জিততে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে বাংলাদেশকে

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২২:২৯, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:২৯, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৭

.দারুণ আকর্ষণীয় হয়ে গেল চট্টগ্রাম টেস্টও। প্রায় নিশ্চিতভাবে হাতের বাইরে চলে যেতে বসেছিল এই ম্যাচ। কিন্তু দিনের শেষ ১১ ওভারে অসিদের চার উইকেট তুলে নিয়ে আবারও লড়াইয়ে ফেরত আসার একটা সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ।

এখন ৭২ রানের লিড পেয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া। এরইমধ্যে সেটা যথেষ্ট দুশ্চিন্তায় ফেলেছে মুশফিকদের। প্রথম দুইদিনে ১৮০ ওভারে পড়েছে ১২ উইকেট, কিন্তু আজ ৫৪ ওভারে ৭ উইকেট পড়ে গেল। এটা বার্তা দিচ্ছে, এই উইকেটে টিকে থাকা ও বড় রান করাটা আস্তে আস্তে কঠিন হয়ে পড়বে।

টেস্টে নবীন মুখ হিলটন কার্টরাইট এত বাইরের বল খেলার চেষ্টা করে স্লিপে ক্যাচ দিলেন। তিনি কতখানি নার্ভাস ছিলেন এবং বলের লাইন বিচারের ক্ষমতা সেই সময়ে কতখানি লোপ পেয়েছিল তার, সেটা বোঝা গেল। এভাবেই এই উপমহাদেশীয় পিচে খেলার কঠিন অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়। যে ব্যাটসম্যান অন্যের ভুল থেকে শিখতে পারে, তাকে ড্রেসিংরুম থেকে অন্যের খেলা অনেক কম দেখতে হয়।

দ্বিতীয় দিন শেষে আমার ধারণা ছিল, দুজন ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরিতে অসিরা ১৫০ রানের লিড নিতে পারে। খেলার মাঝ পর্যায়ে সেই লক্ষ্যেই তারা এগোচ্ছিল। তবে পিচের আচরণ ও স্পিনারদের অসাধারণ বোলিংয়ে আমরা দারুণভাবে খেলায় ফিরেছি। তবে তার আগে বল হাতে এই মন্থর উইকেটে মোস্তাফিজের লড়াই এবং সফলতা ছিল বাংলাদেশের বোলিংয়ের প্রেরণা উৎস। বিশেষ করে ওয়ার্নারকে চমকে দেওয়া দৃষ্টিনন্দন ও কার্যকর বাউন্সারটিকে আমি তার শৈল্পিক রিভার্স সুইংয়ে নেওয়া ম্যাথু ওয়েডের ডেলিভারির চেয়েও এগিয়ে রাখব।

তবে দিনের শুরুতে বাঁহাতে সাকিব তৎপর থ্রোতে ও দিনের শেষে ফুটমার্কের থেকে বাড়তি স্পিন করিয়ে অ্যাগারকে আউট করার মাধ্যমে সবার নজর কেড়েছেন ফিল্ডিংয়ে। দিন শেষে পুরো দলে যদি বড় কোনও আক্ষেপ থাকে, সেটা ছিল দুর্বল ক্যাচিংয়ের জন্য। ওয়ার্নারকে যথসময়ে দ্বিতীয় দিন ফেরত পাঠাতে পারলে হয়তো প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ লিডই পেতে পারতো।

তৃতীয় দিনের শেষ উইকেটের আচরণ বলে দিচ্ছে বোলারদের ফুটমার্কের ক্ষত থেকে অ্যাগার ও ও’কিফ আমাদের বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে যথেষ্ট মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবেন। তার সঙ্গে নাথান লিওনের উইকেটের নেশা একটা বড় হুমকি হবে আমাদের দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিংয়ে। আমার প্রত্যাশা থাকবে কাল দ্রুত বাংলাদেশ শেষ উইকেট তুলে নেবে। শেষ ইনিংসে যদি তারা অসিদের ২০০ রানের কাছাকাছি টার্গেট দিতে পারে, তবে জেতার জন্য লড়াই করার একটা বিরাট অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে শেষ ইনিংসে।

সব ব্যাটসম্যান উইকেটে নাও মানিয়ে নিতে পারেন। তবে যারা দীর্ঘসময় উইকেটে থাকার সুযোগ পাবেন, তারা যেন প্রথম ইনিংসের মতো ভুল না করেন। আর স্পিনের বিপক্ষে আমরা কতটুকু সাবলীল, সেই পরীক্ষা নেওয়ার জন্য তিন অসি স্পিনার মুখিয়ে থাকবেন।  

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ