এলোমেলো ব্যাটিংই সর্বনাশ করেছে বাংলাদেশের

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২২:৫৬, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৪৯, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০১৭

বড়দলগুলির একটা বড় গুণ হলো তারা পিচ ও কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে। তারপরও সিরিজ জেতার যে বিরাট স্বপ্ন বাংলাদেশ দেখেছিল সেটা ডেভিড ওয়ার্নার ও নাথান লিওন নামের দুই খেলোয়াড় ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছে। আর তাতেই দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচটি অনায়াসে জিতে সিরিজে সমতা বজায় রাখলো অস্ট্রেলিয়া।

দ্বিতীয় টেস্টটি একতরফা হওয়ার পেছনে ছিল ‍আমাদের দুর্বল ব্যাটিং। সঙ্গে স্পিনারদের সামর্থ্য অনুযায়ী বল করার ব্যর্থতা ও দ্বিতীয় ইনিংসের এলোমেলো ব্যাটিংই মূলত আমাদের সর্বনাশ করেছে।

স্পিন বিভাগ আমাদের শক্তিশালী ছিল বটে। তবে অসিদের স্পিনাররা ছিল ধারাবাহিকভাবে সফল। মোস্তাফিজ এই টেস্টে সফল না হলে হয়তো পরাজয়ের ব্যবধান আরও বড় হতো!

দ্বিতীয় দিনের শেষ ঘণ্টায় উইকেটের আচরণ দেখে আমাদের মনে যে সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছিল তার আলোকে কাল বলেছিলাম ২০০ রানের কাছাকাছি লিড হয়ত আমরা নিতে পারবো। তার সঙ্গে ছিল আমাদের ব্যাটসম্যানরা স্পিন কতটা ভালো সামাল দিতে পারে, যার পরীক্ষা তিন অসি স্পিনার দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্যই নেবে। মূলত আমাদের টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী লড়াই করেনি। ফলে চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনে আমরা ৫জন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ফেলি। অথচ লাঞ্চের পর পিচের আাচরণ বেশ ব্যাটিং সহায়ক হয়ে উঠেছিল। কৌশল হিসেবেই হয়ত তখন বামহাতি ব্যাটসম্যানের মিছিলে ছন্দপতন ঘটাতে চার নম্বরে ডান হাতি কাউকে পাঠানোর সিদ্ধান্তটি মন্দ ছিল না। তবে সেই জায়গায় নাসিরের পরিবর্তে দলনায়ক মুশফিকের ক্রিজে উপস্থিতির বড় প্রয়োজন ছিল। 

এছাড়া এই ম্যাচে ফিরে আসার লড়াইয়ে চাপের মাঝে থাকা নাসির ও মুমিনুলের জায়গা পরিবর্তন দুঃখজনক ছিল। দলে নিয়মিত সুযোগ পাওয়া স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের ওপর সবাই আস্থা বেশি রাখেন; দলীয় প্রয়োজনে তারাই বুক চিতিয়ে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিবেন। সেটাই সবাই আশা করে। সেক্ষেত্রে তোপের মুখে নাসিরকে পাঠানোর সিদ্ধান্তটা সুচিন্তিত মনে হয়নি।

অবশ্য দলের প্রথম সারির ব্যাটসম্যানদের আউটগুলি দেখে মনে হয়েছে তারা তাদের চ্যালেঞ্জের জন্য যথার্থভাবে লড়াই করেননি এবং মুশফিক-মুমিনুল সেট হওয়ার পর যে বলে আউট হলেন সেটাও নিজেদের সামর্থ্যের প্রতি একটা বড় অবিচার হয়ে গেল। শেষ অবধি ৮৫ রানের লিড হাতে নিয়ে লড়াই করার মতো কোনও মানসিক প্রেরণা দলের ছিল না। তবে এই টেস্টে মোস্তাফিজের ৫টি উইকেট পাওয়া ছিল তার নিজের এবং দলের হারানো সম্পদের একটা বড় অংশের পুনরূদ্ধার। একই সঙ্গে আনন্দ-উৎসবের লগ্ন।

দ্বিতীয় টেস্টে আমাদের সব বিভাগে খেলোয়াড়রা সেরাটা দিতে পেরেছে- দেখলে ভালো লাগতো। তবে এটা প্রায়ই ঘটে না। বড় দল হিসেবে অস্ট্রেলিয়াও পরিকল্পনা করেছে ম্যাচকে ঘিরে। সেই লক্ষ্যে দলের প্রথম একাদশে বোলিং আক্রমণে এনেছে স্মরণকালের বৈচিত্র্য। তবে এক কথায় নাথান লিওন ছিল বিজয়ের মূল কাণ্ডারি । তাকে যোগ্য সহযোগিতা করেছে অভিজ্ঞ ওয়ার্নার। উল্টো দিকে আমাদের আর স্পিন শক্তির ওপর নির্ভর করলেও একাই লড়েছেন মোস্তাফিজ। অবশ্য তামিম দলের ভালো সূচনা না দিলে এখনও ভুগতে হচ্ছে। কারণ আমাদের ব্যাটিং ভিত যথেষ্ট মজবুত নয়। তবে ৬/৭ নম্বরে সাব্বির নিজেকে ভবিষ্যতে আরও ভালোভাবে গড়তে পারবেন বলে একটা আভাস দিয়েছেন।

প্রকৃতপক্ষে ১-১ সমতা খুব ভালো একটা ফলাফল হয়েছে। ২-০ তে গেলে হয়ত রেকর্ডটি সমৃদ্ধ হত কিন্তু সেটা হলে ক্রিকেটের মেধার শক্তির একটা ভুল ধারণা হত! আমরা সার্বিকভাবে এখনও এত ভালো দল হয়ে গড়ে উঠিনি। এর জন্য অনেক পথচলা ও পরিশ্রম এখনও বাকি।

তবে সিরিজে ১-১ এ ফল এনে দেওয়ার জন্য হাথুরুসিংহের কৃতিত্ব আছে। তিনি একটা স্বল্পকালীন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ঘটিয়েছেন নির্বাচন প্রক্রিয়ায় চমকের মাধ্যমে। যদিও এক্ষেত্রে টেস্ট ম্যাচে ভালো করার জন্য টেস্ট ম্যাচ খেলার আলোকে দলকে তৈরি করতে হবে। দক্ষতার উন্নয়নে পরিশ্রম করতে হবে। কারণ স্বল্পকালীন পরিকল্পনার ভিত্তি সব সময়ই দুর্বল হয়।

/এফআইআর/

লাইভ

টপ