ রানের উপরে লিডের একটা স্বপ্ন তারা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে। চতুর্থ ইনিংসে বিশাল রান তাড়ার বোঝা তারা মোটেই নিতে চাইবে না।

ম্যাট রেনশর উইকেটটি নিয়ে চমৎকার সূচনা এনে দিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু সেটার চেয়ে তার বলে মুশফিকের ওই অসাধারণ ক্যাচটির কথা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই পিচে পেস বোলারদের জন্য তেমন কিছুই নেই। তবে এই ধরনের পিচ থেকেও কীভাবে সুযোগে তৈরি করা যায়, এই প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও সে চেষ্টা তাকে চালিয়ে যেতে হবে।

এই ম্যাচে লিওন যে বলে সৌম্যকে আউট করেছেন, সেই ইনিংসে সেটাই আমার কাছে সেরা বল মনে হয়েছে। আর এখন পর্যন্ত স্টিভেন স্মিথকে আউট করা তাইজুলের বলকে আমার ‘বিউটি অব আ ডেলিভারি’ মনে হয়েছে।

নাসির পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে যথেষ্ট ভালো নয়, এমন একটি অপব্যাখ্যা শুনি তার দলে জায়গা না পাওয়ার পেছনে। যদিও এই পিচ স্লো ও লো বাউন্সের, তবে দ্বিতীয় নতুন বলকে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে সামাল দিয়েছেন। ঢাকা টেস্টের মতো একই শট খেলতে গিয়ে তিনি চট্টগ্রামেও আউট হয়েছেন। দলে দীর্ঘদিন পর সুযোগ পেয়েছিলেন। উইকেটে দীর্ঘক্ষণ সময় কাটানোর পর দীর্ঘদিন ব্যাট করতে না পারার অতৃপ্তি মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে তিনি উপভোগ করার সুযোগ হাতছাড়া করলেন। অফস্টাম্পের কাছের বল কাট করার চেয়ে অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সেটা ছেড়ে দেওয়া ভালো ছিল।

দ্বিতীয় দিন শেষে মুশফিক অন্তত চারটি উইকেটের পতন দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেটা হলো না। বরং লম্বা জুটি ভাঙার জন্য সংগ্রামে লিপ্ত তার দল। তবে মুমিনুল যথাসময়ে ক্যাচটি ধরতে পারলে ৪ উইকেট তুলে নেওয়ার প্রত্যাশা পূরণ হতেও পারতো।

এই ম্যাচে দ্রুত জুটি না ভাঙতে পারলে মুশফিককে হয়তো ডিফেন্সিভ ফিল্ড প্লেসিংয়ে যেতে হতে পারে। ক্লোজ ইন ফিল্ডসম্যানের চাপ ব্যাটসম্যানের ওপর না থাকলে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাট করবেন এবং স্পিন বোলারদের ধারও কমে যাবে তাতে। তবে কেন যেন মনে হচ্ছে এই টেস্টে তাইজুল সফলতার দিক থেকে এগিয়ে থাকবেন। মিরাজ ও সাকিব তাদের মেধার সেরাটা দিতে না পারলে অনেক চাপের মুখে পড়তে হবে আমাদের দ্বিতীয় ইনিংসে। ম্যাচে ফিরতে হলে তৃতীয় দিনে কুশলী বোলিং ও ভালো ক্যাচিংয়ের বিকল্প নেই। পিচের সহায়তার চেয়ে নিজেদের মেধার ওপর আস্থা রাখতে হবে।

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ